১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপের প্রতিরোধ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি পরিকল্পনায় বাধা যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহে শেষ হতে পারে — ট্রাম্পের দাবি উইলি ওয়ালশকে ইন্ডিগোর নতুন সিইও: আন্তর্জাতিক প্রসারে নতুন দিগন্ত হোন্ডার নতুন প্রযুক্তি রাস্তাঘাটে রূপান্তর করবে মরুভূমির বালি ভারতীয় জ্বালানি সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী সহযোগিতা বাড়ছে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধ মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে নাজিবের ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আদেশ: মালয়েশিয়ার আদালতের কঠোর রায় ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রিমোট ওয়ার্ক ও বায়োডিজেলের বিশাল পদক্ষেপ ফ্রান্সে ব্যাটারি শিল্পে নতুন দিগন্ত, তাইওয়ানের বিনিয়োগ আকর্ষণে মনোযোগ খাগড়াছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
  • 195

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এর তিন দিন পরে শানায়া রেলস্টেশনের ঠিক আগে আমাদের বাহিনী তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে নেমে পড়ল।

কোথা থেকে এক ছোকরা অশ্বারোহী সৈন্য ঘোড়া ছুটিয়ে ওখানে এসে হাজির হল আর শেবালভের হাতে একখানা মুখ-আঁটা খাম ধরিয়ে দিয়ে হেসে, যেন ভারি একটা সুখবর দিচ্ছে এমনি ভঙ্গিতে, বলল:

‘গতকাল ক্রাইউৎকোভোতে জার্মানরা আমাদের নোকজনেরে এক্কেবারে ছাগলভেড়ার মতো কচুকাটা করি দিল। চু-চু, এক্কেবারে রামধোলাই দিল!’

আমাদের বাহিনীর ওপর ভার পড়ল শত্রুর পেছনদিকে অনুপ্রবেশের। বলা হল, গ্রামে-গ্রামে ছড়ানো শত্রুর ছোট-ছোট দলগুলোকে আমরা যেন এড়িয়ে যাই আর বেগিচেভের নেতৃত্বে পরিচালিত দনে খনি-মজুরদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করি।

‘কিন্তু ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করব কী করি?’ ম্যাপের ওপর আঙুলের খোঁচা দিতে-দিতে শেবালভ বললেন। ‘খনি-মজুরদের বাহিনীর খোঁজটা করি কোথায়? ওরা লিখচে: ‘ওলেস্কিনো আর সোস্কার মাঝামাঝি’। ঠিক-ঠিক জায়গাটা বাতলাও, তা না। বলা তো খুব সোজা ‘যোগাযোগ কর’। কোথায়? না, ‘অমুক আর অমুকের মধ্যি’, বাঃ…’

সেনাবিভাগের দপ্তর-প্রধানদের মুণ্ডপাত করতে লাগলেন শেবালভ। ওরা না-বোঝে কোনো একটা জিনিস, খালি কথায়-কথায় হুকুমনামা লিখতে ওস্তাদ আর তারপর কোম্পানি-কম্যান্ডারদের ডেকে পাঠাতে। তবে ‘দপ্তরের নোকজনরে’ গালাগাল দিলে কী হবে, স্বাধীনভাবে এই একটা কাজ করার দায়িত্ব ঘাড়ে পড়ায়, আরও বেশি সৈন্যের কোন একটা বাহিনীর তাঁবে কাজ করতে না হওয়ায় শেবালভআসলে খুশিই হলেন।

আমাদের বাহিনীতে ছিলেন তিনজন কোম্পানি-কম্যান্ডার। পরিষ্কার কামানো চাঁচাছোলা মুখ, ঠান্ডা মেজাজের চেক-দেশীয় গাল্দা, গোমড়া মুখো এন-সি-ও সুখারেভ আর তেইশ বছরের হাসিখুশি অ্যাকর্ডিয়ন-বাজিয়ে আর নাচিয়ে ফেদিয়া সির্ত্সভ। যুদ্ধে আসার আগে ফেদিয়া ছিল গোরুর রাখাল।

একটা ফাঁকা জায়গায় ম্যাপটাকে ঘিরে ওঁরা বসে ছিলেন সবাই। আর ওঁদেরও ঘিরে বসে ছিল লাল ফৌজের লোকজন।

হুকুমনামার কাগজখানা তুলে ধরে শেবালভ বলছিলেন, ‘আচ্ছা, এই যে হকুমনামা আমি পেয়েচি এ-অনুযায়ী আমাদের শত্রুর পেছনদিক দিয়ে গিয়ে ওদের মধ্যি ঢুকতি হবে আর কাজ করতি হবে বেগিচেভের বাহিনীর কাছাকাছি। আজ রাতেই রওনা হতি হবে আমাদের। শত্রুর নাগালের মধ্যি না-গিয়ে, একটু দূরে দূরে থেকে এগোতে হবে আমাদের, ছোঁয়াছুয়ি হলি চলবে না। কথাটা পরিষ্কার বুয়েচ তো?’

