ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ
শক্তিশালী টাইফুন কাজিকি ভিয়েতনামের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে গেছে এবং বহু বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে।
ব্যাপক সরিয়ে নেওয়া ও অবরুদ্ধ জনজীবন
ঝড়ের আঘাতের আগেই হা টিন প্রদেশে সোমবার বিকেলে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্কুল ও বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়, এছাড়া কিছু ট্রেন সার্ভিস স্থগিত করা হয়।
থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাং প্রদেশের বাসিন্দাদেরও আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
মানুষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
নগে আন প্রদেশের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তিনি দুই মিটার উঁচু ঢেউ দেখেছেন এবং আশেপাশের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “এটা ছিল ভয়ঙ্কর।”
ভিন শহরের ৬৬ বছর বয়সী লে মানহ তুং বলেন, “এত বড় ঘূর্ণিঝড় আমাদের শহরে আসছে—এমন কথা আগে কখনও শুনিনি। কিছুটা ভয় লাগছে, তবে এটাকে মেনে নিতে হবে, কারণ প্রকৃতিকে থামানো সম্ভব নয়।”
ঝুঁকি ও সতর্কতা
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন কাজিকি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করতে পারে। ছয়টি প্রদেশের ৪০০টির বেশি এলাকাকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ঝড়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
এর আগে ঝড়টি চীনের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে চলে যায় এবং সেখানে রাস্তা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে।
গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি
মাত্র এক বছর আগে টাইফুন ইয়াগি ভিয়েতনামে আঘাত হেনেছিল। সেটি ছিল গত ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়, যাতে শুধু ভিয়েতনামেই ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ঝড়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাওস, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারেও তাণ্ডব চালায়। সরকারি হিসাবে, ওই সময় অঞ্চলজুড়ে ৫০০ জনের বেশি নিহত হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে টাইফুন বা ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বাতাসের গতি বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে কোনো নির্দিষ্ট ঝড়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা জটিল বিষয়।
টাইফুন কাজিকির আঘাতে ভিয়েতনামের উপকূলীয় প্রদেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত
-
সারাক্ষণ রিপোর্ট - ০২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- 53
জনপ্রিয় সংবাদ



















