০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৬০০ টাকা খরচ, বিক্রি ৬০০—হাওরে ধান নিয়ে কৃষকের হাহাকার সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ: মনোনয়ন বাতিলে ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের মিছিল সাজা থেকে সওয়াল: রাজীব হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পেরারিভালনের আইনজীবী হয়ে ওঠার গল্প হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ দীর্ঘায়িতের প্রস্তুতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে চার্লসের রসিকতা: ‘আমরা না থাকলে আপনারা আজ ফরাসি বলতেন’ চীনের বিশাল বায়োব্যাংক দৌড়, ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দেওয়ার পরিকল্পনা শিল্প ও তারকাদের ঝলকে নিউ মিউজিয়াম গালা, সম্মাননায় লিসা ফিলিপস দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের গেটি হাউসে ক্যাশমিয়ারের ছোঁয়ায় ঝলমলে সন্ধ্যা, ফ্যালকোনেরি ডিনারে তারকাদের সমাগম যুক্তরাষ্ট্র সফরে ক্লান্তির কথা স্বীকার রানি ক্যামিলার, তবুও থামছে না ব্যস্ততা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৭)

মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

আমার পুস্তকালয়ে শিশু-সুপাঠ্য সরল ও বিশদ অর্থপুস্তক সকল বিক্রয়ার্থে প্রস্তুত আছে। বালকগণের যাহাতে অনায়াসে জ্ঞান লাভ হয়, অথচ আহৃত ব্যুৎপত্তির ব্যাঘাত না ঘটে, অর্থপুস্তকে সে বিষয়ের বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা হইয়াছে, অন্যত্র এমন কতকগুলি অর্থপুস্তক প্রকাশিত হয়, সে সকল গিলিতে যাইয়া বালকদের ব্যুৎপত্তির ও রুচির অন্যথা ঘটিয়া থাকে, তাই বলি সাবধান।

সাবধান! ফলদ্বারা তাহার পরিচয় লইবেন। শতাধিক খণ্ড গ্রহণ করিলে বিশেষরূপে কমিশন দেওয়া যাইবে। অপর যাবতীয় পাঠ্য ও অন্যান্য পুস্তক আমার দোকানে প্রাপ্তব্য।” দ্বারকানাথ পাল রচিত ২৩টি পাঠ্যপুস্তকের খোঁজ পেয়েছি। তাঁর দোকানে বই ছাড়াও তিনি মনোহারি দ্রব্যও বিক্রি করতেন-“আমার পুস্তকালয়ে ইংরেজী বাঙ্গালা স্কুলের পাঠ্যপুস্তক, নাটক, যাত্রাবহি, বটতলার বহি এবং নিম্নলিখিত পুস্তক সকল পাওয়া যায়। স্থানীয় রীত্যানুসারে কমিশন দেওয়া গিয়া থাকে। এতজিন্ন নানা প্রকার মনিহারি জিনিষ সুলভ মূল্যে বিক্রয় হয়। নগদ মূল্য পাইলে বিদেশী গ্রাহকগণের নিকট পাঠাইতে পারি।” (১৮৭৮)

এছাড়া, আরও কয়েকজন মালিক ছিলেন যারা ছিলেন পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। কেতাবপট্টির চরিত্র ছিল আলাদা। পুঁথি ও ধর্মীয় পুস্তক বিক্রয়ের কেন্দ্র ছিল কেতাবপট্টি। অধ্যাপক আবদুল কাইউম এর ওপর বিস্তারিত লিখেছেন। তাঁর মতে, “লক্ষণীয় যে, চকবাজারের কেতাবপট্টি শুধু চকবাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশেপাশের মোগলটুলি, বড় কাটারা, ছোট কাটরা, চম্পাতলি, ইমামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানেও বিস্তৃত ছিল।” পুঁথিকারদের মধ্যে হায়দার জান ও মুন্সি আলিমুদ্দিনের দোকান ছিল চকবাজারে, ‘গোলজার’ পুঁথিতে মুন্সী হায়দার জান নিজের দোকানের পরিচয় দিয়েছিলেন-

