০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিংয়ে পাঁচ ইতালীয়র মৃত্যু Google Android-কে “ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমে” পরিণত করছে — Gemini এখন সব কাজ করবে BLACKPINK-এর Jennie: নিজের এজেন্সি থেকে আয় ১৭০ কোটি টাকারও বেশি BTS-এর ‘Arirang World Tour’ কাল স্ট্যানফোর্ড থেকে শুরু — সাত বছর পর পূর্ণ দলে ফেরা aespa-র নতুন MV “WDA” মুক্তি পেল G-Dragon-কে নিয়ে — ভক্তদের মধ্যে বিস্ফোরণ OpenAI Apple-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পথে — iPhone-এ ChatGPT ইন্টিগ্রেশন নিয়ে তিক্ততা তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা: ভুল পদক্ষেপ মানেই যুদ্ধ ইরানকে চাপ দিতে পারমাণবিক সাবমেরিন USS Alaska জিব্রাল্টারে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জের হাওরে খড় সংকট, গবাদিপশু বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা ইবোলার নতুন আতঙ্ক: কঙ্গোতে ফের প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের ভয়াবহ সংক্রমণগুলো আবার আলোচনায়

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • 272

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ঘোড়ার খুরের শব্দ, ঘোড়সওয়ারের নালের টুংটাং কিংবা ঘোড়ার চিহিডাক একদম না-করতে দিয়ে চুপিচুপি এগোনোর পক্ষপাতী ছিল ফেদিয়া। ঘোড়ার ডাক বন্ধ করতে তার মুখে একটা থাবড়া কষিয়ে দিতে কিংবা ঘোড়সওয়ারদ্রের ফিসফিসানি বন্ধ করতে তাদের পিঠে চাবুক চালাতে একটুও ইতস্তত করত না ও। এইভাবে ফেদিয়ার দলের ঘোড়ারা হঠাৎ-হঠাৎ না-ডেকে উঠতে শিক্ষা পেয়েছিল, আর ওর ঘোড়সওয়াররা শিখেছিল একটু টু’শব্দ না করে জিনে চেপে বসে থাকতে। ওর স্কাউট-দলের সামনে-সামনে দুকি-চালে-চলা ঘোড়ার ঘন ঝাঁপালো কেশরের ওপর অল্প-একটু কু’জো-হয়ে-বসে-থাকা ফেদিয়াকে দেখলে মনে হত যেন একটা শিকারী পি’পড়েভুক ঘাসে আটকে-পড়া নধর মাছির দিকে তাক করে হিলবিল করে এগিয়ে চলেছে।

কিন্তু যদি কখনও শত্রুর পাহারাদাররা ওদের আঁচ পেয়ে যেত আর ভয় পেয়ে হাঁকডাক শুরু করত, তাহলে ফেদিয়ার আঁটোসাঁটো ছোট্ট বাহিনীটি হপহপ আওয়াজ আর বিকট চিৎকার করতে-করতে রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি আর এদিক-ওদিক বোমা ছুড়তে-ছুড়তে হঠাৎ আক্রমণ করে বসত শ্বেতরক্ষীদের।

ওদিকে তখনও হয়তো শ্বেতরক্ষীরা ভ্যাবাচাকা-খাওয়া অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে নি, অনেকেই তখনও টানাটানি করে ট্রাউজার্স’ পরতে ব্যস্ত, কিংবা ওদের মেশিনগান-চালিয়ে ঘুমচোখে উঠে তখনও হয়তো গুলির ফিতে লাগিয়ে উঠতে পারে নি। একমাত্র ওই সময়ই ফেদিয়া প্রচণ্ড হৈ-হল্লা করতে ভালোবাসত। প্রচন্ড বেগে ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে ছোড়া-বুলেট যদি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগত, কিংবা ঘাসের ওপর এলোপাতাড়ি ছোড়া বোমার আওয়াজে ভয় পেয়ে যদি মুরগি আর পুরুষ্টু হাঁসগুলো প্রাণের দায়ে উড়ে বাড়ির চিমনির ওপর গিয়ে পড়ত, তাতে ফেদিয়ার কিছু আসত-যেত না, যথেষ্ট হট্টগোল তুলে সবাইকে ভয় পাওয়াতে পারলেই ও ছিল খুশি।

