০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৭)

তারা জেলা বোর্ডের কাছে আবেদন জানায় কূপটি সংস্কারের জন্য। জেলা বোর্ড কূপটি সংস্কার করে দিয়েছিল।

পুকুরের পাশে একটি বরদারি। কুপটি পরিচিত গুরু নানকের কূপ বা কুয়ো নামে। জনশ্রুতি অনযায়ী গুরু নানক এই কুয়ো থেকে পানি পান করতেন। তিনি নাকি তার হাতের লাঠি দিয়ে রূপটি খনন করেছিলেন। ঢাকার সবচেয়ে দৃশ্যমান পুরনো স্থাপত্য বিনতবিবির ও আরেকটি মসজিদ ছাড়া এটিই ছিল ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যিক নিদর্শন। নাসিরুদ্দীন মোহাম্মদের সময় ১৪৫৮ সালে বিনতবিবির মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।

চৈত্র মাসে এই কূপকে ঘিরে মেলা বসতো। ওই সময় মাছ মাংস খাওয়া হতো না। অনেকে বিশ্বাস করতেন, এই কুয়োর পানি অসুখ-বিসুখ সারায়। ক্রমেই এটি লুপ্ত হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়। ওই সময় একটি শিখ রেজিমেন্ট ওই জায়গায় কয়েকদিনের জন্য তাঁবু পেতেছিল। তারা জেলা বোর্ডের কাছে আবেদন জানায় কূপটি সংস্কারের জন্য। জেলা বোর্ড কূপটি সংস্কার করে দিয়েছিল।

এরপর আসে সুজাতপুরের গুরু দোয়ারার কথা। ইসলাম খাঁ ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পর সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ষষ্ঠ শুরু আলমাস্ট নামে একজনকে ঢাকায় পাঠান। তিনিই এই গুরু দোয়ারার পত্তন করেন। আলমাস্টের পর নাথি সাহেব এর দায়িত্ব পান। তিনি ছিলেন তৃতীয়। দ্বিতীয়জনের নাম পাওয়া যায়নি। সেই থেকে নাথি সাহেবের নামেই গুরু দোয়ারিটি পরিচিত। এর ফলকে লেখা আছে- সত্য ঈশ্বর, স্রষ্টার এবং গুরু নানকের নামে, আলমাস্ট রাজের নানকসভার গুরু গদ্দি। সুজাতপুরের নাথি সাহেবের সঙ্গত।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৭)

০৭:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

তারা জেলা বোর্ডের কাছে আবেদন জানায় কূপটি সংস্কারের জন্য। জেলা বোর্ড কূপটি সংস্কার করে দিয়েছিল।

পুকুরের পাশে একটি বরদারি। কুপটি পরিচিত গুরু নানকের কূপ বা কুয়ো নামে। জনশ্রুতি অনযায়ী গুরু নানক এই কুয়ো থেকে পানি পান করতেন। তিনি নাকি তার হাতের লাঠি দিয়ে রূপটি খনন করেছিলেন। ঢাকার সবচেয়ে দৃশ্যমান পুরনো স্থাপত্য বিনতবিবির ও আরেকটি মসজিদ ছাড়া এটিই ছিল ঢাকার প্রাচীন স্থাপত্যিক নিদর্শন। নাসিরুদ্দীন মোহাম্মদের সময় ১৪৫৮ সালে বিনতবিবির মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।

চৈত্র মাসে এই কূপকে ঘিরে মেলা বসতো। ওই সময় মাছ মাংস খাওয়া হতো না। অনেকে বিশ্বাস করতেন, এই কুয়োর পানি অসুখ-বিসুখ সারায়। ক্রমেই এটি লুপ্ত হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়। ওই সময় একটি শিখ রেজিমেন্ট ওই জায়গায় কয়েকদিনের জন্য তাঁবু পেতেছিল। তারা জেলা বোর্ডের কাছে আবেদন জানায় কূপটি সংস্কারের জন্য। জেলা বোর্ড কূপটি সংস্কার করে দিয়েছিল।

এরপর আসে সুজাতপুরের গুরু দোয়ারার কথা। ইসলাম খাঁ ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পর সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ষষ্ঠ শুরু আলমাস্ট নামে একজনকে ঢাকায় পাঠান। তিনিই এই গুরু দোয়ারার পত্তন করেন। আলমাস্টের পর নাথি সাহেব এর দায়িত্ব পান। তিনি ছিলেন তৃতীয়। দ্বিতীয়জনের নাম পাওয়া যায়নি। সেই থেকে নাথি সাহেবের নামেই গুরু দোয়ারিটি পরিচিত। এর ফলকে লেখা আছে- সত্য ঈশ্বর, স্রষ্টার এবং গুরু নানকের নামে, আলমাস্ট রাজের নানকসভার গুরু গদ্দি। সুজাতপুরের নাথি সাহেবের সঙ্গত।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৬)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৯৬)