০৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রমজান ও ঈদে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে ডিএমপির নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার? বিদেশি ঋণ বড় চ্যালেঞ্জ, নতুন সরকারের সতর্ক পদক্ষেপ অপরিহার্য: দেবাপ্রিয় মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৩)

বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে।

সরকারি বিবরণটি স্বাভাবিকভাবেই বাহুল্যবর্জিত, নির্লিপ্ত। গেজেটিয়ার অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্প প্রবল হয়েছিল বটে তবে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হয়নি। ভূমিকম্পে ঢাকার প্রসিদ্ধ ঔষধের দোকান শাহীন মেডিকেল হল নবাব সলিমুল্লাহ যার মালিক ছিলেনা, নাজিরের মঠ, শাহবাগ এবং মিসেস স্ট্যান সরকারি যে বাসায় থাকতেন তা ধ্বসে পড়েছিল এবং এতে নিহত হয়েছিল ৫ জন।

এছাড়া কমিশনার, কালেকটর, জজ ও সিভিল সার্জনের বাড়িসহ ৯টি স্থাপনা এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তা আর বাসযোগ্য ছিল না। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইমারতসমূহ সারানোর জন্য সরকারের ১,৫০,০০০ রুপি লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে রৌমারীতে সৃষ্ট ‘ফিশার বা ফাটিন

ভূমিকম্পের অভিঘাত যে প্রচণ্ড ছিল তা যতীন্দ্রমোহন রায় ও সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়। পুরো বাংলা জুড়ে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ময়মনসিংহ এলাকাটি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন পত্র লেখক তাদের এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রাণহানির সংখ্যা তেমন ছিল না। পূর্ববঙ্গে ইট/পাথরের তৈরি

ইমারতের অপ্রতুলতা এর কারণ। তবে, মানুষজন যে ভীত হয়েছিল তা সে সব বিবরণ পড়ে বোঝা যায়। ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন লিখেছিলেন-

“এই ভূমিকম্পে জেলার উত্তরাংশের অনেকখানে খালবিলের মুখ বন্ধ হইয়া গিয়াছে, বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে। ঐ ভূকম্পের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন ভাঙিয়া প্রায় দুই সপ্তাহকাল রেলের চলাচল বন্ধ হইয়াছিল বলিয়া জানা যায়। বস্তুত এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ভূমিকম্পের বিবরণ সংগৃহীত হইয়াছে তাহাদের কোনোটিরই ধ্বংসকার্য ও বিস্তৃতি এই ভূমিকম্প অপেক্ষা অধিক ছিল না।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

রমজান ও ঈদে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে ডিএমপির নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৩)

০৭:০০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে।

সরকারি বিবরণটি স্বাভাবিকভাবেই বাহুল্যবর্জিত, নির্লিপ্ত। গেজেটিয়ার অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ভূমিকম্প প্রবল হয়েছিল বটে তবে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হয়নি। ভূমিকম্পে ঢাকার প্রসিদ্ধ ঔষধের দোকান শাহীন মেডিকেল হল নবাব সলিমুল্লাহ যার মালিক ছিলেনা, নাজিরের মঠ, শাহবাগ এবং মিসেস স্ট্যান সরকারি যে বাসায় থাকতেন তা ধ্বসে পড়েছিল এবং এতে নিহত হয়েছিল ৫ জন।

এছাড়া কমিশনার, কালেকটর, জজ ও সিভিল সার্জনের বাড়িসহ ৯টি স্থাপনা এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে তা আর বাসযোগ্য ছিল না। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ইমারতসমূহ সারানোর জন্য সরকারের ১,৫০,০০০ রুপি লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে রৌমারীতে সৃষ্ট ‘ফিশার বা ফাটিন

ভূমিকম্পের অভিঘাত যে প্রচণ্ড ছিল তা যতীন্দ্রমোহন রায় ও সংবাদপত্রের বিভিন্ন সংবাদ থেকে জানা যায়। পুরো বাংলা জুড়ে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং ময়মনসিংহ এলাকাটি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন পত্র লেখক তাদের এলাকার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে প্রাণহানির সংখ্যা তেমন ছিল না। পূর্ববঙ্গে ইট/পাথরের তৈরি

ইমারতের অপ্রতুলতা এর কারণ। তবে, মানুষজন যে ভীত হয়েছিল তা সে সব বিবরণ পড়ে বোঝা যায়। ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন লিখেছিলেন-

“এই ভূমিকম্পে জেলার উত্তরাংশের অনেকখানে খালবিলের মুখ বন্ধ হইয়া গিয়াছে, বহু সংখ্যক সুরম্য হারাজি ও প্রাচীন কীর্তিকলাপ একেবারে বিধ্বস্ত হইয়া লোক চলাচলের অন্তরাল হইয়াছে। ঐ ভূকম্পের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইন ভাঙিয়া প্রায় দুই সপ্তাহকাল রেলের চলাচল বন্ধ হইয়াছিল বলিয়া জানা যায়। বস্তুত এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত ভূমিকম্পের বিবরণ সংগৃহীত হইয়াছে তাহাদের কোনোটিরই ধ্বংসকার্য ও বিস্তৃতি এই ভূমিকম্প অপেক্ষা অধিক ছিল না।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮২)