০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রমজান ও ঈদে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে ডিএমপির নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার? বিদেশি ঋণ বড় চ্যালেঞ্জ, নতুন সরকারের সতর্ক পদক্ষেপ অপরিহার্য: দেবাপ্রিয় মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৭)

ঢাকার নয়ন মনোরম ‘আহসান মঞ্জিল’ প্রাসাদ, ইতিহাস প্রসিদ্ধ হুসনী দালান এবং রমনার কালীর মই প্রকৃতি ১৪৮ খানা ইষ্টকালয় ভগ্ন হইয়া যায়।

দু’একটি পুথিরও খোঁজ পেয়েছি এ সম্পর্কে। সেগুলো হলো-

আজিম উদ্দিন, গজবনামা, ঢাকা, ১৮৯৭কবির উদ্দিন, ভূমিকম্পের পুথি, ঢাকা, ১৮৯৭ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রচিত একটি পুথি আমি দেখেছি। ভূমিকম্প নিয়ে রচিত পুথিটি লিখেছিলেন বগুড়া জেলা স্কুলের সেকেন্ড মৌলবী, মোহাম্মদ এব্রাহিম। পুথিটির নাম সোরে কেয়ামত। এব্রাহিম ঢাকার ভূমিকম্পকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে কেয়ামতের দিন কী হতে পারে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। যেমন-

“হায় ২ জমি বিচে কি রোগ জন্মিল।
খোদ বখোদ তার চোটে কাঁপিয়া উঠিল।
ত্রিশে জ্যৈষ্ঠ সন তেরশতে চারে যে রূপ
তাজ্জব এই জমি পড়ে।
তাহার আহত্তাল থোড়া মেনে বন্ধুগণ।
একে ২ কহি কিছু রাখহ স্মরণ।
শনিবার দিন আহারের সময়।

১৮৮৮ সালের টর্নেডো পর আহসান মঞ্জিল 

ঢাকায় ১৮৮৮ সালের টর্নেডো

পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে টর্নেডো নতুন কিছু নয়। কিছুদিন পরপরই তাদের এ ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়, ঢাকাবাসীকেও। তবে যে টর্নেডোটি সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল তা ১৮৮৮ সালের। এই টর্নোভোর অনেক বিবরণও শাওয়া গেছে যাতে মনে হয় এটি সবাইকে বিস্মিত করেছিল। ঐতিহাসিক যতীন্দ্র মোহন রায় যখন এর বর্ণনা দেন তখন তিনিও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষায়-

“১৮৮৮ খ্রিঃ অব্দের ৭ই এপ্রিল তারিখে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় ঢাকায় যে ভীষণ তুর্নড হইয়াছিল, তাহার স্মৃতি আজিও অনেকের মন হইতে বিলুপ্ত হয় নাই। সমগ্র বঙ্গ দেশে ইহা ‘ঢাকার তুর্নড’ বলিয়া যে রূপ পরিচিত, বিক্রমপুরে অদ্রুপ ইহা ‘হাসাইলের ঝড়’ বলিয়া খ্যাত হইয়াছে। এ ব্যত্যা প্রথমে মুন্সীগঞ্জ মহকুমার দিক হইতে ঢাকা শহরের দিে আসিয়াছিল। প্রথমে ঈশান কোণে লোহিত বর্গের মেঘ পরিদৃষ্ট হইয়াছিল।

ক্রমশ ঐ মেঘবান সমুদয় আকাশে পরিব্যাপ্ত হইয়া পড়ে। এবং মুহূর মধ্যে উচ্চ ঝটিকাবর্ত আরম্ভ হইয়া প্রলয়ের নধ্বংসের ন্যায় অট্টালিকা এবং গৃহাদি, ভূমিসাৎ করিয়া ফেলে। বিক্রমপুরান্তর্গত হাসাইল, ভয়াকর, শৈলকোপা, বিদ্দেল প্রভৃতি কতিপয় গ্রামেও এই ভীষণ ঝটিকাবর্তের প্রকোপ পরিলক্ষিত হইয়াছিল। ঢাকা শহরের ৩৫২৭ খানা গৃহ এই তুর্নডের ফলে ধরাশায়ী হয়। ঢাকার নয়ন মনোরম ‘আহসান মঞ্জিল’ প্রাসাদ, ইতিহাস প্রসিদ্ধ হুসনী দালান এবং রমনার কালীর মই প্রকৃতি ১৪৮ খানা ইষ্টকালয় ভগ্ন হইয়া যায়। বস্তুত এই তুর্নডে ঢাকার প্রায় সমুদয় অট্টালিকারই অম্লাধিক পরিমাণে অনিষ্ট হইয়াছিল। এতদ্ব্যতীত ১৩ জন লোক হত এবং ১৫০০ লোক আহত হইয়াছিল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৬)

