০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১০)

হৈরব ও ভৈরব

‘ঈশ্বর, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ হৈরব নিজের কাছে কাঁদবে ব’লে পা বিছিয়ে বসে। কতো কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে সিরাজদিখাঁর সেই পাতক্ষীরের কথা, জীবে স্বাদ লেগে আছে এখনো। মনে পড়ে রামপালের কলামুলোর কথা, গাদিঘাটের কুমড়ো, আড়িয়লবিলের কই মাছ, কত কিছু। আতরপাড়ার সেই দই, আহারে, সব গেল কোথায়। গোটাগ্রাম জুড়ে ছিল কদমের বন, বর্ষার নদী ধীর মন্থর গতিতে ফেঁপে উঠে শেষে কদমের বনে গিয়ে ইচ্ছে ক’রে পথ হারিয়ে ‘এআমারকিহলোগো’ ভান ধ’রে ছেলেমানুষিতে মেতে উঠতো। এখন গ্রাম কি গ্রাম উজাড়; দেশলায়ের কারখানা গিলে ফেলেছে সবকিছু।

কদমের সে বনও নেই, নদীর সেই ছেলেমানুষিও নেই; এখন ইচ্ছে হলো তো একধারসে সব ভাসিয়ে দিলো, সবকিছু ধ্বংস করে দিলো, ‘আমি তোমাদের কে, আমার যা ইচ্ছে তাই করবো’ ভাবখানা এমন। সবকিছু দেখে, সব কথা ভেবে, হৈরব এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছায়, অনেক কিছু তার দেখা হয়ে গেছে, অনেক, অনেক, আর দরকার নেই তার দেখার, ‘চক্ষু তো এই দুইখান, আর কতো দেখাইবা, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ জীবনের কি খাঁই, কতো কিছু তার চাই, আজ আর তার কোথাও বাঁশপাতার কোনো গন্ধ লেগে নেই, উইঢিপির গন্ধ নেই, এ্যাওলাশ্যাওলার গন্ধেও কত আত্মীয়স্বজন, কতো পালপার্বণ, কতো জন্মমৃত্যুর স্মৃতি ভুরভুর করেছে একসময়। জীবনের এখন গণ্ডা গণ্ডা মাথা, গণ্ডা গণ্ডা চোখ, হাত, নখ, দাঁত, রাবণ কোন ছার; জীবনের এখন সবকিছু চাই, কেবল ভালোবাসা ছাড়া, যতো কিছু আছে, সব-

‘ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ গলায় আকন্দের মালা পরে ‘হে বিরিক্ষ এ অধমের পেন্নাম লইবেননি, হে হনুমানসকল, আপনেরা খুশি থাকিলেই বিশ্ব সংসার লীলাময় হয়, ‘আহা সরলতার কিবা দিব্যকান্তি, মরি মরি’ আপন মনে এইসব ব’লে আর কেউ একা একা কেঁদে ফিরবো না দেবদারু বনে, আর কেউ চৌতালে, একতালায়, টেওটে, ত্রিতালে, ঝাঁপতালে, ঠুমরি ঠেকায় ঢাকে বর্ষাভর ডাহুকের ডাক বাজাবে না, ‘ঈশ্বর হৈরবরে তুমি তুইলা নাও এক সময় দয়া আসে। বলে, ‘দাদা পাও বিছায়া বইলা যে, ঘরে আইবা না? বেইল যাইতাছে না বুঝি!’

ভৈরবের অনুমানই ঠিক, বিকেল ধ’রে আসার পরপরই দূর থেকে হাতাইলের ওপর গনিমিয়াকে দেখা যায়, নিস্তেজ ইছামতির একটা মাথা তখন তীব্র আগুনলালে ঝলসে উঠছে।

গনিমিয়ার হাতে একটা চটের থলে, গায়ে বাবর বিড়ির বিজ্ঞাপন। থলেটা হাতে ঝুলিয়ে তিল খেত কাউন খেত এ খেত সে খেত নিরিখ করতে করতে হাতাইল ধ’রে আপন মনে সে এগিয়ে আসে। কলুবাড়ির চকের পাশে একবার দাঁড়ায় সে, পিঁয়াজের খেত বরাবর বেতঝোপের কোলে জলবোড়ার জট পাকানো মেলা ব’সে গেছে; মাছ গিলে গিলে একেবারে ঢ্যাপ হয়ে আছে সাপগুলো, নড়ার ক্ষমতা নেই। এরা আজ গর ছেঁচে মাছ ধরেছে, ভিটির ভাঙনে ভরট দিয়েছে। এক বয়সে গরু ছাগলের পাল ধরানো দেখতে কলুবাড়ির চারপাশে কতো ঘুরঘুর করেছে, মনে এইসব উঁকি মারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১০)