‘ও তো একটা মস্ত কথা হল ছোঁয়াছ’য়ি হলি চলবে না। বলি, ছোঁয়া বাঁচাব কেমন করি?’ ধূর্তামিমাখা ভালোমানুষির ভাঙ্গতে ফেদিয়া সিত্ত্সভবলল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের প্রতিরোধ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি পরিকল্পনায় বাধা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-২৭)

০৮:০০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এর তিন দিন পরে শানায়া রেলস্টেশনের ঠিক আগে আমাদের বাহিনী তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে নেমে পড়ল।

কোথা থেকে এক ছোকরা অশ্বারোহী সৈন্য ঘোড়া ছুটিয়ে ওখানে এসে হাজির হল আর শেবালভের হাতে একখানা মুখ-আঁটা খাম ধরিয়ে দিয়ে হেসে, যেন ভারি একটা সুখবর দিচ্ছে এমনি ভঙ্গিতে, বলল:

‘গতকাল ক্রাইউৎকোভোতে জার্মানরা আমাদের নোকজনেরে এক্কেবারে ছাগলভেড়ার মতো কচুকাটা করি দিল। চু-চু, এক্কেবারে রামধোলাই দিল!’

আমাদের বাহিনীর ওপর ভার পড়ল শত্রুর পেছনদিকে অনুপ্রবেশের। বলা হল, গ্রামে-গ্রামে ছড়ানো শত্রুর ছোট-ছোট দলগুলোকে আমরা যেন এড়িয়ে যাই আর বেগিচেভের নেতৃত্বে পরিচালিত দনে খনি-মজুরদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করি।

‘কিন্তু ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করব কী করি?’ ম্যাপের ওপর আঙুলের খোঁচা দিতে-দিতে শেবালভ বললেন। ‘খনি-মজুরদের বাহিনীর খোঁজটা করি কোথায়? ওরা লিখচে: ‘ওলেস্কিনো আর সোস্কার মাঝামাঝি’। ঠিক-ঠিক জায়গাটা বাতলাও, তা না। বলা তো খুব সোজা ‘যোগাযোগ কর’। কোথায়? না, ‘অমুক আর অমুকের মধ্যি’, বাঃ…’

সেনাবিভাগের দপ্তর-প্রধানদের মুণ্ডপাত করতে লাগলেন শেবালভ। ওরা না-বোঝে কোনো একটা জিনিস, খালি কথায়-কথায় হুকুমনামা লিখতে ওস্তাদ আর তারপর কোম্পানি-কম্যান্ডারদের ডেকে পাঠাতে। তবে ‘দপ্তরের নোকজনরে’ গালাগাল দিলে কী হবে, স্বাধীনভাবে এই একটা কাজ করার দায়িত্ব ঘাড়ে পড়ায়, আরও বেশি সৈন্যের কোন একটা বাহিনীর তাঁবে কাজ করতে না হওয়ায় শেবালভআসলে খুশিই হলেন।

আমাদের বাহিনীতে ছিলেন তিনজন কোম্পানি-কম্যান্ডার। পরিষ্কার কামানো চাঁচাছোলা মুখ, ঠান্ডা মেজাজের চেক-দেশীয় গাল্দা, গোমড়া মুখো এন-সি-ও সুখারেভ আর তেইশ বছরের হাসিখুশি অ্যাকর্ডিয়ন-বাজিয়ে আর নাচিয়ে ফেদিয়া সির্ত্সভ। যুদ্ধে আসার আগে ফেদিয়া ছিল গোরুর রাখাল।

একটা ফাঁকা জায়গায় ম্যাপটাকে ঘিরে ওঁরা বসে ছিলেন সবাই। আর ওঁদেরও ঘিরে বসে ছিল লাল ফৌজের লোকজন।

হুকুমনামার কাগজখানা তুলে ধরে শেবালভ বলছিলেন, ‘আচ্ছা, এই যে হকুমনামা আমি পেয়েচি এ-অনুযায়ী আমাদের শত্রুর পেছনদিক দিয়ে গিয়ে ওদের মধ্যি ঢুকতি হবে আর কাজ করতি হবে বেগিচেভের বাহিনীর কাছাকাছি। আজ রাতেই রওনা হতি হবে আমাদের। শত্রুর নাগালের মধ্যি না-গিয়ে, একটু দূরে দূরে থেকে এগোতে হবে আমাদের, ছোঁয়াছুয়ি হলি চলবে না। কথাটা পরিষ্কার বুয়েচ তো?’

‘ও তো একটা মস্ত কথা হল ছোঁয়াছ’য়ি হলি চলবে না। বলি, ছোঁয়া বাঁচাব কেমন করি?’ ধূর্তামিমাখা ভালোমানুষির ভাঙ্গতে ফেদিয়া সিত্ত্সভবলল।