সারাক্ষণ রিপোর্ট
এআই নিয়ে বিদ্যুৎ-ভিত্তিক আশঙ্কা বনাম বাস্তবতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে অনেকের মনে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় নেই, কিন্তু এর বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। যেমন, ChatGPT ব্যবহার করলে একটি প্রশ্নের উত্তরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা সাধারণ সার্চের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি। গুগলের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং মাইক্রোসফটের নির্গমন ২০২০ সালের পর থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত থাকলে এই নির্গমন আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বাস্তবচিত্র অনেকটা আলাদা। এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে কম, এবং এটি এমন কিছু খাতে সাহায্য করতে পারে যেখানে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা কঠিন ছিল এতদিন।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ খরচ তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও বর্তমানে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে মাত্র ১.৫ শতাংশ তথ্যকেন্দ্রে খরচ হয়, এবং এর বড় অংশ এআই নয়, বরং ভিডিও স্ট্রিমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহৃত হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এআইয়ের ব্যবহার
এআইয়ের শক্তিশালী ডেটা বিশ্লেষণ ও জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজার ক্ষমতা জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
এই ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন অনেকাংশে কমানো সম্ভব হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের সামনে করণীয়
নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তির এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা কমানো এবং ইতিবাচক ব্যবহার উৎসাহিত করা।
বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শ সমাধান হতে পারে—কার্বন নিঃসরণে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারভিত্তিক সমাধান গ্রহণ। তবে এই পদ্ধতি এখনো ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপ তুলে ধরা হচ্ছে—
স্বচ্ছতা ও তথ্যের জবাবদিহিতা
বর্তমানে অধিকাংশ এআই সিস্টেম কতটা বিদ্যুৎ খরচ করছে, তা স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সাল থেকে নির্দিষ্ট এআই ডেভেলপারদের বিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বাধ্য করতে যাচ্ছে। এই নীতি বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা উচিত।
ডেটা সেন্টারের কাঠামোগত সংস্কার
তথ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কাজ ভাগাভাগি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির সাথে তাল মেলানোর জন্য সময়মতো কার্যক্রম পরিচালনা—এই কৌশলগুলো বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে কার্যকর হতে পারে।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকতা
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের ঘোষিত পরিবেশবান্ধব প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। যেমন, মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে “কার্বন নেতিবাচক” হতে চায়। অনেক প্রতিষ্ঠান পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ক্রেডিট কিনে দূষণ ভারসাম্য করতে চায়, কিন্তু এই পদ্ধতির বাস্তবতা প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ অনেক সময় এই পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ এমনিতেই উৎপন্ন হতো।
ভবিষ্যতের পথ: নেতৃত্বে প্রযুক্তি
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে তাদের বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ গ্রিডকে আরও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তারা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ভবিষ্যতে তারা:
এইসব উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং জলবায়ু রক্ষায় এক সহায়ক শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
Leave a Reply