রমজান ও ঈদে নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে ডিএমপির নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৭)

০৭:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার নয়ন মনোরম ‘আহসান মঞ্জিল’ প্রাসাদ, ইতিহাস প্রসিদ্ধ হুসনী দালান এবং রমনার কালীর মই প্রকৃতি ১৪৮ খানা ইষ্টকালয় ভগ্ন হইয়া যায়।

দু’একটি পুথিরও খোঁজ পেয়েছি এ সম্পর্কে। সেগুলো হলো-

আজিম উদ্দিন, গজবনামা, ঢাকা, ১৮৯৭কবির উদ্দিন, ভূমিকম্পের পুথি, ঢাকা, ১৮৯৭ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রচিত একটি পুথি আমি দেখেছি। ভূমিকম্প নিয়ে রচিত পুথিটি লিখেছিলেন বগুড়া জেলা স্কুলের সেকেন্ড মৌলবী, মোহাম্মদ এব্রাহিম। পুথিটির নাম সোরে কেয়ামত। এব্রাহিম ঢাকার ভূমিকম্পকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে কেয়ামতের দিন কী হতে পারে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। যেমন-

“হায় ২ জমি বিচে কি রোগ জন্মিল।
খোদ বখোদ তার চোটে কাঁপিয়া উঠিল।
ত্রিশে জ্যৈষ্ঠ সন তেরশতে চারে যে রূপ
তাজ্জব এই জমি পড়ে।
তাহার আহত্তাল থোড়া মেনে বন্ধুগণ।
একে ২ কহি কিছু রাখহ স্মরণ।
শনিবার দিন আহারের সময়।

১৮৮৮ সালের টর্নেডো পর আহসান মঞ্জিল 

ঢাকায় ১৮৮৮ সালের টর্নেডো

পূর্ববঙ্গবাসীর কাছে টর্নেডো নতুন কিছু নয়। কিছুদিন পরপরই তাদের এ ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়, ঢাকাবাসীকেও। তবে যে টর্নেডোটি সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল তা ১৮৮৮ সালের। এই টর্নোভোর অনেক বিবরণও শাওয়া গেছে যাতে মনে হয় এটি সবাইকে বিস্মিত করেছিল। ঐতিহাসিক যতীন্দ্র মোহন রায় যখন এর বর্ণনা দেন তখন তিনিও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষায়-

“১৮৮৮ খ্রিঃ অব্দের ৭ই এপ্রিল তারিখে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় ঢাকায় যে ভীষণ তুর্নড হইয়াছিল, তাহার স্মৃতি আজিও অনেকের মন হইতে বিলুপ্ত হয় নাই। সমগ্র বঙ্গ দেশে ইহা ‘ঢাকার তুর্নড’ বলিয়া যে রূপ পরিচিত, বিক্রমপুরে অদ্রুপ ইহা ‘হাসাইলের ঝড়’ বলিয়া খ্যাত হইয়াছে। এ ব্যত্যা প্রথমে মুন্সীগঞ্জ মহকুমার দিক হইতে ঢাকা শহরের দিে আসিয়াছিল। প্রথমে ঈশান কোণে লোহিত বর্গের মেঘ পরিদৃষ্ট হইয়াছিল।

ক্রমশ ঐ মেঘবান সমুদয় আকাশে পরিব্যাপ্ত হইয়া পড়ে। এবং মুহূর মধ্যে উচ্চ ঝটিকাবর্ত আরম্ভ হইয়া প্রলয়ের নধ্বংসের ন্যায় অট্টালিকা এবং গৃহাদি, ভূমিসাৎ করিয়া ফেলে। বিক্রমপুরান্তর্গত হাসাইল, ভয়াকর, শৈলকোপা, বিদ্দেল প্রভৃতি কতিপয় গ্রামেও এই ভীষণ ঝটিকাবর্তের প্রকোপ পরিলক্ষিত হইয়াছিল। ঢাকা শহরের ৩৫২৭ খানা গৃহ এই তুর্নডের ফলে ধরাশায়ী হয়। ঢাকার নয়ন মনোরম ‘আহসান মঞ্জিল’ প্রাসাদ, ইতিহাস প্রসিদ্ধ হুসনী দালান এবং রমনার কালীর মই প্রকৃতি ১৪৮ খানা ইষ্টকালয় ভগ্ন হইয়া যায়। বস্তুত এই তুর্নডে ঢাকার প্রায় সমুদয় অট্টালিকারই অম্লাধিক পরিমাণে অনিষ্ট হইয়াছিল। এতদ্ব্যতীত ১৩ জন লোক হত এবং ১৫০০ লোক আহত হইয়াছিল।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৮৬)