ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের প্রথম বৈঠক নানা কারণে আলোচনায় এসেছে। বৈঠকের আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তুললেও, লি কৌশলগত প্রশংসা ও নম্রতায় পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে এই সাক্ষাতে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে বড় কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
প্রশংসার কৌশল
ট্রাম্পকে দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে সবসময় সন্দেহপ্রবণ মনে করা হয়। অতীতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনার নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করেও সিউল যথেষ্ট খরচ বহন করছে না। এছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় ও বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়েও সমালোচনা করেছেন।
লি জে মিয়ংয়ের দল আশঙ্কা করেছিল, তিনি হয়তো হোয়াইট হাউসে সমালোচনার মুখে পড়বেন। বিশেষ করে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রসঙ্গ টেনে “শুদ্ধি অভিযান বা বিপ্লব” ধরনের মন্তব্য করেন।
কিন্তু বৈঠকে লি প্রশংসার ঢেউ তুললেন। তিনি প্রথমেই ওভাল অফিসের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। এরপর ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশংসা করেন। এমনকি তিনি মজা করে বলেন, উত্তর কোরিয়ায় ট্রাম্প টাওয়ার তৈরি হলে তিনি সেখানে গলফ খেলতে চাইবেন।
এই কৌশল সফল হয়। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট প্রসঙ্গকে ভুল বোঝাবুঝি বলে উড়িয়ে দেন। ফলে লি সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পান।
কিম জং উন প্রসঙ্গ
বৈঠকের বড় অংশজুড়ে ছিল উত্তর কোরিয়া। আশ্চর্যজনকভাবে, ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার নেতার সামনেই কিম জং উনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা গর্ব করে বলতে থাকেন।
লি জে মিয়ং পূর্বসূরীর মতো কিমকে উসকানি না দিয়ে বরং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চান। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, যেন কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি “শান্তির দূত” হিসেবে ভূমিকা নেন।
ট্রাম্প স্মৃতিচারণ করেন, কিমের সঙ্গে তার তিনবার সাক্ষাতের কথা এবং কীভাবে তারা “ভালো সম্পর্ক” গড়ে তুলেছিলেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—কিম জং উন আদৌ ট্রাম্প কিংবা লির সঙ্গে আবার কথা বলবেন কি না। উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ উদ্যোগও উপেক্ষা করেছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়ার শর্তে আর কোনো আলোচনায় রাজি নয়।
বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ইস্যু
এই সফরে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ছিল প্রধান আলোচ্যসূচি। সিউল যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১৫ শতাংশে আনতে সক্ষম হলেও, ট্রাম্প আরও ছাড় দিতে রাজি হননি। এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে জাহাজ নির্মাণে।
দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ জাহাজ নির্মাতা দেশ, আর যুক্তরাষ্ট্র এ খাতে পিছিয়ে পড়ছে। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই কোরিয়ান এয়ার ১০৩টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দেয়।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। বরং তিনি ওসান এয়ার বেসের জমি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় নেওয়ার ধারণা দেন।
যদিও প্রতিরক্ষা নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি, তবে ট্রাম্প অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি জাহাজ, পণ্য ভালোবাসি। আমাদেরও তাদের জন্য তেল ও গ্যাস সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।”
লি জে মিয়ংয়ের এই সফর থেকে বড় কোনো চুক্তি না এলেও তিনি ট্রাম্পের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। অন্ততপক্ষে, তিনি হোয়াইট হাউসে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে পেরেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে প্রশংসায় কৌশলী লি জে মিয়ং
-
সারাক্ষণ রিপোর্ট - ০২:৩৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- 70
জনপ্রিয় সংবাদ



















