১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়িয়ে গেল নতুন রেকর্ডে ইরানে গুপ্তচর সন্দেহে ব্রিটিশ দম্পতির দশ বছরের কারাদণ্ডে কড়া প্রতিবাদ ব্রিটিশ সরকারের আন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর গ্রেফতার ও কিং চার্লসের সংক্ষিপ্ত বিবৃতি আসামে ভোটের আগে ‘জনতার চার্জশিট’ প্রকাশ প্রিয়াঙ্কার, রাজ্য সরকারকে তীব্র দুর্নীতির অভিযোগ আইপ্যাক অভিযানে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’: মমতার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ ২২ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা বিশেষ সংশোধন এপ্রিল থেকে চলতি মাসেই যমুনা ছাড়বেন ড. ইউনূস, উঠবেন তারেক রহমান পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা এবার ধানমন্ডি অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি রেখে স্লোগান দিয়েছে যুব মহিলা লীগ র‌্যামাদানে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন

লাইব্রেরি বা বিক্রির ব্যবস্থা যে সুশৃঙ্খল হচ্ছে আশির দিকে তার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় পত্রিকায়। ১৮৮০ সালে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়-“ঢাকাতে স্টুডেন্টস লাইব্রেরি নামে একটা পুস্তকালয় সংস্থাপিত হইয়াছে।

দেশীয় ও বিদেশীয় গ্রন্থাকারগণ এই লাইব্রেরিতে আপন পুস্তক ডিপোজিট রাখিতেছেন। ছাত্রদের কল্যাণ উদ্দেশ্যেই এই পুস্তকালয় সৃষ্টি সঙ্কল্পিত হইয়াছে। তাহা রক্ষা করিতে কিছুমাত্র ত্রুটি নাই। ব্যবসায়ীর পৈশাচীবৃত্তি, অসততা ও অসাধু ব্যবহার, যাহাতে এই লাইব্রেরিকে স্পর্শ করিতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সবিশেষ সতর্ক। পাঠ্য ও সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তিগণের প্রার্থনায় যাবতীয় পুস্তক সুলভে প্রাপ্ত বা বিদেশীয় গ্রাহকগণের জন্য বিস্তর সুবিধা করা হইয়াছে। কলিকাতার নিয়ম স্মরণ করিয়া পুস্তকের মূল্য ও কমিশন নিরূপিত হয়।

ইতি।

মেনেজার।

শ্রী রাজেন্দ্রমোহন দত্ত ঢাকা মাদ্রাসার হেডমাস্টার।

শ্রী কৃষ্ণদাস রায় ঢাকা স্কুলের হেডমাস্টার।”

সাহিত্যকুসুম-এর প্রচ্ছদ

তবে, পুস্তক ব্যবসায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি সফলতা লাভ করেছিলেন মতিলাল চক্রবর্তী। দ্বারকানাথ পাল। তাঁরা ছিলেন পাঠা ও পাঠা সহায়িকার লেখক। মতিলালের লেখা বা তার প্রকাশনালয় থেকে প্রকাশিত ২৬টি বইয়ের নাম পেয়েছি (১৮৭৬)। নিয়মিত তিনি তাঁর বা যায়।

পুস্তকালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের শেষ প্রাচ্ছদে বিজ্ঞাপন দিতেন। পত্রিকাতেও দিতেন বিস্তারিতভাবে তাঁর পুস্তকালয়ের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে। এমনি দুটি বিজ্ঞাপন-
“পূর্ব বাঙ্গালা পুস্তকালয়।

আমার পুস্তকালয় প্রায় দ্বাদশ বৎসর যাবৎ সংস্থাপিত। ঈশ্বর কৃপায় বিদ্বেষ, অসুয়া, ষড়যন্ত্র ও নানারূপ বিঘ্নবিপত্তি প্রভৃতি বাধা ইহাকে কখনই সংস্পর্শ করিতে পারে নাই। এ দীর্ঘকাল যাবৎ যাঁহাদের সহিত আমার বরারার (ব্যবসা) চলিয়া আসিতেছে, তাহাদের সকলেই জানেন যে, আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন, তবে কলিকাতার থ্যাকার কোম্পানির ক্লার্ক বাবু নন্দনাল সে (অস্পষ্ট) যাবতীয় পুস্তকালয় নিকট অনুসন্ধান করিলেই সবিশেষ জানিতে পারিবেন।…”

