০৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
ট্রাম্প বললেন ভেনেজুয়েলার আকাশপথ ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত জিন্নাহর ফেডারেল কোর্ট ছিল এক সেতু: ২৭তম সংশোধনী সেই সেতুটি পুড়িয়ে দিল পাকিস্তানে রাজনৈতিক বন্দিদের সাক্ষাৎ–বিতর্ক: কারাবিধি আসলে কী বলে আমেরিকায় লেফটোভার বিপ্লব: মুদ্রাস্ফীতির চাপে রান্নাঘরে ফিরে আসছে সৃজনশীলতা ওয়াশিংটন হত্যাকাণ্ডের পর ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন দমন: ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার ইসরায়েলের সতর্কতা: ইরানের সঙ্গে আরেক দফা যুদ্ধ কি সামনে দাঁড়িয়ে? ইরানের নতুন বার্তা: পরমাণু আলোচনায় ফেরার বিরল সুযোগ এখনই ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে উদ্বেগে অরিগনের উপকূলীয় মাছধরা শহর কাবুলের ইন্টারকনটিনেন্টাল: জাঁকজমক, যুদ্ধ আর মানুষের ভূতের মতো স্মৃতি সামুদ্রিক ফাঁদ টেনে তুলে নিল নেকড়ে: মানুষের রেখে যাওয়া ‘যন্ত্র’ ব্যবহার করে অবাক আচরণ

ট্রাম্পের নির্দেশে ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর লিসা কুক অপসারিত

ট্রাম্পের হঠাৎ ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এ পদক্ষেপকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর চলমান বিরোধের বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল এ প্রকাশিত এক চিঠিতে কুককে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, মর্টগেজ সংক্রান্ত নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে। তিনি দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী তাঁর এই ক্ষমতা রয়েছে।

জবাবে কুক স্পষ্ট করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং তিনি কোনো ভাবেই পদত্যাগ করবেন না। কুক বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনি ভিত্তি ছাড়াই আমাকে ‘কারণ দেখিয়ে’ বরখাস্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখব।”

ফেডের নীরবতা ও ট্রাম্পের চাপ

ফেডারেল রিজার্ভ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সুদের হার কমাতে অনীহা দেখানোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। তিনি একাধিকবার পাওয়েলকে সরানোর কথাও বলেছেন।

নজিরবিহীন ঘটনা

লিসা কুক ফেড বোর্ডে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১১১ বছরের ইতিহাসে ফেডের গভর্নরকে প্রেসিডেন্ট সরিয়ে দেওয়ার এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পদক্ষেপ আইনি লড়াইয়ে গড়াতে পারে এবং হোয়াইট হাউসকে আদালতে প্রমাণ দিতে হতে পারে।

অভিযোগের বিস্তারিত

ট্রাম্পের চিঠিতে বলা হয়, কুক প্রথমে মিশিগানে একটি বাড়ির জন্য মর্টগেজ নেন এবং সেখানে এক বছরের জন্য বসবাসের প্রতিশ্রুতি দেন। দুই সপ্তাহ পর জর্জিয়ায় আরেকটি সম্পত্তির জন্য একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরেকটি নথি স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প এটিকে “অবিশ্বাস্য” বলে আখ্যা দেন এবং বিষয়টিকে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন।

এই অভিযোগ প্রথমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাউজিং ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রক বিল পল্টে প্রকাশ করেন এবং এটিকে “ক্রিমিনাল রেফারেল” আখ্যা দিয়ে বিচার বিভাগকে তদন্তের আহ্বান জানান। তদন্ত শুরু হয়েছে কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কুকের অবস্থান

কুক দাবি করেছেন, এই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি প্রথম জানতে পারেন সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে। তিনি বলেন, চার বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের আগেই করা একটি মর্টগেজ আবেদন থেকে এই বিষয়টি এসেছে। কুক স্পষ্ট করেছেন, “কোনো টুইট বা রাজনৈতিক চাপে আমি পদ ছাড়ব না। আমি সঠিক তথ্য সংগ্রহ করছি এবং বৈধ প্রশ্নের উত্তর দেব।”

সম্ভাব্য সংঘাত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুক বা ফেড যদি ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় তবে হোয়াইট হাউস ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হতে পারে। ১৯৫১ সালে ফেড মার্কিন সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

