০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৭)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • 154

সেখানেও হানা দেয় এবং ৫ এপ্রিল কলোম্ব বন্দরে নোঙর করে রাখা দুটি ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেয়।

১৯৪২ সালের এপ্রিল মাসের চার তারিখ থেকে আট তারিখ পর্যন্ত জাপানি বিমানবহর কোলকাতা বন্দরে বোমাবর্ষণ করে। বোমাবর্ষণের লক্ষ্যস্থল কোলকাতা বন্দর হলেও ভীতসন্ত্রস্ত কোলকাতাবাসিদের অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ লোকালয়ে পালিয়ে যান; শহর প্রায় জনশূন্যে পরিণত হয়।

অবশ্য বোমাবর্ষণের পূর্বে জাপানি বিমান বহর বন্দর এলাকায় প্লেন থেকে প্রচুর লীফলেট ফেলেছিল এবং বন্দরে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের আসন্ন বোমাবর্ষণ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বন্দর এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল; কারণ এই যুদ্ধ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল না। তাসত্ত্বেও এই বোমাবর্ষণে কিছু অসামরিক ভারতীয় হতাহত হয়েছিল বইকি; এই হতাহতের ঘটনাকে ব্রিটিশরাজ খুব সম্ভব জাপান বিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করেছিল। এই বিমান হামলার সময় জাপানিরা বঙ্গোপসাগরের জলরাশিতে ২৮টি জাহাজও ডুবিয়ে দিয়েছিল।

জাপানিরা শ্রীলঙ্কার কলোম্ব-কেও রেহাই দেয় না, সেখানেও হানা দেয় এবং ৫ এপ্রিল কলোম্ব বন্দরে নোঙর করে রাখা দুটি ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। এভাবে তারা ভারত মহাসাগরের উপরে তাদের সম্পূর্ণ আধিপত্য অর্জন করে।

আন্দামান দিয়ে শুরু, অতঃপর পর পর কোলকাতার সামুদ্রিক বন্দরে ও কলোম্বর ডকে নোঙর করে রাখা জাহাজগুলোকে বোমা মেরে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে…। ওখান থেকে ঢাকা কি অনেক দূরে? প্লেন নিয়ে উড়ে আসতে কতোক্ষণ আর লাগে…? মহাযুদ্ধের এই দামামার সময় ‘খিড়কি খুললেই’ কোলকাতা এখন পাশের বাড়ি, নয়কি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের ছাত্ররা যতোই ভাবছেন- ততোই তারা তাদের ঘাড়ের পিছনে যুদ্ধ দামামার উত্তপ্ততার আঁচ অনুভব করছেন, আঁচের পরিমাণ বাড়ছে বই কমছে না। কেমন এক সাররিয়ালিস্টিক নার্ভাস আর টান টান অবস্থার অনুভূতিতে সবাই কেমন সন্ত্রস্ত আচ্ছন্ন এবং প্রফেসর করিমও বাদ যাননি।

অকস্মাৎ-ই প্রফেসর করিমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের বাসিন্দারা অত্যন্ত বিচলিত হন, টান টান অবস্থা অনুভব করেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৬)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৬)

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৭)

০৯:০০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

সেখানেও হানা দেয় এবং ৫ এপ্রিল কলোম্ব বন্দরে নোঙর করে রাখা দুটি ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেয়।

১৯৪২ সালের এপ্রিল মাসের চার তারিখ থেকে আট তারিখ পর্যন্ত জাপানি বিমানবহর কোলকাতা বন্দরে বোমাবর্ষণ করে। বোমাবর্ষণের লক্ষ্যস্থল কোলকাতা বন্দর হলেও ভীতসন্ত্রস্ত কোলকাতাবাসিদের অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ লোকালয়ে পালিয়ে যান; শহর প্রায় জনশূন্যে পরিণত হয়।

অবশ্য বোমাবর্ষণের পূর্বে জাপানি বিমান বহর বন্দর এলাকায় প্লেন থেকে প্রচুর লীফলেট ফেলেছিল এবং বন্দরে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের আসন্ন বোমাবর্ষণ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বন্দর এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল; কারণ এই যুদ্ধ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল না। তাসত্ত্বেও এই বোমাবর্ষণে কিছু অসামরিক ভারতীয় হতাহত হয়েছিল বইকি; এই হতাহতের ঘটনাকে ব্রিটিশরাজ খুব সম্ভব জাপান বিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করেছিল। এই বিমান হামলার সময় জাপানিরা বঙ্গোপসাগরের জলরাশিতে ২৮টি জাহাজও ডুবিয়ে দিয়েছিল।

জাপানিরা শ্রীলঙ্কার কলোম্ব-কেও রেহাই দেয় না, সেখানেও হানা দেয় এবং ৫ এপ্রিল কলোম্ব বন্দরে নোঙর করে রাখা দুটি ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেয়। এভাবে তারা ভারত মহাসাগরের উপরে তাদের সম্পূর্ণ আধিপত্য অর্জন করে।

আন্দামান দিয়ে শুরু, অতঃপর পর পর কোলকাতার সামুদ্রিক বন্দরে ও কলোম্বর ডকে নোঙর করে রাখা জাহাজগুলোকে বোমা মেরে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে…। ওখান থেকে ঢাকা কি অনেক দূরে? প্লেন নিয়ে উড়ে আসতে কতোক্ষণ আর লাগে…? মহাযুদ্ধের এই দামামার সময় ‘খিড়কি খুললেই’ কোলকাতা এখন পাশের বাড়ি, নয়কি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের ছাত্ররা যতোই ভাবছেন- ততোই তারা তাদের ঘাড়ের পিছনে যুদ্ধ দামামার উত্তপ্ততার আঁচ অনুভব করছেন, আঁচের পরিমাণ বাড়ছে বই কমছে না। কেমন এক সাররিয়ালিস্টিক নার্ভাস আর টান টান অবস্থার অনুভূতিতে সবাই কেমন সন্ত্রস্ত আচ্ছন্ন এবং প্রফেসর করিমও বাদ যাননি।

অকস্মাৎ-ই প্রফেসর করিমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের বাসিন্দারা অত্যন্ত বিচলিত হন, টান টান অবস্থা অনুভব করেন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৬)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৬)