০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৩)

বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে।

সরকারি বিবরণটি স্বাভাবিকভাবেই বাহুল্যবর্জিত, নির্লিপ্ত। গেজেটিয়ার অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্প প্রবল হয়েছিল বটে তবে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হয়নি। ভূমিকম্পে ঢাকার প্রসিদ্ধ ঔষধের দোকান শাহীন মেডিকেল হল নবাব সলিমুল্লাহ যার মালিক ছিলেনা, নাজিরের মঠ, শাহবাগ এবং মিসেস স্ট্যান সরকারি যে বাসায় থাকতেন তা ধ্বসে পড়েছিল এবং এতে নিহত হয়েছিল ৫ জন।

এছাড়া কমিশনার, কালেকটর, জজ ও সিভিল সার্জনের বাড়িসহ ৯টি স্থাপনা এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তা আর বাসযোগ্য ছিল না। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইমারতসমূহ সারানোর জন্য সরকারের ১,৫০,০০০ রুপি লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে রৌমারীতে সৃষ্ট ‘ফিশার বা ফাটিন

ভূমিকম্পের অভিঘাত যে প্রচণ্ড ছিল তা যতীন্দ্রমোহন রায় ও সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়। পুরো বাংলা জুড়ে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ময়মনসিংহ এলাকাটি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন পত্র লেখক তাদের এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রাণহানির সংখ্যা তেমন ছিল না। পূর্ববঙ্গে ইট/পাথরের তৈরি

ইমারতের অপ্রতুলতা এর কারণ। তবে, মানুষজন যে ভীত হয়েছিল তা সে সব বিবরণ পড়ে বোঝা যায়। ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন লিখেছিলেন-

“এই ভূমিকম্পে জেলার উত্তরাংশের অনেকখানে খালবিলের মুখ বন্ধ হইয়া গিয়াছে, বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে। ঐ ভূকম্পের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন ভাঙিয়া প্রায় দুই সপ্তাহকাল রেলের চলাচল বন্ধ হইয়াছিল বলিয়া জানা যায়। বস্তুত এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ভূমিকম্পের বিবরণ সংগৃহীত হইয়াছে তাহাদের কোনোটিরই ধ্বংসকার্য ও বিস্তৃতি এই ভূমিকম্প অপেক্ষা অধিক ছিল না।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৩)

০৭:০০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে।

সরকারি বিবরণটি স্বাভাবিকভাবেই বাহুল্যবর্জিত, নির্লিপ্ত। গেজেটিয়ার অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্প প্রবল হয়েছিল বটে তবে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হয়নি। ভূমিকম্পে ঢাকার প্রসিদ্ধ ঔষধের দোকান শাহীন মেডিকেল হল নবাব সলিমুল্লাহ যার মালিক ছিলেনা, নাজিরের মঠ, শাহবাগ এবং মিসেস স্ট্যান সরকারি যে বাসায় থাকতেন তা ধ্বসে পড়েছিল এবং এতে নিহত হয়েছিল ৫ জন।

এছাড়া কমিশনার, কালেকটর, জজ ও সিভিল সার্জনের বাড়িসহ ৯টি স্থাপনা এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তা আর বাসযোগ্য ছিল না। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইমারতসমূহ সারানোর জন্য সরকারের ১,৫০,০০০ রুপি লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে রৌমারীতে সৃষ্ট ‘ফিশার বা ফাটিন

ভূমিকম্পের অভিঘাত যে প্রচণ্ড ছিল তা যতীন্দ্রমোহন রায় ও সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়। পুরো বাংলা জুড়ে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ময়মনসিংহ এলাকাটি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন পত্র লেখক তাদের এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রাণহানির সংখ্যা তেমন ছিল না। পূর্ববঙ্গে ইট/পাথরের তৈরি

ইমারতের অপ্রতুলতা এর কারণ। তবে, মানুষজন যে ভীত হয়েছিল তা সে সব বিবরণ পড়ে বোঝা যায়। ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন লিখেছিলেন-

“এই ভূমিকম্পে জেলার উত্তরাংশের অনেকখানে খালবিলের মুখ বন্ধ হইয়া গিয়াছে, বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে। ঐ ভূকম্পের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন ভাঙিয়া প্রায় দুই সপ্তাহকাল রেলের চলাচল বন্ধ হইয়াছিল বলিয়া জানা যায়। বস্তুত এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ভূমিকম্পের বিবরণ সংগৃহীত হইয়াছে তাহাদের কোনোটিরই ধ্বংসকার্য ও বিস্তৃতি এই ভূমিকম্প অপেক্ষা অধিক ছিল না।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)