০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
এবার পিতার লাশ এলো সন্তানের কাছে লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন সিইসি, স্পিকার শূন্যতায় সাংবিধানিক পথেই নতুন সংসদের যাত্রা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিতর্কে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন নাসের হুসেইনের, ‘রাজনীতি নয়, ক্রিকেটে ফিরুক সবাই’ ওয়াশিংটন পোস্টে বড় ছাঁটাই, শশী থারুরের ছেলে ঈশানসহ শতাধিক সাংবাদিক চাকরিহারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার থামেনি, অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার চিত্র নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচন অস্ট্রেলিয়া-উগান্ডা ক্রিকেট ম্যাচের মতো হবে: আমির হামজা খাগড়াছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, গুরুতর আহত আরেকজন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জে ২১ ঘণ্টা তীব্র গ্যাস চাপ সংকট, সতর্কবার্তা তিতাসের পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, খেলাধুলায় রাজনীতি নয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপিল বিভাগের নতুন সিদ্ধান্ত

আপিল বিভাগের অনুমতি ও শুনানির তারিখ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে শুনানি আগামী ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

কার্যকর সমাধান চায় আদালত

রিভিউ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বারবার সংকট তৈরি না হয়ে—এমন একটি কার্যকর সমাধান চান আপিল বিভাগ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আদালত সাময়িক সমাধান নয়, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

হাসিনাও এখন তত্ত্বাবধায়ক চান, ভূতের মুখে রাম নাম: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। তিনি মন্তব্য করেন, আগে আওয়ামী লীগ বলতো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া যাবে না, অথচ তারাও অনির্বাচিত ছিল। এখন নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছে।

তিনি আরও যোগ করেন, যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরে আসে তবে দেশে আর রক্ত দিয়ে ভোটের অধিকার আদায় করতে হবে না। এতে মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকবে।

আইনজীবীদের অংশগ্রহণ

  • বিএনপির পক্ষে শুনানি করেছেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
  • জামায়াতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।
  • রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
  • পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে ছিলেন শরীফ ভূইয়া।
  • অপর এক রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের দায় কার?

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইতিহাস

  • • ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • • ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
  • • ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে।
  • • ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে।
  • এরপর ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ১৫তম সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

রিভিউ আবেদনসমূহ

  • • ৫ আগস্ট ২০১১-তে বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক রিভিউ আবেদন করেন।
  • • ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রিভিউ আবেদন করেন।
  • • ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আবেদন করেন।
  • • গত বছর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও রিভিউ আবেদন করেন।

আপিল বিভাগ বলছে, শুধু আগের অবস্থায় ফেরানো নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এমন সমাধান চাই যা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এখন নতুন করে এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার পিতার লাশ এলো সন্তানের কাছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপিল বিভাগের নতুন সিদ্ধান্ত

০৭:২২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

আপিল বিভাগের অনুমতি ও শুনানির তারিখ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে শুনানি আগামী ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

কার্যকর সমাধান চায় আদালত

রিভিউ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বারবার সংকট তৈরি না হয়ে—এমন একটি কার্যকর সমাধান চান আপিল বিভাগ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আদালত সাময়িক সমাধান নয়, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

হাসিনাও এখন তত্ত্বাবধায়ক চান, ভূতের মুখে রাম নাম: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। তিনি মন্তব্য করেন, আগে আওয়ামী লীগ বলতো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া যাবে না, অথচ তারাও অনির্বাচিত ছিল। এখন নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করছে।

তিনি আরও যোগ করেন, যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরে আসে তবে দেশে আর রক্ত দিয়ে ভোটের অধিকার আদায় করতে হবে না। এতে মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকবে।

আইনজীবীদের অংশগ্রহণ

  • বিএনপির পক্ষে শুনানি করেছেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
  • জামায়াতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।
  • রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
  • পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে ছিলেন শরীফ ভূইয়া।
  • অপর এক রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের দায় কার?

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইতিহাস

  • • ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • • ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
  • • ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে।
  • • ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে।
  • এরপর ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ১৫তম সংশোধনী পাস হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

রিভিউ আবেদনসমূহ

  • • ৫ আগস্ট ২০১১-তে বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক রিভিউ আবেদন করেন।
  • • ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রিভিউ আবেদন করেন।
  • • ২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আবেদন করেন।
  • • গত বছর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও রিভিউ আবেদন করেন।

আপিল বিভাগ বলছে, শুধু আগের অবস্থায় ফেরানো নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এমন সমাধান চাই যা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এখন নতুন করে এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।