১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয়

চাহিদা ৭ লাখ, আমদানী করতে হয় ৬ লাখ টন: এ বছর উৎপাদন আরো কম

  • Sarakhon Report
  • ০৫:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫
  • 271

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ক্রমাগত কমছে মসুর চাষ ও উৎপাদন

দেশে মসুর ডালের চাষ ও উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে কমছে।
সরকারি তথ্যমতে, এই পতনের পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • চাষে লাভজনক না হওয়া
  • ঘনঘন রোগবালাইয়ের আক্রমণ
  • অনুকূল আবহাওয়ার অভাব

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানায়, গত পাঁচ বছরে দেশে মসুর চাষের জমি ৭৫,৭০০ হেক্টর কমে গেছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে মসুর উৎপাদন ছিল ২,৫৮,৫০০ টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেমে এসেছে মাত্র ১,৬৬,৩০০ টনে।

যেখানে দেশে বছরে ৭ লাখ টনের মতো মসুর ডালের চাহিদা রয়েছে, সেখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে খুব অল্প—ফলে প্রায় ৬ লাখ টন আমদানি করতে হচ্ছে।

কৃষকরা মসুর চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কেন?

১৫ জনের বেশি কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসুর চাষে তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে:

  • রোগবালাই ও খারাপ আবহাওয়া
  • অন্যান্য ফসলে তুলনামূলক বেশি লাভ
  • আগের বছরগুলোতে দাম কম পাওয়া

এ কারণে অনেক কৃষক এখন মসুরের বদলে পেঁয়াজ, ভুট্টা, গম ও কলা চাষে ঝুঁকছেন।

নড়াইলের কৃষক হাসান আলী আগে ৬ বিঘা জমিতে মসুর চাষ করতেন, কিন্তু ফলন কমে যাওয়ায় এবার করেছেন ৪ বিঘায়। তিনি বলছেন, এখন ভুট্টা চাষে বেশি লাভ হচ্ছে।

রাজবাড়ীর কৃষক মজিবর রহমান গত বছরের তুলনায় এবার কম জমিতে চাষ করেও ২৪ মণ মসুর পেয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন।

মসুরের দাম বেড়েছে:
এই মৌসুমে প্রতি মণ মসুর বিক্রি হচ্ছে ৩,৪০০–৩,৬০০ টাকায়, যেখানে গত বছর ছিল ২,৪০০–২,৮০০ টাকা।

ঝিনাইদহের কৃষক আজিজুর রহমান বলছেন, “এ বছর ফলন ও দাম ভালো হলেও আগের বছরগুলোতে অবস্থা ভালো না থাকায় অনেকেই মসুর চাষ ছেড়ে দিয়েছেন।”

ফরিদপুরের কামাল হোসেন জানান, আগে বারি-২, বারি-৩, বারি-৪ জাতের মসুর চাষ করতেন, কিন্তু ফলন কম থাকায় কৃষকেরা আগ্রহ হারিয়েছেন। এবার তিনি বারি-৮ জাতের মসুর চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

পাইকারি বাজারে ধীরগতিমিল মালিকরা বিপাকে

মাগুরার নতুন বাজার দেশের অন্যতম বড় মসুর ডালের পাইকারি বাজার।
সেখানে ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আগে প্রতিদিন ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ মণ মসুর কেনাবেচা হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১,৫০০ থেকে ১২,০০০ মণে।

ফরিদপুরের এক ডাল মিল মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, দেশীয় মসুরের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ছোট মিলগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ডাল কিনতে পারছে না। সরকারকে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, ফলে অনেক ছোট মিল বন্ধ হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি

চাহিদা ৭ লাখ, আমদানী করতে হয় ৬ লাখ টন: এ বছর উৎপাদন আরো কম

০৫:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

ক্রমাগত কমছে মসুর চাষ ও উৎপাদন

দেশে মসুর ডালের চাষ ও উৎপাদন গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে কমছে।
সরকারি তথ্যমতে, এই পতনের পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে:

  • চাষে লাভজনক না হওয়া
  • ঘনঘন রোগবালাইয়ের আক্রমণ
  • অনুকূল আবহাওয়ার অভাব

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানায়, গত পাঁচ বছরে দেশে মসুর চাষের জমি ৭৫,৭০০ হেক্টর কমে গেছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে মসুর উৎপাদন ছিল ২,৫৮,৫০০ টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেমে এসেছে মাত্র ১,৬৬,৩০০ টনে।

যেখানে দেশে বছরে ৭ লাখ টনের মতো মসুর ডালের চাহিদা রয়েছে, সেখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে খুব অল্প—ফলে প্রায় ৬ লাখ টন আমদানি করতে হচ্ছে।

কৃষকরা মসুর চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কেন?

১৫ জনের বেশি কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসুর চাষে তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে:

  • রোগবালাই ও খারাপ আবহাওয়া
  • অন্যান্য ফসলে তুলনামূলক বেশি লাভ
  • আগের বছরগুলোতে দাম কম পাওয়া

এ কারণে অনেক কৃষক এখন মসুরের বদলে পেঁয়াজ, ভুট্টা, গম ও কলা চাষে ঝুঁকছেন।

নড়াইলের কৃষক হাসান আলী আগে ৬ বিঘা জমিতে মসুর চাষ করতেন, কিন্তু ফলন কমে যাওয়ায় এবার করেছেন ৪ বিঘায়। তিনি বলছেন, এখন ভুট্টা চাষে বেশি লাভ হচ্ছে।

রাজবাড়ীর কৃষক মজিবর রহমান গত বছরের তুলনায় এবার কম জমিতে চাষ করেও ২৪ মণ মসুর পেয়েছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন।

মসুরের দাম বেড়েছে:
এই মৌসুমে প্রতি মণ মসুর বিক্রি হচ্ছে ৩,৪০০–৩,৬০০ টাকায়, যেখানে গত বছর ছিল ২,৪০০–২,৮০০ টাকা।

ঝিনাইদহের কৃষক আজিজুর রহমান বলছেন, “এ বছর ফলন ও দাম ভালো হলেও আগের বছরগুলোতে অবস্থা ভালো না থাকায় অনেকেই মসুর চাষ ছেড়ে দিয়েছেন।”

ফরিদপুরের কামাল হোসেন জানান, আগে বারি-২, বারি-৩, বারি-৪ জাতের মসুর চাষ করতেন, কিন্তু ফলন কম থাকায় কৃষকেরা আগ্রহ হারিয়েছেন। এবার তিনি বারি-৮ জাতের মসুর চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

পাইকারি বাজারে ধীরগতিমিল মালিকরা বিপাকে

মাগুরার নতুন বাজার দেশের অন্যতম বড় মসুর ডালের পাইকারি বাজার।
সেখানে ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আগে প্রতিদিন ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ মণ মসুর কেনাবেচা হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১,৫০০ থেকে ১২,০০০ মণে।

ফরিদপুরের এক ডাল মিল মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, দেশীয় মসুরের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ছোট মিলগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ডাল কিনতে পারছে না। সরকারকে আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে, ফলে অনেক ছোট মিল বন্ধ হয়ে গেছে।