০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৬০০ টাকা খরচ, বিক্রি ৬০০—হাওরে ধান নিয়ে কৃষকের হাহাকার সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ: মনোনয়ন বাতিলে ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের মিছিল সাজা থেকে সওয়াল: রাজীব হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত পেরারিভালনের আইনজীবী হয়ে ওঠার গল্প হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ দীর্ঘায়িতের প্রস্তুতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে চার্লসের রসিকতা: ‘আমরা না থাকলে আপনারা আজ ফরাসি বলতেন’ চীনের বিশাল বায়োব্যাংক দৌড়, ওষুধ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে টক্কর দেওয়ার পরিকল্পনা শিল্প ও তারকাদের ঝলকে নিউ মিউজিয়াম গালা, সম্মাননায় লিসা ফিলিপস দুই মাসের বিরতি শেষে তেঁতুলিয়ায় ফিরছে জেলেদের স্বপ্ন, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চূড়ান্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের গেটি হাউসে ক্যাশমিয়ারের ছোঁয়ায় ঝলমলে সন্ধ্যা, ফ্যালকোনেরি ডিনারে তারকাদের সমাগম যুক্তরাষ্ট্র সফরে ক্লান্তির কথা স্বীকার রানি ক্যামিলার, তবুও থামছে না ব্যস্ততা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন

লাইব্রেরি বা বিক্রির ব্যবস্থা যে সুশৃঙ্খল হচ্ছে আশির দিকে তার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় পত্রিকায়। ১৮৮০ সালে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়-“ঢাকাতে স্টুডেন্টস লাইব্রেরি নামে একটা পুস্তকালয় সংস্থাপিত হইয়াছে।

দেশীয় ও বিদেশীয় গ্রন্থাকারগণ এই লাইব্রেরিতে আপন পুস্তক ডিপোজিট রাখিতেছেন। ছাত্রদের কল্যাণ উদ্দেশ্যেই এই পুস্তকালয় সৃষ্টি সঙ্কল্পিত হইয়াছে। তাহা রক্ষা করিতে কিছুমাত্র ত্রুটি নাই। ব্যবসায়ীর পৈশাচীবৃত্তি, অসততা ও অসাধু ব্যবহার, যাহাতে এই লাইব্রেরিকে স্পর্শ করিতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সবিশেষ সতর্ক। পাঠ্য ও সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তিগণের প্রার্থনায় যাবতীয় পুস্তক সুলভে প্রাপ্ত বা বিদেশীয় গ্রাহকগণের জন্য বিস্তর সুবিধা করা হইয়াছে। কলিকাতার নিয়ম স্মরণ করিয়া পুস্তকের মূল্য ও কমিশন নিরূপিত হয়।

ইতি।

মেনেজার।

শ্রী রাজেন্দ্রমোহন দত্ত ঢাকা মাদ্রাসার হেডমাস্টার।

শ্রী কৃষ্ণদাস রায় ঢাকা স্কুলের হেডমাস্টার।”

সাহিত্যকুসুম-এর প্রচ্ছদ

তবে, পুস্তক ব্যবসায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি সফলতা লাভ করেছিলেন মতিলাল চক্রবর্তী। দ্বারকানাথ পাল। তাঁরা ছিলেন পাঠা ও পাঠা সহায়িকার লেখক। মতিলালের লেখা বা তার প্রকাশনালয় থেকে প্রকাশিত ২৬টি বইয়ের নাম পেয়েছি (১৮৭৬)। নিয়মিত তিনি তাঁর বা যায়।

পুস্তকালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের শেষ প্রাচ্ছদে বিজ্ঞাপন দিতেন। পত্রিকাতেও দিতেন বিস্তারিতভাবে তাঁর পুস্তকালয়ের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে। এমনি দুটি বিজ্ঞাপন-
“পূর্ব বাঙ্গালা পুস্তকালয়।

আমার পুস্তকালয় প্রায় দ্বাদশ বৎসর যাবৎ সংস্থাপিত। ঈশ্বর কৃপায় বিদ্বেষ, অসুয়া, ষড়যন্ত্র ও নানারূপ বিঘ্নবিপত্তি প্রভৃতি বাধা ইহাকে কখনই সংস্পর্শ করিতে পারে নাই। এ দীর্ঘকাল যাবৎ যাঁহাদের সহিত আমার বরারার (ব্যবসা) চলিয়া আসিতেছে, তাহাদের সকলেই জানেন যে, আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন, তবে কলিকাতার থ্যাকার কোম্পানির ক্লার্ক বাবু নন্দনাল সে (অস্পষ্ট) যাবতীয় পুস্তকালয় নিকট অনুসন্ধান করিলেই সবিশেষ জানিতে পারিবেন।…”

