১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা? উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্র, নকআউট নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন সুপার সাব উন্ডাভের জোড়া গোলে জার্মানির নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত ইমিগ্রেশনের বিশ্বকাপ: ৪৮ দলের মঞ্চে বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের গল্প বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা যুক্তরাজ্যে হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা নেদারল্যান্ডসের দাপুটে জয়, সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে এআই যুগে ‘ভিন্নভাবে চিন্তা করা’ মস্তিষ্কের উত্থান ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এশিয়াজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা, আলোচনায় মেসি-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা

মাংস টক দই বাটা সাদা রসুনে ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে তা ভাজা হতো। পরপর মাংস ও এসব উপকরণ কাঁচা পেঁয়াজ বেটে মিশিয়ে দম দেয়া হতো। দইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে কম জ্বালে জ্বালিয়ে রাখা হতো।

দম দেয়া শেষ হলে এর সঙ্গে মেশানো হতো জাফরান, গোলাপ জল, বাদাম, পেস্তার কুচি, কিসমিশ ইত্যাদি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন ঢাকাবাসীরা মাংস কম ভালোবাসত। সে কারণে মাছের রেজালা পছন্দ করত। রেজালা এখনও চালু, সব সম্প্রদায়ের সব মানুষের জন্য তবে মুঘল আমলের মতো এত উপাদান আর দেয়া হয় না।

নকুলদানা 

এবার আসি কাবাব প্রসঙ্গে। কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ‘ঢাকাই’ কোনটা সেটি নির্দিষ্ট করেননি। ঢাকার কাবাবের বৈশিষ্ট্য, মাছ মাংস দুটি দিয়েই কাবাবকোফতা হতো। আমার মনে হয়েছে মাংসের একটি এবং মাছের কাবাবকে ঢাকাইয়া বলা যেতে পারে।

ইলিশ, চিংড়ি, গজাল, রুই ও শোলমাছের কাবাব হতো। কিন্তু এই কাবাব তৈরির প্রক্রিয়া কি তার উল্লেখ কোথাও নেই। মাংসের মতো কেটে মসলা দিয়েই কি আগুনে সেঁকা হতো? হতে পারে। তবে, হাকিম হাবিবের বইয়ের অনুবাদক হাশেম সুফি ইলিশ কাবাব সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ভাপা ইলিশ বা ‘স্মোকড’ ইলিশকেই হাকিম কাবাব বুঝিয়েছেন। ‘স্মোকড হিলসা’ এখনও উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রিয়, ঘরোয়া নেমন্তন্ত্রের জন্য।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

০৭:০০:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা

মাংস টক দই বাটা সাদা রসুনে ভিজিয়ে রাখা হতো। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে তা ভাজা হতো। পরপর মাংস ও এসব উপকরণ কাঁচা পেঁয়াজ বেটে মিশিয়ে দম দেয়া হতো। দইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে কম জ্বালে জ্বালিয়ে রাখা হতো।

দম দেয়া শেষ হলে এর সঙ্গে মেশানো হতো জাফরান, গোলাপ জল, বাদাম, পেস্তার কুচি, কিসমিশ ইত্যাদি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন ঢাকাবাসীরা মাংস কম ভালোবাসত। সে কারণে মাছের রেজালা পছন্দ করত। রেজালা এখনও চালু, সব সম্প্রদায়ের সব মানুষের জন্য তবে মুঘল আমলের মতো এত উপাদান আর দেয়া হয় না।

নকুলদানা 

এবার আসি কাবাব প্রসঙ্গে। কাবাব মধ্যলাচ্য থেকে শুরু করে উপমহাদেশের সব অঞ্চলে সবসময়ই প্রচলিত ছিল। ঢাকার কাবাব নিয়ে যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেকেই একই ধরনের কাবাবের কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ‘ঢাকাই’ কোনটা সেটি নির্দিষ্ট করেননি। ঢাকার কাবাবের বৈশিষ্ট্য, মাছ মাংস দুটি দিয়েই কাবাবকোফতা হতো। আমার মনে হয়েছে মাংসের একটি এবং মাছের কাবাবকে ঢাকাইয়া বলা যেতে পারে।

ইলিশ, চিংড়ি, গজাল, রুই ও শোলমাছের কাবাব হতো। কিন্তু এই কাবাব তৈরির প্রক্রিয়া কি তার উল্লেখ কোথাও নেই। মাংসের মতো কেটে মসলা দিয়েই কি আগুনে সেঁকা হতো? হতে পারে। তবে, হাকিম হাবিবের বইয়ের অনুবাদক হাশেম সুফি ইলিশ কাবাব সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ভাপা ইলিশ বা ‘স্মোকড’ ইলিশকেই হাকিম কাবাব বুঝিয়েছেন। ‘স্মোকড হিলসা’ এখনও উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রিয়, ঘরোয়া নেমন্তন্ত্রের জন্য।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৯)