০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল বছরের সর্বোচ্চ ধস: ডিএসই-সিএসইতে সূচকের বড় পতন, অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ৪ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রামে ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রী ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন ট্রাম্প, খামেনি হত্যার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পেছনের গল্প ১৬ মাসের সর্বোচ্চে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি, ফেব্রুয়ারিতে ৭% স্পর্শ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইউএস মেরিনস: কর্মকর্তা তোশাখানা ‘ভুয়া রসিদ’ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির জামিন, আরও ৫ মামলাতেও স্বস্তি ইরান ছাড়তে সীমান্তে হুড়োহুড়ি, তাফতান দিয়ে ফিরছেন পাকিস্তানিরা  ইরান পারমাণবিক অস্ত্র নেবে না’, সিনেটে দাবি পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের রুশ তেল আমদানি ২০% এর নিচে, পশ্চিম এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে ভারত

শুল্কের কারণে নিসান মোটরের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

  • Sarakhon Report
  • ১২:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • 131

সারাক্ষণ রিপোর্ট

টোকিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যাচ্ছে, নিসান মোটর তাদের একটি জনপ্রিয় মডেলের কিছু উৎপাদন জাপান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নতুনভাবে আরোপিত শুল্ক থেকে বাঁচতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উৎপাদন স্থানান্তরের সম্ভাবনা

নিসান তাদের বহুল জনপ্রিয় স্পোর্টস ইউটিলিটি গাড়ি ‘রোগ’-এর কিছু অংশের উৎপাদন জাপানের দক্ষিণাঞ্চল ফুকুওকা প্রিফেকচার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিতে পারে। এটি হবে জাপান থেকে সরাসরি প্রথম কোনো গাড়ি উৎপাদন স্থানান্তর, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন শুল্ক নীতির প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল।

মার্কিন বাজারে নিসানের উপস্থিতি

গত বছরে নিসান যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৯,২০,০০০ গাড়ি বিক্রি করে, যার মধ্যে প্রায় ১৫০,০০০ গাড়ি (প্রায় ১৬%) জাপানে তৈরি হয়ে রপ্তানি করা হয়। ফুকুওকার প্রধান কারখানায় বছরে ৫,০০,০০০ গাড়ি তৈরির সক্ষমতা থাকলেও ‘রোগ’ মডেল থেকে বছরে প্রায় ১,২০,০০০ গাড়ি তৈরি হয়।

ফুকুওকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রভাব

নিসান যদি ফুকুওকার উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তবে স্থানীয় অর্থনীতি, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এত দিন এই অঞ্চলকে সহায়তা করতে জাপানে বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ গাড়ি তৈরি করা হতো, কিন্তু নতুন শুল্কের কারণে সেই ধারা বদলে যেতে পারে।

নিসানের জাপানি সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জ

দেশীয় অর্থনৈতিক চাপে নিসান ইতোমধ্যেই জাপানের কারখানাগুলোর উৎপাদন কমিয়ে আনছে। শোনা যাচ্ছে, গত বছর তারা জাপানে মাত্র ৬,৬০,০০০ গাড়ি উৎপাদন করতে পেরেছে, যা প্রত্যাশিত লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন

নিসান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু উৎপাদন লাইনে অর্ধেক শিফট চালু রাখার পরিকল্পনা করেছিল। এতে করে ‘রোগ’সহ অন্য মডেলের উৎপাদন হ্রাস পেত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর, তারা ওই পরিকল্পনা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ট্রাম্পের নীতির প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করায় ফুকুওকার মতো জাপানি কারখানা থেকে গাড়ি রপ্তানির ব্যয় বেড়ে যাবে। এই শুল্কের বোঝা এড়াতেই নিসান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আংশিক উৎপাদন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য জাপানি নির্মাতাদের প্রতিক্রিয়া

নিসানের পদক্ষেপ দেখে অনুমান করা হচ্ছে, অন্য জাপানি গাড়ি নির্মাতারাও একই কৌশল নিতে পারে। অটোমোবাইল শিল্প জাপানের অন্যতম প্রধান খাত এবং জিডিপিতে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পেলে এটি পুরো শিল্পখাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান সরকার ছোট ও মাঝারি আকারের অটো যন্ত্রাংশ নির্মাতাদের সহায়তা করতে চাইছে। সরকারী কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে এমন এলাকাগুলোতে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে অটোমোবাইল শিল্পের ঘনত্ব বেশি। একই সঙ্গে টয়োটা মোটরও উত্তর আমেরিকায় উচ্চ উৎপাদন খরচ সামলানোর জন্য সহযোগীদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে। যদিও তারা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম বাড়াবে না।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। নিসানের এই পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে অন্য নির্মাতারাও একই পথে এগোতে পারে। তাই অটোমোবাইল শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘নো রেজিম চেঞ্জ’ থেকে সরকার পতনের ডাক: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নাটকীয় অবস্থান বদল