১২:০০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

হৈরব ও ভৈরব

‘ঈশ্বর, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ হৈরব নিজের কাছে কাঁদবে ব’লে পা বিছিয়ে বসে। কতো কথা মনে পড়ে, মনে পড়ে সিরাজদিখাঁর সেই পাতক্ষীরের কথা, জীবে স্বাদ লেগে আছে এখনো। মনে পড়ে রামপালের কলামুলোর কথা, গাদিঘাটের কুমড়ো, আড়িয়লবিলের কই মাছ, কত কিছু। আতরপাড়ার সেই দই, আহারে, সব গেল কোথায়। গোটাগ্রাম জুড়ে ছিল কদমের বন, বর্ষার নদী ধীর মন্থর গতিতে ফেঁপে উঠে শেষে কদমের বনে গিয়ে ইচ্ছে ক’রে পথ হারিয়ে ‘এআমারকিহলোগো’ ভান ধ’রে ছেলেমানুষিতে মেতে উঠতো। এখন গ্রাম কি গ্রাম উজাড়; দেশলায়ের কারখানা গিলে ফেলেছে সবকিছু।

কদমের সে বনও নেই, নদীর সেই ছেলেমানুষিও নেই; এখন ইচ্ছে হলো তো একধারসে সব ভাসিয়ে দিলো, সবকিছু ধ্বংস করে দিলো, ‘আমি তোমাদের কে, আমার যা ইচ্ছে তাই করবো’ ভাবখানা এমন। সবকিছু দেখে, সব কথা ভেবে, হৈরব এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছায়, অনেক কিছু তার দেখা হয়ে গেছে, অনেক, অনেক, আর দরকার নেই তার দেখার, ‘চক্ষু তো এই দুইখান, আর কতো দেখাইবা, ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ জীবনের কি খাঁই, কতো কিছু তার চাই, আজ আর তার কোথাও বাঁশপাতার কোনো গন্ধ লেগে নেই, উইঢিপির গন্ধ নেই, এ্যাওলাশ্যাওলার গন্ধেও কত আত্মীয়স্বজন, কতো পালপার্বণ, কতো জন্মমৃত্যুর স্মৃতি ভুরভুর করেছে একসময়। জীবনের এখন গণ্ডা গণ্ডা মাথা, গণ্ডা গণ্ডা চোখ, হাত, নখ, দাঁত, রাবণ কোন ছার; জীবনের এখন সবকিছু চাই, কেবল ভালোবাসা ছাড়া, যতো কিছু আছে, সব-

‘ঈশ্বর আমারে তুইলা নাও’ গলায় আকন্দের মালা পরে ‘হে বিরিক্ষ এ অধমের পেন্নাম লইবেননি, হে হনুমানসকল, আপনেরা খুশি থাকিলেই বিশ্ব সংসার লীলাময় হয়, ‘আহা সরলতার কিবা দিব্যকান্তি, মরি মরি’ আপন মনে এইসব ব’লে আর কেউ একা একা কেঁদে ফিরবো না দেবদারু বনে, আর কেউ চৌতালে, একতালায়, টেওটে, ত্রিতালে, ঝাঁপতালে, ঠুমরি ঠেকায় ঢাকে বর্ষাভর ডাহুকের ডাক বাজাবে না, ‘ঈশ্বর হৈরবরে তুমি তুইলা নাও এক সময় দয়া আসে। বলে, ‘দাদা পাও বিছায়া বইলা যে, ঘরে আইবা না? বেইল যাইতাছে না বুঝি!’

ভৈরবের অনুমানই ঠিক, বিকেল ধ’রে আসার পরপরই দূর থেকে হাতাইলের ওপর গনিমিয়াকে দেখা যায়, নিস্তেজ ইছামতির একটা মাথা তখন তীব্র আগুনলালে ঝলসে উঠছে।

গনিমিয়ার হাতে একটা চটের থলে, গায়ে বাবর বিড়ির বিজ্ঞাপন। থলেটা হাতে ঝুলিয়ে তিল খেত কাউন খেত এ খেত সে খেত নিরিখ করতে করতে হাতাইল ধ’রে আপন মনে সে এগিয়ে আসে। কলুবাড়ির চকের পাশে একবার দাঁড়ায় সে, পিঁয়াজের খেত বরাবর বেতঝোপের কোলে জলবোড়ার জট পাকানো মেলা ব’সে গেছে; মাছ গিলে গিলে একেবারে ঢ্যাপ হয়ে আছে সাপগুলো, নড়ার ক্ষমতা নেই। এরা আজ গর ছেঁচে মাছ ধরেছে, ভিটির ভাঙনে ভরট দিয়েছে। এক বয়সে গরু ছাগলের পাল ধরানো দেখতে কলুবাড়ির চারপাশে কতো ঘুরঘুর করেছে, মনে এইসব উঁকি মারে।