০৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর গ্রেফতার ও কিং চার্লসের সংক্ষিপ্ত বিবৃতি আসামে ভোটের আগে ‘জনতার চার্জশিট’ প্রকাশ প্রিয়াঙ্কার, রাজ্য সরকারকে তীব্র দুর্নীতির অভিযোগ আইপ্যাক অভিযানে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’: মমতার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ ২২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন এপ্রিল থেকে চলতি মাসেই যমুনা ছাড়বেন ড. ইউনূস, উঠবেন তারেক রহমান পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা এবার ধানমন্ডি অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি রেখে স্লোগান দিয়েছে যুব মহিলা লীগ র‌্যামাদানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আসিফ নজরুলকে ‘মিথ্যুক’ বললেন কোচ সালাউদ্দিন রোজায় লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৭)

মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

আমার পুস্তকালয়ে শিশু-সুপাঠ্য সরল ও বিশদ অর্থপুস্তক সকল বিক্রয়ার্থে প্রস্তুত আছে। বালকগণের যাহাতে অনায়াসে জ্ঞান লাভ হয়, অথচ আহৃত ব্যুৎপত্তির ব্যাঘাত না ঘটে, অর্থপুস্তকে সে বিষয়ের বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা হইয়াছে, অন্যত্র এমন কতকগুলি অর্থপুস্তক প্রকাশিত হয়, সে সকল গিলিতে যাইয়া বালকদের ব্যুৎপত্তির ও রুচির অন্যথা ঘটিয়া থাকে, তাই বলি সাবধান।

সাবধান! ফলদ্বারা তাহার পরিচয় লইবেন। শতাধিক খণ্ড গ্রহণ করিলে বিশেষরূপে কমিশন দেওয়া যাইবে। অপর যাবতীয় পাঠ্য ও অন্যান্য পুস্তক আমার দোকানে প্রাপ্তব্য।” দ্বারকানাথ পাল রচিত ২৩টি পাঠ্যপুস্তকের খোঁজ পেয়েছি। তাঁর দোকানে বই ছাড়াও তিনি মনোহারি দ্রব্যও বিক্রি করতেন-“আমার পুস্তকালয়ে ইংরেজী বাঙ্গালা স্কুলের পাঠ্যপুস্তক, নাটক, যাত্রাবহি, বটতলার বহি এবং নিম্নলিখিত পুস্তক সকল পাওয়া যায়। স্থানীয় রীত্যানুসারে কমিশন দেওয়া গিয়া থাকে। এতজিন্ন নানা প্রকার মনিহারি জিনিষ সুলভ মূল্যে বিক্রয় হয়। নগদ মূল্য পাইলে বিদেশী গ্রাহকগণের নিকট পাঠাইতে পারি।” (১৮৭৮)

এছাড়া, আরও কয়েকজন মালিক ছিলেন যারা ছিলেন পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। কেতাবপট্টির চরিত্র ছিল আলাদা। পুঁথি ও ধর্মীয় পুস্তক বিক্রয়ের কেন্দ্র ছিল কেতাবপট্টি। অধ্যাপক আবদুল কাইউম এর ওপর বিস্তারিত লিখেছেন। তাঁর মতে, “লক্ষণীয় যে, চকবাজারের কেতাবপট্টি শুধু চকবাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশেপাশের মোগলটুলি, বড় কাটারা, ছোট কাটরা, চম্পাতলি, ইমামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানেও বিস্তৃত ছিল।” পুঁথিকারদের মধ্যে হায়দার জান ও মুন্সি আলিমুদ্দিনের দোকান ছিল চকবাজারে, ‘গোলজার’ পুঁথিতে মুন্সী হায়দার জান নিজের দোকানের পরিচয় দিয়েছিলেন-

“এই কেতাবের যার দরকার হইবে। নিজ দোকানে মেরা আসিলে পাইবে। মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

উনিশ শতকের শেষার্ধে ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানের সংখ্যা কত ছিল তা জানা যায়নি। তবে, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করে নিতে পারি এ সংখ্যা ঘাটের বেশি ছিল না এবং এখানকার মতো তখনও অধিকাংশ দোকানের আয়ের প্রধান অংশটি আসতো পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়িকা বিক্রি করে।’

