০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে হলিউড অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট আর নেই, আলঝেইমারসে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১০)

হৈরব ও ভৈরব

‘ঈশ্বর, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ হৈরব নিজের কাছে কাঁদবে ব’লে পা বিছিয়ে বসে। কতো কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে সিরাজদিখাঁর সেই পাতক্ষীরের কথা, জীবে স্বাদ লেগে আছে এখনো। মনে পড়ে রামপালের কলামুলোর কথা, গাদিঘাটের কুমড়ো, আড়িয়লবিলের কই মাছ, কত কিছু। আতরপাড়ার সেই দই, আহারে, সব গেল কোথায়। গোটাগ্রাম জুড়ে ছিল কদমের বন, বর্ষার নদী ধীর মন্থর গতিতে ফেঁপে উঠে শেষে কদমের বনে গিয়ে ইচ্ছে ক’রে পথ হারিয়ে ‘এআমারকিহলোগো’ ভান ধ’রে ছেলেমানুষিতে মেতে উঠতো। এখন গ্রাম কি গ্রাম উজাড়; দেশলায়ের কারখানা গিলে ফেলেছে সবকিছু।

কদমের সে বনও নেই, নদীর সেই ছেলেমানুষিও নেই; এখন ইচ্ছে হলো তো একধারসে সব ভাসিয়ে দিলো, সবকিছু ধ্বংস করে দিলো, ‘আমি তোমাদের কে, আমার যা ইচ্ছে তাই করবো’ ভাবখানা এমন। সবকিছু দেখে, সব কথা ভেবে, হৈরব এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছায়, অনেক কিছু তার দেখা হয়ে গেছে, অনেক, অনেক, আর দরকার নেই তার দেখার, ‘চক্ষু তো এই দুইখান, আর কতো দেখাইবা, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ জীবনের কি খাঁই, কতো কিছু তার চাই, আজ আর তার কোথাও বাঁশপাতার কোনো গন্ধ লেগে নেই, উইঢিপির গন্ধ নেই, এ্যাওলাশ্যাওলার গন্ধেও কত আত্মীয়স্বজন, কতো পালপার্বণ, কতো জন্মমৃত্যুর স্মৃতি ভুরভুর করেছে একসময়। জীবনের এখন গণ্ডা গণ্ডা মাথা, গণ্ডা গণ্ডা চোখ, হাত, নখ, দাঁত, রাবণ কোন ছার; জীবনের এখন সবকিছু চাই, কেবল ভালোবাসা ছাড়া, যতো কিছু আছে, সব-

‘ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ গলায় আকন্দের মালা পরে ‘হে বিরিক্ষ এ অধমের পেন্নাম লইবেননি, হে হনুমানসকল, আপনেরা খুশি থাকিলেই বিশ্ব সংসার লীলাময় হয়, ‘আহা সরলতার কিবা দিব্যকান্তি, মরি মরি’ আপন মনে এইসব ব’লে আর কেউ একা একা কেঁদে ফিরবো না দেবদারু বনে, আর কেউ চৌতালে, একতালায়, টেওটে, ত্রিতালে, ঝাঁপতালে, ঠুমরি ঠেকায় ঢাকে বর্ষাভর ডাহুকের ডাক বাজাবে না, ‘ঈশ্বর হৈরবরে তুমি তুইলা নাও এক সময় দয়া আসে। বলে, ‘দাদা পাও বিছায়া বইলা যে, ঘরে আইবা না? বেইল যাইতাছে না বুঝি!’

ভৈরবের অনুমানই ঠিক, বিকেল ধ’রে আসার পরপরই দূর থেকে হাতাইলের ওপর গনিমিয়াকে দেখা যায়, নিস্তেজ ইছামতির একটা মাথা তখন তীব্র আগুনলালে ঝলসে উঠছে।

গনিমিয়ার হাতে একটা চটের থলে, গায়ে বাবর বিড়ির বিজ্ঞাপন। থলেটা হাতে ঝুলিয়ে তিল খেত কাউন খেত এ খেত সে খেত নিরিখ করতে করতে হাতাইল ধ’রে আপন মনে সে এগিয়ে আসে। কলুবাড়ির চকের পাশে একবার দাঁড়ায় সে, পিঁয়াজের খেত বরাবর বেতঝোপের কোলে জলবোড়ার জট পাকানো মেলা ব’সে গেছে; মাছ গিলে গিলে একেবারে ঢ্যাপ হয়ে আছে সাপগুলো, নড়ার ক্ষমতা নেই। এরা আজ গর ছেঁচে মাছ ধরেছে, ভিটির ভাঙনে ভরট দিয়েছে। এক বয়সে গরু ছাগলের পাল ধরানো দেখতে কলুবাড়ির চারপাশে কতো ঘুরঘুর করেছে, মনে এইসব উঁকি মারে।

