১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১৭)

হৈরব ও ভৈরব

‘করছ কি করছ কি, তর মাতা বিগরাইছেনি ভৈরব, চিল্লাস ক্যান?’

ভৈরবের চোখ থেকে আগুন ঠিকরে বের হয়, ‘ফিরান দিয়া বহেন, ফিরান দিয়া বহেন, দশখুশি বাজাই দ্যাহেন ক্যামনে, মাইনশের চামড়ার ছানিতে দ্যাহেন কেমুন বাজে…’

সরোষে সে বাঁশের কাচা চালায়।

প্রাণভয়ে ভীত হতচকিত গনিমিয়া খেতের ওপর গড়ান খেয়ে খেয়ে ততোক্ষণে বেশ খানিকটা দূরে সরে গিয়েছে, তার কানের ভেতরে তখন তুবড়িবাঁশির চিৎকার; দানবীয় উল্লাসে মূর্তিমান ভৈরব তখনো কাচার মাথায় আগুনের ফুলকি ছোটাচ্ছে।

গনিমিয়ার পিঠ নয়, পরিশ্রান্ত ভৈরব একসময় অবাক বিস্ময়ে দেখে এতোক্ষণ সে তার নিজের ঢাকের গায়েই সর্বশক্তি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত হেনেছে; চামড়ার দেয়াল আর ছানি ফেঁসে গেছে, চুরচুর হয়ে ছিটকে পড়েছে টনটনে আমকাঠ, বেঘোরে নিজের ঢাকটাকেই চুরমার করেছে এতোক্ষণ।

‘ল, তর কাচা ল,’ কলুবাড়ির বাঁশঝাড়ের দিকে সজোরে সেটাকে ছুড়ে দিয়ে ভৈরব বলে, ‘ধর, তর ছিট তরে ফিরায়া দিলাম,’ তারপর সে শুরু করে দৌড়; মাথার ভেতরের বিদ্যুৎচমকে এক একবার ঝলসে ওঠে কয়কীর্তন

গ্রাম, ঝলসে ওঠে ঋষিদাসদের জাফরিকাটা মুখ আর বর্শার ফলা, মশালের আলো।

ইছামতির পাড়ের মানুষগুলো এক একটা মাংসপিণ্ডমাত্র, আর কয়কীর্তনের মানুষজন পেয়েছে পদ্মার দুরন্ত স্বভাব; সে রীতিমতো রোমাঞ্চিত হয়।

১৯৭৮

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

প্রতিদিন একটি রুমাল (পর্ব-১৭)

১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

হৈরব ও ভৈরব

‘করছ কি করছ কি, তর মাতা বিগরাইছেনি ভৈরব, চিল্লাস ক্যান?’

ভৈরবের চোখ থেকে আগুন ঠিকরে বের হয়, ‘ফিরান দিয়া বহেন, ফিরান দিয়া বহেন, দশখুশি বাজাই দ্যাহেন ক্যামনে, মাইনশের চামড়ার ছানিতে দ্যাহেন কেমুন বাজে…’

সরোষে সে বাঁশের কাচা চালায়।

প্রাণভয়ে ভীত হতচকিত গনিমিয়া খেতের ওপর গড়ান খেয়ে খেয়ে ততোক্ষণে বেশ খানিকটা দূরে সরে গিয়েছে, তার কানের ভেতরে তখন তুবড়িবাঁশির চিৎকার; দানবীয় উল্লাসে মূর্তিমান ভৈরব তখনো কাচার মাথায় আগুনের ফুলকি ছোটাচ্ছে।

গনিমিয়ার পিঠ নয়, পরিশ্রান্ত ভৈরব একসময় অবাক বিস্ময়ে দেখে এতোক্ষণ সে তার নিজের ঢাকের গায়েই সর্বশক্তি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত হেনেছে; চামড়ার দেয়াল আর ছানি ফেঁসে গেছে, চুরচুর হয়ে ছিটকে পড়েছে টনটনে আমকাঠ, বেঘোরে নিজের ঢাকটাকেই চুরমার করেছে এতোক্ষণ।

‘ল, তর কাচা ল,’ কলুবাড়ির বাঁশঝাড়ের দিকে সজোরে সেটাকে ছুড়ে দিয়ে ভৈরব বলে, ‘ধর, তর ছিট তরে ফিরায়া দিলাম,’ তারপর সে শুরু করে দৌড়; মাথার ভেতরের বিদ্যুৎচমকে এক একবার ঝলসে ওঠে কয়কীর্তন

গ্রাম, ঝলসে ওঠে ঋষিদাসদের জাফরিকাটা মুখ আর বর্শার ফলা, মশালের আলো।

ইছামতির পাড়ের মানুষগুলো এক একটা মাংসপিণ্ডমাত্র, আর কয়কীর্তনের মানুষজন পেয়েছে পদ্মার দুরন্ত স্বভাব; সে রীতিমতো রোমাঞ্চিত হয়।

১৯৭৮