১৮৮০ সালে পত্রিকায় আরেকটি বিজ্ঞাপনে মতিলাল জানিয়েছেন-

“সাবধান। সাবধান! সাবধান।

ফলেই না পরিচয়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়িয়ে গেল নতুন রেকর্ডে

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

০৭:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন

লাইব্রেরি বা বিক্রির ব্যবস্থা যে সুশৃঙ্খল হচ্ছে আশির দিকে তার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় পত্রিকায়। ১৮৮০ সালে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়-“ঢাকাতে স্টুডেন্টস লাইব্রেরি নামে একটা পুস্তকালয় সংস্থাপিত হইয়াছে।

দেশীয় ও বিদেশীয় গ্রন্থাকারগণ এই লাইব্রেরিতে আপন পুস্তক ডিপোজিট রাখিতেছেন। ছাত্রদের কল্যাণ উদ্দেশ্যেই এই পুস্তকালয় সৃষ্টি সঙ্কল্পিত হইয়াছে। তাহা রক্ষা করিতে কিছুমাত্র ত্রুটি নাই। ব্যবসায়ীর পৈশাচীবৃত্তি, অসততা ও অসাধু ব্যবহার, যাহাতে এই লাইব্রেরিকে স্পর্শ করিতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সবিশেষ সতর্ক। পাঠ্য ও সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তিগণের প্রার্থনায় যাবতীয় পুস্তক সুলভে প্রাপ্ত বা বিদেশীয় গ্রাহকগণের জন্য বিস্তর সুবিধা করা হইয়াছে। কলিকাতার নিয়ম স্মরণ করিয়া পুস্তকের মূল্য ও কমিশন নিরূপিত হয়।

ইতি।

মেনেজার।

শ্রী রাজেন্দ্রমোহন দত্ত ঢাকা মাদ্রাসার হেডমাস্টার।

শ্রী কৃষ্ণদাস রায় ঢাকা স্কুলের হেডমাস্টার।”

সাহিত্যকুসুম-এর প্রচ্ছদ

তবে, পুস্তক ব্যবসায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি সফলতা লাভ করেছিলেন মতিলাল চক্রবর্তী। দ্বারকানাথ পাল। তাঁরা ছিলেন পাঠা ও পাঠা সহায়িকার লেখক। মতিলালের লেখা বা তার প্রকাশনালয় থেকে প্রকাশিত ২৬টি বইয়ের নাম পেয়েছি (১৮৭৬)। নিয়মিত তিনি তাঁর বা যায়।

পুস্তকালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের শেষ প্রাচ্ছদে বিজ্ঞাপন দিতেন। পত্রিকাতেও দিতেন বিস্তারিতভাবে তাঁর পুস্তকালয়ের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে। এমনি দুটি বিজ্ঞাপন-
“পূর্ব বাঙ্গালা পুস্তকালয়।

আমার পুস্তকালয় প্রায় দ্বাদশ বৎসর যাবৎ সংস্থাপিত। ঈশ্বর কৃপায় বিদ্বেষ, অসুয়া, ষড়যন্ত্র ও নানারূপ বিঘ্নবিপত্তি প্রভৃতি বাধা ইহাকে কখনই সংস্পর্শ করিতে পারে নাই। এ দীর্ঘকাল যাবৎ যাঁহাদের সহিত আমার বরারার (ব্যবসা) চলিয়া আসিতেছে, তাহাদের সকলেই জানেন যে, আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন, তবে কলিকাতার থ্যাকার কোম্পানির ক্লার্ক বাবু নন্দনাল সে (অস্পষ্ট) যাবতীয় পুস্তকালয় নিকট অনুসন্ধান করিলেই সবিশেষ জানিতে পারিবেন।…”

১৮৮০ সালে পত্রিকায় আরেকটি বিজ্ঞাপনে মতিলাল জানিয়েছেন-

“সাবধান। সাবধান! সাবধান।

ফলেই না পরিচয়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)