১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৯৪ জনের মৃত্যু: মোটরসাইকেল সবচেয়ে মরণঘাতী বাহন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২১০)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • 128

নজরুল: পরিশিষ্ট

এই খবর জানিতে পারিয়া আমি তো আকাশ হইতে পাড়িলাম। কবিপুত্রকে বলিলাম, “করিয়াছ কি? যেখানে আমি প্রকাশকদের কাছে ২৫% রয়ালটি পাই সেখানে তুমি মাত্র ১৫% রয়ালটিতে প্রকাশকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হইলে?” কিন্তু যে দুগ্ধ মাটিতে পড়িয়া গিয়াছে, তার জন্য আর অনুতাপ করিলে কি হইবে।

এই পুস্তকখানা ছাপা হইলে বিস্মিত হইয়া দেখিলাম পুস্তকের কলেবরে প্রকাশক লিখিয়াছেন, প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণও ছাপা হইয়াছে। তাহাতেও অনুরূপ সর্বস্বত্ব প্রকাশক কর্তৃক সংরক্ষিত কথাটি লিপিবদ্ধ আছে। আমার যতদূর বিশ্বাস এই পুস্তক ছাপা হওয়ার আগে প্রকাশক যে তিন চার শত টাকা কবি-পুত্রকে দিয়াছিলেন তাহার পরে আর কোনো অর্থ কবির পরিবারকে তিনি দেন নাই। অধুনা ঢাকা হইতে কয়েকজন প্রকাশক কবির বইগুলি অবলীলাক্রমে ছাপাইয়া চলিয়াছেন। খুব সম্ভব তাঁহারা কেহই কবির পরিবারকে এজন্য কোনোই অর্থ প্রদান করেন নাই। এইভাবেই আমরা কবির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। আমাদের গভর্নমেন্টের কি এ বিষয়ে কিছুই করিবার নাই?

কলিকাতা গেলেই একবার কবিকে দেখিয়া আসি। কবির সামনে বসিয়া তাঁর কবিতাগুলি আবৃত্তি করি।

সেবার আমি অসুস্থ হইয়া কলিকাতার হাসপাতালে। হাসপাতাল হইতে ছুটি লইয়া একদিন কবিকে দেখিতে গেলাম। ভাবি কিছুতেই আমাকে দুপুরের আহার না করিয়া আসিতে দিলেন না। কবির শাশুড়ি সেই যে কবে উধাও হইয়া চলিয়া গিয়াছেন আর ফিরিয়া আসেন নাই। কবির শয্যাপার্শ্বে বসিয়া কত কথাই না মনে পড়িতে লাগিল।

ভাব-বিহ্বল কবি একবার সিনেমার অভিনেত্রী কাননবালার বাড়ি যাইয়া সেই যে রহিলেন, আর ফিরিয়া আসেন না।

প্রায় পনের-যোল দিন কাটিয়া গেল। একদিন খালাআম্মা হিজ মাস্টারস্ ভয়েসের দারোয়ান দশরথের নিকট হইতে কাননবালার ঠিকানা সংগ্রহ করিলেন। তারপর একটি ট্যাক্সিতে নিজের মেয়েকে সঙ্গে লইয়া রণরঙ্গিণীর বেশে কাননবালার বাড়ি যাইয়া উপস্থিত হইলেন। কবি বোধ হয় তখন কাননবালাকে গান শিখাইতেছিলেন। খালাআম্মা বলিতে লাগিলেন, “পাজি কোথাকার।

তোমার জন্য আমরা জাতি ছেড়েছি, ধর্ম ছেড়েছি। আমার মেয়ে কলঙ্কের ডালা মাথায় করে একদিন তোমার ঘর করতে এসেছিল, আর তাকে ভুলে আজ তুমি একজন সিনেমার অভিনেত্রীর ঘরে বসে আছ? শিগগির গাড়িতে যেয়ে ওঠ।” অনুগত বিড়ালটির মতো কবি যাইয়া গাড়িতে বসিলেন। কবি সেই যে কাননবালার গৃহ হইতে বাহির হইয়া আসিলেন আর সেখানে কখনও ফিরিয়া যান নাই।

খালাআম্মার মতো ব্যক্তিত্ব-সম্পন্ন মহিলা আর কোথাও দেখি নাই। এত বড় যে বিদ্রোহী কবি তাঁকে খালাআম্মা যেন হাতের পুতুলটি করিয়া রাখিয়াছিলেন। এই পুতুল মাঝে মাঝে সকল মমতার বাঁধন কাটিয়া গিয়াছেন। খালাআম্মা আবার তাঁহাকে ধরিয়া আনিয়াছেন। কিন্তু খালাআম্মা যে চিরজনমের মতো অভিমান করিয়া চলিয়া গেলেন আর কেহই তাঁহাকে ফিরাইয়া আনিতে পারিল না। কবি যদি সুস্থ হইয়া উঠিতেন তবে হয়তো তিনি খালাআম্মাকে আবার ফিরাইয়া আনিতে পারিতেন।

 

চলবে…..