 

 

যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১০)

১২:০০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

হৈরব ও ভৈরব

‘ঈশ্বর, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ হৈরব নিজের কাছে কাঁদবে ব’লে পা বিছিয়ে বসে। কতো কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে সিরাজদিখাঁর সেই পাতক্ষীরের কথা, জীবে স্বাদ লেগে আছে এখনো। মনে পড়ে রামপালের কলামুলোর কথা, গাদিঘাটের কুমড়ো, আড়িয়লবিলের কই মাছ, কত কিছু। আতরপাড়ার সেই দই, আহারে, সব গেল কোথায়। গোটাগ্রাম জুড়ে ছিল কদমের বন, বর্ষার নদী ধীর মন্থর গতিতে ফেঁপে উঠে শেষে কদমের বনে গিয়ে ইচ্ছে ক’রে পথ হারিয়ে ‘এআমারকিহলোগো’ ভান ধ’রে ছেলেমানুষিতে মেতে উঠতো। এখন গ্রাম কি গ্রাম উজাড়; দেশলায়ের কারখানা গিলে ফেলেছে সবকিছু।

কদমের সে বনও নেই, নদীর সেই ছেলেমানুষিও নেই; এখন ইচ্ছে হলো তো একধারসে সব ভাসিয়ে দিলো, সবকিছু ধ্বংস করে দিলো, ‘আমি তোমাদের কে, আমার যা ইচ্ছে তাই করবো’ ভাবখানা এমন। সবকিছু দেখে, সব কথা ভেবে, হৈরব এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছায়, অনেক কিছু তার দেখা হয়ে গেছে, অনেক, অনেক, আর দরকার নেই তার দেখার, ‘চক্ষু তো এই দুইখান, আর কতো দেখাইবা, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ জীবনের কি খাঁই, কতো কিছু তার চাই, আজ আর তার কোথাও বাঁশপাতার কোনো গন্ধ লেগে নেই, উইঢিপির গন্ধ নেই, এ্যাওলাশ্যাওলার গন্ধেও কত আত্মীয়স্বজন, কতো পালপার্বণ, কতো জন্মমৃত্যুর স্মৃতি ভুরভুর করেছে একসময়। জীবনের এখন গণ্ডা গণ্ডা মাথা, গণ্ডা গণ্ডা চোখ, হাত, নখ, দাঁত, রাবণ কোন ছার; জীবনের এখন সবকিছু চাই, কেবল ভালোবাসা ছাড়া, যতো কিছু আছে, সব-

‘ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ গলায় আকন্দের মালা পরে ‘হে বিরিক্ষ এ অধমের পেন্নাম লইবেননি, হে হনুমানসকল, আপনেরা খুশি থাকিলেই বিশ্ব সংসার লীলাময় হয়, ‘আহা সরলতার কিবা দিব্যকান্তি, মরি মরি’ আপন মনে এইসব ব’লে আর কেউ একা একা কেঁদে ফিরবো না দেবদারু বনে, আর কেউ চৌতালে, একতালায়, টেওটে, ত্রিতালে, ঝাঁপতালে, ঠুমরি ঠেকায় ঢাকে বর্ষাভর ডাহুকের ডাক বাজাবে না, ‘ঈশ্বর হৈরবরে তুমি তুইলা নাও এক সময় দয়া আসে। বলে, ‘দাদা পাও বিছায়া বইলা যে, ঘরে আইবা না? বেইল যাইতাছে না বুঝি!’

ভৈরবের অনুমানই ঠিক, বিকেল ধ’রে আসার পরপরই দূর থেকে হাতাইলের ওপর গনিমিয়াকে দেখা যায়, নিস্তেজ ইছামতির একটা মাথা তখন তীব্র আগুনলালে ঝলসে উঠছে।

গনিমিয়ার হাতে একটা চটের থলে, গায়ে বাবর বিড়ির বিজ্ঞাপন। থলেটা হাতে ঝুলিয়ে তিল খেত কাউন খেত এ খেত সে খেত নিরিখ করতে করতে হাতাইল ধ’রে আপন মনে সে এগিয়ে আসে। কলুবাড়ির চকের পাশে একবার দাঁড়ায় সে, পিঁয়াজের খেত বরাবর বেতঝোপের কোলে জলবোড়ার জট পাকানো মেলা ব’সে গেছে; মাছ গিলে গিলে একেবারে ঢ্যাপ হয়ে আছে সাপগুলো, নড়ার ক্ষমতা নেই। এরা আজ গর ছেঁচে মাছ ধরেছে, ভিটির ভাঙনে ভরট দিয়েছে। এক বয়সে গরু ছাগলের পাল ধরানো দেখতে কলুবাড়ির চারপাশে কতো ঘুরঘুর করেছে, মনে এইসব উঁকি মারে।