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

 

 

আন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর গ্রেফতার ও কিং চার্লসের সংক্ষিপ্ত বিবৃতি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৭)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

আমার পুস্তকালয়ে শিশু-সুপাঠ্য সরল ও বিশদ অর্থপুস্তক সকল বিক্রয়ার্থে প্রস্তুত আছে। বালকগণের যাহাতে অনায়াসে জ্ঞান লাভ হয়, অথচ আহৃত ব্যুৎপত্তির ব্যাঘাত না ঘটে, অর্থপুস্তকে সে বিষয়ের বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা হইয়াছে, অন্যত্র এমন কতকগুলি অর্থপুস্তক প্রকাশিত হয়, সে সকল গিলিতে যাইয়া বালকদের ব্যুৎপত্তির ও রুচির অন্যথা ঘটিয়া থাকে, তাই বলি সাবধান।

সাবধান! ফলদ্বারা তাহার পরিচয় লইবেন। শতাধিক খণ্ড গ্রহণ করিলে বিশেষরূপে কমিশন দেওয়া যাইবে। অপর যাবতীয় পাঠ্য ও অন্যান্য পুস্তক আমার দোকানে প্রাপ্তব্য।” দ্বারকানাথ পাল রচিত ২৩টি পাঠ্যপুস্তকের খোঁজ পেয়েছি। তাঁর দোকানে বই ছাড়াও তিনি মনোহারি দ্রব্যও বিক্রি করতেন-“আমার পুস্তকালয়ে ইংরেজী বাঙ্গালা স্কুলের পাঠ্যপুস্তক, নাটক, যাত্রাবহি, বটতলার বহি এবং নিম্নলিখিত পুস্তক সকল পাওয়া যায়। স্থানীয় রীত্যানুসারে কমিশন দেওয়া গিয়া থাকে। এতজিন্ন নানা প্রকার মনিহারি জিনিষ সুলভ মূল্যে বিক্রয় হয়। নগদ মূল্য পাইলে বিদেশী গ্রাহকগণের নিকট পাঠাইতে পারি।” (১৮৭৮)

এছাড়া, আরও কয়েকজন মালিক ছিলেন যারা ছিলেন পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা। কেতাবপট্টির চরিত্র ছিল আলাদা। পুঁথি ও ধর্মীয় পুস্তক বিক্রয়ের কেন্দ্র ছিল কেতাবপট্টি। অধ্যাপক আবদুল কাইউম এর ওপর বিস্তারিত লিখেছেন। তাঁর মতে, “লক্ষণীয় যে, চকবাজারের কেতাবপট্টি শুধু চকবাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশেপাশের মোগলটুলি, বড় কাটারা, ছোট কাটরা, চম্পাতলি, ইমামগঞ্জ প্রভৃতি স্থানেও বিস্তৃত ছিল।” পুঁথিকারদের মধ্যে হায়দার জান ও মুন্সি আলিমুদ্দিনের দোকান ছিল চকবাজারে, ‘গোলজার’ পুঁথিতে মুন্সী হায়দার জান নিজের দোকানের পরিচয় দিয়েছিলেন-

“এই কেতাবের যার দরকার হইবে। নিজ দোকানে মেরা আসিলে পাইবে। মিয়া রবিউল্লাহ্ বটে ভগিনী জামাই। দোকানে থাকেন সেই পাবে তার ঠাঁই। চওকের পশ্চিমধারে কেতাব পট্টিতে। ঠিকানা বলিয়া ছিনু সবার খেদমতে।”

উনিশ শতকের শেষার্ধে ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানের সংখ্যা কত ছিল তা জানা যায়নি। তবে, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করে নিতে পারি এ সংখ্যা ঘাটের বেশি ছিল না এবং এখানকার মতো তখনও অধিকাংশ দোকানের আয়ের প্রধান অংশটি আসতো পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়িকা বিক্রি করে।’

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)