“এই কেতাবের যার দরকার হইবে। নিজ দোকানে মেরা আসিলে পাইবে। মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

উনিশ শতকের শেষার্ধে ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানের সংখ্যা কত ছিল তা জানা যায়নি। তবে, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করে নিতে পারি এ সংখ্যা ঘাটের বেশি ছিল না এবং এখানকার মতো তখনও অধিকাংশ দোকানের আয়ের প্রধান অংশটি আসতো পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়িকা বিক্রি করে।’

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

 

 

১৬০০ টাকা খরচ, বিক্রি ৬০০—হাওরে ধান নিয়ে কৃষকের হাহাকার

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৭)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

আমার পুস্তকালয়ে শিশু-সুপাঠ্য সরল ও বিশদ অর্থপুস্তক সকল বিক্রয়ার্থে প্রস্তুত আছে। বালকগণের যাহাতে অনায়াসে জ্ঞান লাভ হয়, অথচ আহৃত ব্যুৎপত্তির ব্যাঘাত না ঘটে, অর্থপুস্তকে সে বিষয়ের বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা হইয়াছে, অন্যত্র এমন কতকগুলি অর্থপুস্তক প্রকাশিত হয়, সে সকল গিলিতে যাইয়া বালকদের ব্যুৎপত্তির ও রুচির অন্যথা ঘটিয়া থাকে, তাই বলি সাবধান।

সাবধান! ফলদ্বারা তাহার পরিচয় লইবেন। শতাধিক খণ্ড গ্রহণ করিলে বিশেষরূপে কমিশন দেওয়া যাইবে। অপর যাবতীয় পাঠ্য ও অন্যান্য পুস্তক আমার দোকানে প্রাপ্তব্য।” দ্বারকানাথ পাল রচিত ২৩টি পাঠ্যপুস্তকের খোঁজ পেয়েছি। তাঁর দোকানে বই ছাড়াও তিনি মনোহারি দ্রব্যও বিক্রি করতেন-“আমার পুস্তকালয়ে ইংরেজী বাঙ্গালা স্কুলের পাঠ্যপুস্তক, নাটক, যাত্রাবহি, বটতলার বহি এবং নিম্নলিখিত পুস্তক সকল পাওয়া যায়। স্থানীয় রীত্যানুসারে কমিশন দেওয়া গিয়া থাকে। এতজিন্ন নানা প্রকার মনিহারি জিনিষ সুলভ মূল্যে বিক্রয় হয়। নগদ মূল্য পাইলে বিদেশী গ্রাহকগণের নিকট পাঠাইতে পারি।” (১৮৭৮)

এছাড়া, আরও কয়েকজন মালিক ছিলেন যারা ছিলেন পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। কেতাবপট্টির চরিত্র ছিল আলাদা। পুঁথি ও ধর্মীয় পুস্তক বিক্রয়ের কেন্দ্র ছিল কেতাবপট্টি। অধ্যাপক আবদুল কাইউম এর ওপর বিস্তারিত লিখেছেন। তাঁর মতে, “লক্ষণীয় যে, চকবাজারের কেতাবপট্টি শুধু চকবাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশেপাশের মোগলটুলি, বড় কাটারা, ছোট কাটরা, চম্পাতলি, ইমামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানেও বিস্তৃত ছিল।” পুঁথিকারদের মধ্যে হায়দার জান ও মুন্সি আলিমুদ্দিনের দোকান ছিল চকবাজারে, ‘গোলজার’ পুঁথিতে মুন্সী হায়দার জান নিজের দোকানের পরিচয় দিয়েছিলেন-

“এই কেতাবের যার দরকার হইবে। নিজ দোকানে মেরা আসিলে পাইবে। মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

উনিশ শতকের শেষার্ধে ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানের সংখ্যা কত ছিল তা জানা যায়নি। তবে, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করে নিতে পারি এ সংখ্যা ঘাটের বেশি ছিল না এবং এখানকার মতো তখনও অধিকাংশ দোকানের আয়ের প্রধান অংশটি আসতো পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়িকা বিক্রি করে।’

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)