০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’ গাজায় যুদ্ধের নতুন ছায়া: থমকে গেছে পুর্ণগঠন,আবার শক্তি বাড়াচ্ছে হামাস রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মমুগ্ধ মানুষ? বিশ্বজুড়ে জরিপে চমকপ্রদ ফল কমেডি দুনিয়ায় বড় প্রত্যাবর্তন: নতুন সিরিজ ‘রেজি ডিঙ্কিন্স’ ফিরিয়ে আনছে ত্রিশ রকের সেই ঝড় আমেরিকার ‘রাজপরিবার’ কাহিনি: কেনেডি প্রেমগাথা সিরিজে বাস্তবের চেয়ে নাটকই বেশি? ওজন কমানোর বড়ি: চিকিৎসায় নতুন যুগ নাকি নতুন ঝুঁকি? মানুষের রক্তেই ঝুঁকছে মশা! বন ধ্বংসে বাড়ছে নতুন বিপদ রোজার রাতে আমিরাতের ‘ঘাবগা’ ঐতিহ্য: পরিবার-বন্ধুদের মিলনে ভরে ওঠে রাত তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা

তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু, শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব

চীন তিব্বতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে, যার ঘোষণার পরপরই জলবিদ্যুৎ এবং অবকাঠামোগত খাতে শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং শনিবার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হওয়ার আগে যার নাম ইয়ারলুং স্যাংপো, সেই নদীর নিচু প্রবাহে নির্মিতব্য এই বাঁধ প্রকল্পকে বেইজিং “শতাব্দীর প্রকল্প” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

প্রকল্পটিতে পাঁচটি ক্যাসকেড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে, যার বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে আনুমানিক ৩ লাখ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগে নির্মিত এই বাঁধ হবে তিন গর্জ বাঁধের চেয়েও তিনগুণ বেশি উৎপাদনক্ষম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে পাঁচগুণ বড়।

ঘোষণার পর সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না, ডোংফ্যাং ইলেকট্রিক ও হুয়াসিন সিমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারমূল্য ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

সিটি গ্রুপের বিশ্লেষক পিয়ের লাউ বলেন, এই প্রকল্প চীনের অর্থনীতিকে গতি দেবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পরিমাণ বাড়াবে। শুধু বাঁধ নির্মাণেই নয়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণে অতিরিক্ত ৭৬৮ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমন শীর্ষে নেওয়া এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক জলবিদ্যুৎ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চীন গত বছর ১৪.৪ গিগাওয়াট নতুন জলবিদ্যুৎ ক্ষমতা যোগ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১২০ গিগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ হাইড্রো শক্তি লক্ষ্য অতিক্রম করার পথে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প থেকে ডোংফ্যাং ইলেকট্রিক, সিয়ুয়ান ইলেকট্রিক, পিংগাও গ্রুপ ও এক্সজে ইলেকট্রিকের মতো সরঞ্জাম নির্মাতারা লাভবান হবে।

তবে দীর্ঘ নির্মাণকাল নিয়ে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন—এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি ভারতের মতো নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোতে পানি সরবরাহ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দাইওয়া বিশ্লেষক ডেনিস ইপ এক নোটে লিখেছেন, “চীনের কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যে এ প্রকল্প বড় পদক্ষেপ হলেও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কেমন হয় তা বিনিয়োগকারীদের নজরে রাখা উচিত।”

জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’

তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু, শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব

০৫:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

চীন তিব্বতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে, যার ঘোষণার পরপরই জলবিদ্যুৎ এবং অবকাঠামোগত খাতে শেয়ারের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং শনিবার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবাহিত হওয়ার আগে যার নাম ইয়ারলুং স্যাংপো, সেই নদীর নিচু প্রবাহে নির্মিতব্য এই বাঁধ প্রকল্পকে বেইজিং “শতাব্দীর প্রকল্প” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

প্রকল্পটিতে পাঁচটি ক্যাসকেড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে, যার বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে আনুমানিক ৩ লাখ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগে নির্মিত এই বাঁধ হবে তিন গর্জ বাঁধের চেয়েও তিনগুণ বেশি উৎপাদনক্ষম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে পাঁচগুণ বড়।

ঘোষণার পর সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না, ডোংফ্যাং ইলেকট্রিক ও হুয়াসিন সিমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারমূল্য ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

সিটি গ্রুপের বিশ্লেষক পিয়ের লাউ বলেন, এই প্রকল্প চীনের অর্থনীতিকে গতি দেবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পরিমাণ বাড়াবে। শুধু বাঁধ নির্মাণেই নয়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ গ্রিড নির্মাণে অতিরিক্ত ৭৬৮ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমন শীর্ষে নেওয়া এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক জলবিদ্যুৎ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চীন গত বছর ১৪.৪ গিগাওয়াট নতুন জলবিদ্যুৎ ক্ষমতা যোগ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১২০ গিগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ হাইড্রো শক্তি লক্ষ্য অতিক্রম করার পথে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প থেকে ডোংফ্যাং ইলেকট্রিক, সিয়ুয়ান ইলেকট্রিক, পিংগাও গ্রুপ ও এক্সজে ইলেকট্রিকের মতো সরঞ্জাম নির্মাতারা লাভবান হবে।

তবে দীর্ঘ নির্মাণকাল নিয়ে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন—এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি ভারতের মতো নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোতে পানি সরবরাহ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দাইওয়া বিশ্লেষক ডেনিস ইপ এক নোটে লিখেছেন, “চীনের কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যে এ প্রকল্প বড় পদক্ষেপ হলেও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কেমন হয় তা বিনিয়োগকারীদের নজরে রাখা উচিত।”