১৮৮০ সালে পত্রিকায় আরেকটি বিজ্ঞাপনে মতিলাল জানিয়েছেন-

“সাবধান। সাবধান! সাবধান।

ফলেই না পরিচয়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

১৬০০ টাকা খরচ, বিক্রি ৬০০—হাওরে ধান নিয়ে কৃষকের হাহাকার

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৬)

০৭:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন

লাইব্রেরি বা বিক্রির ব্যবস্থা যে সুশৃঙ্খল হচ্ছে আশির দিকে তার কিছু উদাহরণ পাওয়া যায় পত্রিকায়। ১৮৮০ সালে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়-“ঢাকাতে স্টুডেন্টস লাইব্রেরি নামে একটা পুস্তকালয় সংস্থাপিত হইয়াছে।

দেশীয় ও বিদেশীয় গ্রন্থাকারগণ এই লাইব্রেরিতে আপন পুস্তক ডিপোজিট রাখিতেছেন। ছাত্রদের কল্যাণ উদ্দেশ্যেই এই পুস্তকালয় সৃষ্টি সঙ্কল্পিত হইয়াছে। তাহা রক্ষা করিতে কিছুমাত্র ত্রুটি নাই। ব্যবসায়ীর পৈশাচীবৃত্তি, অসততা ও অসাধু ব্যবহার, যাহাতে এই লাইব্রেরিকে স্পর্শ করিতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সবিশেষ সতর্ক। পাঠ্য ও সুরুচিসম্পন্ন ব্যক্তিগণের প্রার্থনায় যাবতীয় পুস্তক সুলভে প্রাপ্ত বা বিদেশীয় গ্রাহকগণের জন্য বিস্তর সুবিধা করা হইয়াছে। কলিকাতার নিয়ম স্মরণ করিয়া পুস্তকের মূল্য ও কমিশন নিরূপিত হয়।

ইতি।

মেনেজার।

শ্রী রাজেন্দ্রমোহন দত্ত ঢাকা মাদ্রাসার হেডমাস্টার।

শ্রী কৃষ্ণদাস রায় ঢাকা স্কুলের হেডমাস্টার।”

সাহিত্যকুসুম-এর প্রচ্ছদ

তবে, পুস্তক ব্যবসায় বোধহয় সবচেয়ে বেশি সফলতা লাভ করেছিলেন মতিলাল চক্রবর্তী। দ্বারকানাথ পাল। তাঁরা ছিলেন পাঠা ও পাঠা সহায়িকার লেখক। মতিলালের লেখা বা তার প্রকাশনালয় থেকে প্রকাশিত ২৬টি বইয়ের নাম পেয়েছি (১৮৭৬)। নিয়মিত তিনি তাঁর বা যায়।

পুস্তকালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের শেষ প্রাচ্ছদে বিজ্ঞাপন দিতেন। পত্রিকাতেও দিতেন বিস্তারিতভাবে তাঁর পুস্তকালয়ের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে। এমনি দুটি বিজ্ঞাপন-
“পূর্ব বাঙ্গালা পুস্তকালয়।

আমার পুস্তকালয় প্রায় দ্বাদশ বৎসর যাবৎ সংস্থাপিত। ঈশ্বর কৃপায় বিদ্বেষ, অসুয়া, ষড়যন্ত্র ও নানারূপ বিঘ্নবিপত্তি প্রভৃতি বাধা ইহাকে কখনই সংস্পর্শ করিতে পারে নাই। এ দীর্ঘকাল যাবৎ যাঁহাদের সহিত আমার বরারার (ব্যবসা) চলিয়া আসিতেছে, তাহাদের সকলেই জানেন যে, আমার যাবতীয় কার্য্য অতীব পরিষ্কৃত, বিশুদ্ধ ও ছলনা পরিশূন্য যদি কেহ কোন কারণে আমাদের ব্যবসায়ের অবস্থা জানিতে অভিলাষ করেন, তবে কলিকাতার থ্যাকার কোম্পানির ক্লার্ক বাবু নন্দনাল সে (অস্পষ্ট) যাবতীয় পুস্তকালয় নিকট অনুসন্ধান করিলেই সবিশেষ জানিতে পারিবেন।…”

১৮৮০ সালে পত্রিকায় আরেকটি বিজ্ঞাপনে মতিলাল জানিয়েছেন-

“সাবধান। সাবধান! সাবধান।

ফলেই না পরিচয়।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬৫)