০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত , অনিশ্চয়তায় সমঝোতা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন ঘিরে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, বললেন ডিএমপি কমিশনার শ্রমিক শ্রেণির ক্ষোভ, ভাঙা আস্থা এবং ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন সন্ধিক্ষণ মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ১৬ হোটেলের চেয়েও ব্যয়বহুল আশ্রয়শিবির! যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক জনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক ৬-০ জয় মেক্সিকোর ঐতিহাসিক জয়, সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্বাগতিকরা নতুন সমঝোতার পথে ওয়াশিংটন-তেহরান: কেন কূটনীতির ভাষাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় বাধা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬৩)

সপ্তম পরিচ্ছেদ

এমন সময় চুবুক কাছে এসে দাঁড়ালেন।

বললুম, ‘বসুন। চা খাবেন নাকি একটু?’

‘সময় নেই। বরিস, যাবে নাকি আমার সঙ্গে? কও।’

‘হ্যাঁ,’ সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলুম আমি। কোথায় তিনি আমায় সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছেন তা জানতে পর্যন্ত চাইলুম না।

‘তাইলে, জলদি চা-টুক শেষ কর। আমাদের জন্যি গাড়ি দাঁড়িয়ে আচে।’

‘গাড়ি কী জন্যে, চুবুক?’

আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে তখন চুবুক বললেন যে আমাদের বাহিনী তার পরদিন ভোরে যাত্রা শুরু করে ওই জায়গাটা থেকে অল্প খানিক দূরে বেগিচেভের খনি-মজুরদের যে সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ করছে তার সঙ্গে মিলতে যাবে। তারপর ওদের সঙ্গে মিলিত হবার পর একসঙ্গে আমরা লাল ফৌজের প্রধান অংশের সঙ্গে মেলবার জন্যে এগোতে থাকব।

কিন্তু এটা করতে গেলে আমাদের ওই তিনজন সাংঘাতিক আহত লোককে সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না, কারণ এই যাত্রায় আমাদের শ্বেতরক্ষী আর জার্মানদের দখল-করা এলাকা পার হয়ে যেতে হবে।

আমরা তখন যেখানে ছিলুম সেখান থেকে কাছেই ছিল একটা মৌমাছিচাষের বাগান। জায়গাটা অজ পাঁড়া-গা, লোক-চলাচলের এলাকা থেকে একটু দূরে। তাছাড়া মৌমাছি-পালক লোকটি ছিল লাল ফৌজের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন। আহতরা সেরে না-ওঠা পর্যন্ত সে তাদের আশ্রয় দিতে রাজী হয়েছিল। চুবুক তখন ওই বাগান থেকেই একটা একঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে আসছিলেন। জানালেন, অন্ধকার থাকতে-থাকতেই আহতদের সরিয়ে ফেলতে হবে।

‘আর কেউ আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে?’

‘না। শুধু আমরা দুজনা। আমি একাই সামলাতে পারতাম, তবে ঘোড়াটা একটুক বেয়াড়া বলেই মুস্কিল। আমাদের একজনরে ঘোড়ার লাগাম ধরে ওরে চালাতি হবে, অপর জন জখমি কমরেডদের দেখাশোনা করবে। তা, তুমি যাবে নাকি?’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬৩)

০৮:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫

সপ্তম পরিচ্ছেদ

এমন সময় চুবুক কাছে এসে দাঁড়ালেন।

বললুম, ‘বসুন। চা খাবেন নাকি একটু?’

‘সময় নেই। বরিস, যাবে নাকি আমার সঙ্গে? কও।’

‘হ্যাঁ,’ সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলুম আমি। কোথায় তিনি আমায় সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছেন তা জানতে পর্যন্ত চাইলুম না।

‘তাইলে, জলদি চা-টুক শেষ কর। আমাদের জন্যি গাড়ি দাঁড়িয়ে আচে।’

‘গাড়ি কী জন্যে, চুবুক?’

আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে তখন চুবুক বললেন যে আমাদের বাহিনী তার পরদিন ভোরে যাত্রা শুরু করে ওই জায়গাটা থেকে অল্প খানিক দূরে বেগিচেভের খনি-মজুরদের যে সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধ করছে তার সঙ্গে মিলতে যাবে। তারপর ওদের সঙ্গে মিলিত হবার পর একসঙ্গে আমরা লাল ফৌজের প্রধান অংশের সঙ্গে মেলবার জন্যে এগোতে থাকব।

কিন্তু এটা করতে গেলে আমাদের ওই তিনজন সাংঘাতিক আহত লোককে সঙ্গে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না, কারণ এই যাত্রায় আমাদের শ্বেতরক্ষী আর জার্মানদের দখল-করা এলাকা পার হয়ে যেতে হবে।

আমরা তখন যেখানে ছিলুম সেখান থেকে কাছেই ছিল একটা মৌমাছিচাষের বাগান। জায়গাটা অজ পাঁড়া-গা, লোক-চলাচলের এলাকা থেকে একটু দূরে। তাছাড়া মৌমাছি-পালক লোকটি ছিল লাল ফৌজের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন। আহতরা সেরে না-ওঠা পর্যন্ত সে তাদের আশ্রয় দিতে রাজী হয়েছিল। চুবুক তখন ওই বাগান থেকেই একটা একঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে আসছিলেন। জানালেন, অন্ধকার থাকতে-থাকতেই আহতদের সরিয়ে ফেলতে হবে।

‘আর কেউ আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে?’

‘না। শুধু আমরা দুজনা। আমি একাই সামলাতে পারতাম, তবে ঘোড়াটা একটুক বেয়াড়া বলেই মুস্কিল। আমাদের একজনরে ঘোড়ার লাগাম ধরে ওরে চালাতি হবে, অপর জন জখমি কমরেডদের দেখাশোনা করবে। তা, তুমি যাবে নাকি?’