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২১০)

১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

নজরুল: পরিশিষ্ট

এই খবর জানিতে পারিয়া আমি তো আকাশ হইতে পাড়িলাম। কবিপুত্রকে বলিলাম, “করিয়াছ কি? যেখানে আমি প্রকাশকদের কাছে ২৫% রয়ালটি পাই সেখানে তুমি মাত্র ১৫% রয়ালটিতে প্রকাশকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হইলে?” কিন্তু যে দুগ্ধ মাটিতে পড়িয়া গিয়াছে, তার জন্য আর অনুতাপ করিলে কি হইবে।

এই পুস্তকখানা ছাপা হইলে বিস্মিত হইয়া দেখিলাম পুস্তকের কলেবরে প্রকাশক লিখিয়াছেন, প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণও ছাপা হইয়াছে। তাহাতেও অনুরূপ সর্বস্বত্ব প্রকাশক কর্তৃক সংরক্ষিত কথাটি লিপিবদ্ধ আছে। আমার যতদূর বিশ্বাস এই পুস্তক ছাপা হওয়ার আগে প্রকাশক যে তিন চার শত টাকা কবি-পুত্রকে দিয়াছিলেন তাহার পরে আর কোনো অর্থ কবির পরিবারকে তিনি দেন নাই। অধুনা ঢাকা হইতে কয়েকজন প্রকাশক কবির বইগুলি অবলীলাক্রমে ছাপাইয়া চলিয়াছেন। খুব সম্ভব তাঁহারা কেহই কবির পরিবারকে এজন্য কোনোই অর্থ প্রদান করেন নাই। এইভাবেই আমরা কবির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি। আমাদের গভর্নমেন্টের কি এ বিষয়ে কিছুই করিবার নাই?

কলিকাতা গেলেই একবার কবিকে দেখিয়া আসি। কবির সামনে বসিয়া তাঁর কবিতাগুলি আবৃত্তি করি।

সেবার আমি অসুস্থ হইয়া কলিকাতার হাসপাতালে। হাসপাতাল হইতে ছুটি লইয়া একদিন কবিকে দেখিতে গেলাম। ভাবি কিছুতেই আমাকে দুপুরের আহার না করিয়া আসিতে দিলেন না। কবির শাশুড়ি সেই যে কবে উধাও হইয়া চলিয়া গিয়াছেন আর ফিরিয়া আসেন নাই। কবির শয্যাপার্শ্বে বসিয়া কত কথাই না মনে পড়িতে লাগিল।

ভাব-বিহ্বল কবি একবার সিনেমার অভিনেত্রী কাননবালার বাড়ি যাইয়া সেই যে রহিলেন, আর ফিরিয়া আসেন না।

প্রায় পনের-যোল দিন কাটিয়া গেল। একদিন খালাআম্মা হিজ মাস্টারস্ ভয়েসের দারোয়ান দশরথের নিকট হইতে কাননবালার ঠিকানা সংগ্রহ করিলেন। তারপর একটি ট্যাক্সিতে নিজের মেয়েকে সঙ্গে লইয়া রণরঙ্গিণীর বেশে কাননবালার বাড়ি যাইয়া উপস্থিত হইলেন। কবি বোধ হয় তখন কাননবালাকে গান শিখাইতেছিলেন। খালাআম্মা বলিতে লাগিলেন, “পাজি কোথাকার।

তোমার জন্য আমরা জাতি ছেড়েছি, ধর্ম ছেড়েছি। আমার মেয়ে কলঙ্কের ডালা মাথায় করে একদিন তোমার ঘর করতে এসেছিল, আর তাকে ভুলে আজ তুমি একজন সিনেমার অভিনেত্রীর ঘরে বসে আছ? শিগগির গাড়িতে যেয়ে ওঠ।” অনুগত বিড়ালটির মতো কবি যাইয়া গাড়িতে বসিলেন। কবি সেই যে কাননবালার গৃহ হইতে বাহির হইয়া আসিলেন আর সেখানে কখনও ফিরিয়া যান নাই।

খালাআম্মার মতো ব্যক্তিত্ব-সম্পন্ন মহিলা আর কোথাও দেখি নাই। এত বড় যে বিদ্রোহী কবি তাঁকে খালাআম্মা যেন হাতের পুতুলটি করিয়া রাখিয়াছিলেন। এই পুতুল মাঝে মাঝে সকল মমতার বাঁধন কাটিয়া গিয়াছেন। খালাআম্মা আবার তাঁহাকে ধরিয়া আনিয়াছেন। কিন্তু খালাআম্মা যে চিরজনমের মতো অভিমান করিয়া চলিয়া গেলেন আর কেহই তাঁহাকে ফিরাইয়া আনিতে পারিল না। কবি যদি সুস্থ হইয়া উঠিতেন তবে হয়তো তিনি খালাআম্মাকে আবার ফিরাইয়া আনিতে পারিতেন।

 

চলবে…..