শুল্কের কারণে নিসান মোটরের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

১২:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

টোকিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যাচ্ছে, নিসান মোটর তাদের একটি জনপ্রিয় মডেলের কিছু উৎপাদন জাপান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নতুনভাবে আরোপিত শুল্ক থেকে বাঁচতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উৎপাদন স্থানান্তরের সম্ভাবনা

নিসান তাদের বহুল জনপ্রিয় স্পোর্টস ইউটিলিটি গাড়ি ‘রোগ’-এর কিছু অংশের উৎপাদন জাপানের দক্ষিণাঞ্চল ফুকুওকা প্রিফেকচার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিতে পারে। এটি হবে জাপান থেকে সরাসরি প্রথম কোনো গাড়ি উৎপাদন স্থানান্তর, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন শুল্ক নীতির প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল।

মার্কিন বাজারে নিসানের উপস্থিতি

গত বছরে নিসান যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৯,২০,০০০ গাড়ি বিক্রি করে, যার মধ্যে প্রায় ১৫০,০০০ গাড়ি (প্রায় ১৬%) জাপানে তৈরি হয়ে রপ্তানি করা হয়। ফুকুওকার প্রধান কারখানায় বছরে ৫,০০,০০০ গাড়ি তৈরির সক্ষমতা থাকলেও ‘রোগ’ মডেল থেকে বছরে প্রায় ১,২০,০০০ গাড়ি তৈরি হয়।

ফুকুওকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রভাব

নিসান যদি ফুকুওকার উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তবে স্থানীয় অর্থনীতি, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এত দিন এই অঞ্চলকে সহায়তা করতে জাপানে বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ গাড়ি তৈরি করা হতো, কিন্তু নতুন শুল্কের কারণে সেই ধারা বদলে যেতে পারে।

নিসানের জাপানি সরবরাহ চেইনের চ্যালেঞ্জ

দেশীয় অর্থনৈতিক চাপে নিসান ইতোমধ্যেই জাপানের কারখানাগুলোর উৎপাদন কমিয়ে আনছে। শোনা যাচ্ছে, গত বছর তারা জাপানে মাত্র ৬,৬০,০০০ গাড়ি উৎপাদন করতে পেরেছে, যা প্রত্যাশিত লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন

নিসান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু উৎপাদন লাইনে অর্ধেক শিফট চালু রাখার পরিকল্পনা করেছিল। এতে করে ‘রোগ’সহ অন্য মডেলের উৎপাদন হ্রাস পেত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর, তারা ওই পরিকল্পনা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ট্রাম্পের নীতির প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করায় ফুকুওকার মতো জাপানি কারখানা থেকে গাড়ি রপ্তানির ব্যয় বেড়ে যাবে। এই শুল্কের বোঝা এড়াতেই নিসান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আংশিক উৎপাদন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য জাপানি নির্মাতাদের প্রতিক্রিয়া

নিসানের পদক্ষেপ দেখে অনুমান করা হচ্ছে, অন্য জাপানি গাড়ি নির্মাতারাও একই কৌশল নিতে পারে। অটোমোবাইল শিল্প জাপানের অন্যতম প্রধান খাত এবং জিডিপিতে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পেলে এটি পুরো শিল্পখাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান সরকার ছোট ও মাঝারি আকারের অটো যন্ত্রাংশ নির্মাতাদের সহায়তা করতে চাইছে। সরকারী কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে এমন এলাকাগুলোতে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে অটোমোবাইল শিল্পের ঘনত্ব বেশি। একই সঙ্গে টয়োটা মোটরও উত্তর আমেরিকায় উচ্চ উৎপাদন খরচ সামলানোর জন্য সহযোগীদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে। যদিও তারা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম বাড়াবে না।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। নিসানের এই পদক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে অন্য নির্মাতারাও একই পথে এগোতে পারে। তাই অটোমোবাইল শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।