সুদের হার বিতর্ক

ট্রাম্প সম্প্রতি পাওয়েলকে “একগুঁয়ে” ও “অযোগ্য” বলে আক্রমণ করেছেন, কারণ তিনি দ্রুত সুদের হার কমাতে চান। তবে গত সপ্তাহে পাওয়েল ইঙ্গিত দেন যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তি দেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি থেকে তৈরি মূল্যস্ফীতি হয়তো সাময়িক।

বাজার প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, কুকের পরিবর্তে আসা নতুন গভর্নর সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প বললেন ভেনেজুয়েলার আকাশপথ ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত

ট্রাম্পের নির্দেশে ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর লিসা কুক অপসারিত

০২:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

ট্রাম্পের হঠাৎ ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এ পদক্ষেপকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর চলমান বিরোধের বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল এ প্রকাশিত এক চিঠিতে কুককে অপসারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, মর্টগেজ সংক্রান্ত নথিতে ভুয়া তথ্য দেওয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে। তিনি দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী তাঁর এই ক্ষমতা রয়েছে।

জবাবে কুক স্পষ্ট করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং তিনি কোনো ভাবেই পদত্যাগ করবেন না। কুক বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনি ভিত্তি ছাড়াই আমাকে ‘কারণ দেখিয়ে’ বরখাস্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখব।”

ফেডের নীরবতা ও ট্রাম্পের চাপ

ফেডারেল রিজার্ভ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সুদের হার কমাতে অনীহা দেখানোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। তিনি একাধিকবার পাওয়েলকে সরানোর কথাও বলেছেন।

নজিরবিহীন ঘটনা

লিসা কুক ফেড বোর্ডে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১১১ বছরের ইতিহাসে ফেডের গভর্নরকে প্রেসিডেন্ট সরিয়ে দেওয়ার এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পদক্ষেপ আইনি লড়াইয়ে গড়াতে পারে এবং হোয়াইট হাউসকে আদালতে প্রমাণ দিতে হতে পারে।

অভিযোগের বিস্তারিত

ট্রাম্পের চিঠিতে বলা হয়, কুক প্রথমে মিশিগানে একটি বাড়ির জন্য মর্টগেজ নেন এবং সেখানে এক বছরের জন্য বসবাসের প্রতিশ্রুতি দেন। দুই সপ্তাহ পর জর্জিয়ায় আরেকটি সম্পত্তির জন্য একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরেকটি নথি স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প এটিকে “অবিশ্বাস্য” বলে আখ্যা দেন এবং বিষয়টিকে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন।

এই অভিযোগ প্রথমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাউজিং ফাইন্যান্স নিয়ন্ত্রক বিল পল্টে প্রকাশ করেন এবং এটিকে “ক্রিমিনাল রেফারেল” আখ্যা দিয়ে বিচার বিভাগকে তদন্তের আহ্বান জানান। তদন্ত শুরু হয়েছে কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কুকের অবস্থান

কুক দাবি করেছেন, এই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি প্রথম জানতে পারেন সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে। তিনি বলেন, চার বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের আগেই করা একটি মর্টগেজ আবেদন থেকে এই বিষয়টি এসেছে। কুক স্পষ্ট করেছেন, “কোনো টুইট বা রাজনৈতিক চাপে আমি পদ ছাড়ব না। আমি সঠিক তথ্য সংগ্রহ করছি এবং বৈধ প্রশ্নের উত্তর দেব।”

সম্ভাব্য সংঘাত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুক বা ফেড যদি ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায় তবে হোয়াইট হাউস ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হতে পারে। ১৯৫১ সালে ফেড মার্কিন সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

সুদের হার বিতর্ক

ট্রাম্প সম্প্রতি পাওয়েলকে “একগুঁয়ে” ও “অযোগ্য” বলে আক্রমণ করেছেন, কারণ তিনি দ্রুত সুদের হার কমাতে চান। তবে গত সপ্তাহে পাওয়েল ইঙ্গিত দেন যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তি দেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি থেকে তৈরি মূল্যস্ফীতি হয়তো সাময়িক।

বাজার প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার এশীয় বাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, কুকের পরিবর্তে আসা নতুন গভর্নর সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।