০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত? রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ? রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ

৫৪০ কোটি টাকার ‘মাদক অর্থ’ পাচারে অভিযুক্ত বিক্রম সিং মজিঠিয়া

  • Sarakhon Report
  • ০৭:২১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • 200

পাঞ্জাবের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী বিক্রম সিং মজিঠিয়ার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের মাদক-চোরাচালান মামলার তদন্তে উঠে এসেছে বিপুল অর্থপাচারের তথ্য। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) ও পাঞ্জাব ভিজিল্যান্স ব্যুরো (ভিবি) যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে৫৪০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ দেশি ও বিদেশি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাদা টাকা বানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার অভিযান
২৬ জুন ভোরে অমৃতসরের বাসভবনসহ রাজ্যের ২৫টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ভিজিল্যান্স ব্যুরো মজিঠিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ১৩(১)(বি) ও ১৩(২) ধারায় প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দাখিল হয়েছেযেখানে অনিয়মিতভাবে সম্পদ জমা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কী বলছে মামলা
এফআইআরের সাত পৃষ্ঠার বয়ানে শেল কোম্পানিরহস্যজনক বিদেশি লেনদেন ও অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিস্তারিত লেনদেন তালিকা রয়েছে।
– ধারা ১৩(১)(বি): সরকারি পদে থেকে কারও কাছে জিম্মা সম্পদ নিজের স্বার্থে ব্যবহার বা দখলে রাখলে অপরাধ।
– ধারা ১৩(২): সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল ও জরিমানা।

মাদক মামলার পূর্বসূত্র
মজিঠিয়া এর আগে এনডিপিএস আইনের ২৫২৭এ ও ২৯ ধারায় রুজু হওয়া মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। আগস্ট ২০২২-এ হাই কোর্ট থেকে জামিন এবং এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট জামিন বহাল রাখে। শর্ত ছিলসাক্ষী প্রভাবিত না করা ও গণমাধ্যমে মন্তব্য না করা। মার্চ ২০২৫-এ এসআইটি তাঁকে হাওয়ালা লেনদেন নিয়ে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

৫৪০ কোটি টাকার অর্থপাচার কোন পথে
এসআইটি ও ভিজিল্যান্স ব্যুরো বলছেমাদক বাণিজ্যের টাকাই নানা পথ ঘুরে মজিঠিয়ার প্রভাবাধীন ব্যবসায় ঢুকেছে। অন্তত ২২ সহযোগী ব্যক্তি ও একাধিক প্রতিষ্ঠান এই চক্রে জড়িত। তিনটি মূল স্থানে তল্লাশিতে ৩০-এর বেশি মোবাইলপাঁচটি ল্যাপটপতিনটি আইপ্যাডদুটি ডেস্কটপহাতে লেখা ডায়েরি ও সারায়া ইন্ডাস্ট্রিজ সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে।

সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
মজিঠিয়া ও তাঁর স্ত্রীর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধি মেলে না। কর ফাঁকি ও আর্থিক জালিয়াতি যাচাই করতে রাজস্ব ও প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও তদন্তে নেমেছে।

আইনগত অগ্রগতি
• বৃহস্পতিবার মোহালির আদালতে মজিঠিয়াকে তোলা হবেআইনজীবীরা দেখা করার অনুমতি পেয়েছেন।
• তদন্ত চলমানবাজেয়াপ্ত ডিভাইস ও নথির ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আরও গ্রেপ্তার ও জব্দের সম্ভাবনা আছে।
• ভিজিল্যান্স ব্যুরো বলছেআদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে বিচারিক ফলাফলে পৌঁছানোই তাদের লক্ষ্য।

দুর্নীতি দমন আইনের নতুন মামলায় মজিঠিয়ার আইনি চাপ বাড়ল। মাদক-সংশ্লিষ্ট অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কে তাঁর ভূমিকাই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। আগামী শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?