এ-সব ক্ষেত্রে ওর উদ্দেশ্য ছিল হতভম্ব শত্রুর মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া যে লাল ফৌজের অসংখ্য সেপাই গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ওর মতলব ছিল, রাইফেলের বলটুতে কার্তুজ পুরতে গিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাবড়ে-যাওয়া সেপাইদের আঙুলগুলো কেমন এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াবে আর কাঁপতে থাকবে, তাড়াহুড়ো করে গুছিয়ে-নেয়া মেশিনগানটা গুলির ফিতে কুচকে থাকার জন্যে চলতে-চলতে কেমন বন্ধ হয়ে যাবে, আধঘুমন্ত-অবস্থায় হতবুদ্ধি সৈন্যরা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাইফেল ফেলে, ভয়ে বেড়ার দিকে ছুটতে ছুটতে কেমন পাগলের মতো চে’চাবে: ‘লালজুজু এসে গ্যাচে! ঘিরে ফেলেচে আমাদের!’ তা-ই দেখে দারুণ মজা পাওয়া যাবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিংয়ে পাঁচ ইতালীয়র মৃত্যু

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৭)

০৮:০০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ঘোড়ার খুরের শব্দ, ঘোড়সওয়ারের নালের টুংটাং কিংবা ঘোড়ার চিহিডাক একদম না-করতে দিয়ে চুপিচুপি এগোনোর পক্ষপাতী ছিল ফেদিয়া। ঘোড়ার ডাক বন্ধ করতে তার মুখে একটা থাবড়া কষিয়ে দিতে কিংবা ঘোড়সওয়ারদ্রের ফিসফিসানি বন্ধ করতে তাদের পিঠে চাবুক চালাতে একটুও ইতস্তত করত না ও। এইভাবে ফেদিয়ার দলের ঘোড়ারা হঠাৎ-হঠাৎ না-ডেকে উঠতে শিক্ষা পেয়েছিল, আর ওর ঘোড়সওয়াররা শিখেছিল একটু টু’শব্দ না করে জিনে চেপে বসে থাকতে। ওর স্কাউট-দলের সামনে-সামনে দুকি-চালে-চলা ঘোড়ার ঘন ঝাঁপালো কেশরের ওপর অল্প-একটু কু’জো-হয়ে-বসে-থাকা ফেদিয়াকে দেখলে মনে হত যেন একটা শিকারী পি’পড়েভুক ঘাসে আটকে-পড়া নধর মাছির দিকে তাক করে হিলবিল করে এগিয়ে চলেছে।

কিন্তু যদি কখনও শত্রুর পাহারাদাররা ওদের আঁচ পেয়ে যেত আর ভয় পেয়ে হাঁকডাক শুরু করত, তাহলে ফেদিয়ার আঁটোসাঁটো ছোট্ট বাহিনীটি হপহপ আওয়াজ আর বিকট চিৎকার করতে-করতে রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি আর এদিক-ওদিক বোমা ছুড়তে-ছুড়তে হঠাৎ আক্রমণ করে বসত শ্বেতরক্ষীদের।

ওদিকে তখনও হয়তো শ্বেতরক্ষীরা ভ্যাবাচাকা-খাওয়া অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারে নি, অনেকেই তখনও টানাটানি করে ট্রাউজার্স’ পরতে ব্যস্ত, কিংবা ওদের মেশিনগান-চালিয়ে ঘুমচোখে উঠে তখনও হয়তো গুলির ফিতে লাগিয়ে উঠতে পারে নি। একমাত্র ওই সময়ই ফেদিয়া প্রচণ্ড হৈ-হল্লা করতে ভালোবাসত। প্রচন্ড বেগে ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠ থেকে ছোড়া-বুলেট যদি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগত, কিংবা ঘাসের ওপর এলোপাতাড়ি ছোড়া বোমার আওয়াজে ভয় পেয়ে যদি মুরগি আর পুরুষ্টু হাঁসগুলো প্রাণের দায়ে উড়ে বাড়ির চিমনির ওপর গিয়ে পড়ত, তাতে ফেদিয়ার কিছু আসত-যেত না, যথেষ্ট হট্টগোল তুলে সবাইকে ভয় পাওয়াতে পারলেই ও ছিল খুশি।

এ-সব ক্ষেত্রে ওর উদ্দেশ্য ছিল হতভম্ব শত্রুর মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দেয়া যে লাল ফৌজের অসংখ্য সেপাই গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ওর মতলব ছিল, রাইফেলের বলটুতে কার্তুজ পুরতে গিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাবড়ে-যাওয়া সেপাইদের আঙুলগুলো কেমন এদিক-ওদিক হাতড়ে বেড়াবে আর কাঁপতে থাকবে, তাড়াহুড়ো করে গুছিয়ে-নেয়া মেশিনগানটা গুলির ফিতে কুচকে থাকার জন্যে চলতে-চলতে কেমন বন্ধ হয়ে যাবে, আধঘুমন্ত-অবস্থায় হতবুদ্ধি সৈন্যরা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাইফেল ফেলে, ভয়ে বেড়ার দিকে ছুটতে ছুটতে কেমন পাগলের মতো চে’চাবে: ‘লালজুজু এসে গ্যাচে! ঘিরে ফেলেচে আমাদের!’ তা-ই দেখে দারুণ মজা পাওয়া যাবে।