৫৪০ কোটি টাকার ‘মাদক অর্থ’ পাচারে অভিযুক্ত বিক্রম সিং মজিঠিয়া

০৭:২১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

পাঞ্জাবের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী বিক্রম সিং মজিঠিয়ার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের মাদক-চোরাচালান মামলার তদন্তে উঠে এসেছে বিপুল অর্থপাচারের তথ্য। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) ও পাঞ্জাব ভিজিল্যান্স ব্যুরো (ভিবি) যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে৫৪০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ অর্থ দেশি ও বিদেশি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাদা টাকা বানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার অভিযান
২৬ জুন ভোরে অমৃতসরের বাসভবনসহ রাজ্যের ২৫টি স্থানে অভিযান চালিয়ে ভিজিল্যান্স ব্যুরো মজিঠিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ১৩(১)(বি) ও ১৩(২) ধারায় প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দাখিল হয়েছেযেখানে অনিয়মিতভাবে সম্পদ জমা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কী বলছে মামলা
এফআইআরের সাত পৃষ্ঠার বয়ানে শেল কোম্পানিরহস্যজনক বিদেশি লেনদেন ও অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিস্তারিত লেনদেন তালিকা রয়েছে।
– ধারা ১৩(১)(বি): সরকারি পদে থেকে কারও কাছে জিম্মা সম্পদ নিজের স্বার্থে ব্যবহার বা দখলে রাখলে অপরাধ।
– ধারা ১৩(২): সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল ও জরিমানা।

মাদক মামলার পূর্বসূত্র
মজিঠিয়া এর আগে এনডিপিএস আইনের ২৫২৭এ ও ২৯ ধারায় রুজু হওয়া মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। আগস্ট ২০২২-এ হাই কোর্ট থেকে জামিন এবং এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট জামিন বহাল রাখে। শর্ত ছিলসাক্ষী প্রভাবিত না করা ও গণমাধ্যমে মন্তব্য না করা। মার্চ ২০২৫-এ এসআইটি তাঁকে হাওয়ালা লেনদেন নিয়ে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

৫৪০ কোটি টাকার অর্থপাচার কোন পথে
এসআইটি ও ভিজিল্যান্স ব্যুরো বলছেমাদক বাণিজ্যের টাকাই নানা পথ ঘুরে মজিঠিয়ার প্রভাবাধীন ব্যবসায় ঢুকেছে। অন্তত ২২ সহযোগী ব্যক্তি ও একাধিক প্রতিষ্ঠান এই চক্রে জড়িত। তিনটি মূল স্থানে তল্লাশিতে ৩০-এর বেশি মোবাইলপাঁচটি ল্যাপটপতিনটি আইপ্যাডদুটি ডেস্কটপহাতে লেখা ডায়েরি ও সারায়া ইন্ডাস্ট্রিজ সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে।

সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
মজিঠিয়া ও তাঁর স্ত্রীর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পদ বৃদ্ধি মেলে না। কর ফাঁকি ও আর্থিক জালিয়াতি যাচাই করতে রাজস্ব ও প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও তদন্তে নেমেছে।

আইনগত অগ্রগতি
• বৃহস্পতিবার মোহালির আদালতে মজিঠিয়াকে তোলা হবেআইনজীবীরা দেখা করার অনুমতি পেয়েছেন।
• তদন্ত চলমানবাজেয়াপ্ত ডিভাইস ও নথির ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আরও গ্রেপ্তার ও জব্দের সম্ভাবনা আছে।
• ভিজিল্যান্স ব্যুরো বলছেআদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে বিচারিক ফলাফলে পৌঁছানোই তাদের লক্ষ্য।

দুর্নীতি দমন আইনের নতুন মামলায় মজিঠিয়ার আইনি চাপ বাড়ল। মাদক-সংশ্লিষ্ট অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্কে তাঁর ভূমিকাই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। আগামী শুনানিতে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গন।