০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনে বিবিসি: বন্ধ হচ্ছে অনুষ্ঠান, ঝুঁকিতে ৫৫০ চাকরি থাইল্যান্ডের ১.৬ বিলিয়ন বাথের ‘এআই পাসপোর্ট’ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগে সরব বিরোধীরা যৌনতা বর্জন করলে কি সত্যিই ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স বাড়ে? ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু সাভারে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০৩)

উনিশ শতকের শেষার্ধে এরকম মিছিলে “ইসলামপুরের মুসলমানদের সঙ্গে পূর্বাংশের সঙওয়ালাদের সাথে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল

এই মিছিলের বৈশিষ্ট্য ছিল সঙের গান। হাকিম হাবিব লিখেছেন, মিছিলে মহাদেবের অনেক লম্বা-চওড়া মূর্তি থাকতো। লালচানের মূর্তির কথা তিনি উল্লেখ করেননি। কাহাররা মূর্তি বহন করত। “লোকেরা মহাদেবের জয়ধ্বনি দিত আর ফুল ও খেলনা ছিটানো হতো। তার সাথে থাকতো হিন্দু-মুসলমানদের সঙ-এর দল আর তার মধ্যেও সেই পূর্ব-পশ্চিম এর রেষারেষির হিংসাত্মক ভাব বিদ্যমান থাকতো।” প্রায়ই এ নিয়ে সংঘর্ষ হতো।

হাকিম উল্লেখ করেছেন, উনিশ শতকের শেষার্ধে এরকম মিছিলে “ইসলামপুরের মুসলমানদের সঙ্গে পূর্বাংশের সঙওয়ালাদের সাথে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। অনেক লাঠালাঠি হলো। মাথা ফাটানো, সঙওয়ালারা আহত হলো। কিন্তু মহাদেবের মূর্তির সাথে কেউ কোনোরকম দুর্ব্যবহার করলো না। অর্থাৎ সেই মূর্খ যুগের বাসিন্দারা এতই বুদ্ধি রাখতো বা সচেতন ছিল যে, ধর্মীয় সংঘর্ষ থেকে তারা বিরত থাকতো।”

জন্মাষ্টমীর বড় চৌকী (ইসলামপুর), বিশ শতকের প্রথমার্ধ

এইসব দাঙ্গাহাঙ্গামা ও লালচানের উত্তরাধিকারদের আর্থিক দৈন্যের কারণে বিশ শতকের শুরুতেই এই মিছিল বন্ধ হয়ে যায়।

সপ্ত এর গানের নিদর্শন এখন আর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি সঙ-এর গান উদ্ধার করেছি তার থেকে দুটি গান উদ্ধৃতি করছি। এগুলি প্রধানত জন্মাষ্টমীর মিছিলে গাওয়া হতো। তার মানে এ নয় যে, অন্য সময় গাওয়া হতো না। জন্মাষ্টমীর মিছিলেরও বড় আকর্ষণ ছিল সঙ এর গান।

মা তোমার কি অপার লীলা, ঢাকায় বসন্তের খেলা।
বুড়িগঙ্গার চরে নিলা.
হাসপাতালের ঘর।
বসন্ত আর ঝিন-ঝিন বাতে, লোক মরেছে শতে শতে,
লালবাগ আর শ্যামপুরেতে,

চিভার নাই অবসর।

কেহ যায় স্নান করিতে

কেহ যায় মা বাজারেতে,

কিন-ঝিন পাত পড়ে বসে

তাহাদের উপর।

ঢাকাতে ঢাকেশ্বরী তুই রইলি,

রায়ই কেন বাঁধালি,

সংকাবাড়ির রাত্তিতে

কত গোল পড়লো ঢাকাতে,

রায় সাহেবের বাজার কিছু নাই,

চকবাজারে উড়লো ছাই,

শ্যামবাজারে কত লোকের ঠাঁই,

মদন পালের বাগিচায়,

নতুন করে বাজার বসালি,

ঢাকাতে ঢাকেশ্বরী তুই রইলি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনে বিবিসি: বন্ধ হচ্ছে অনুষ্ঠান, ঝুঁকিতে ৫৫০ চাকরি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০৩)

০৭:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

উনিশ শতকের শেষার্ধে এরকম মিছিলে “ইসলামপুরের মুসলমানদের সঙ্গে পূর্বাংশের সঙওয়ালাদের সাথে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল

এই মিছিলের বৈশিষ্ট্য ছিল সঙের গান। হাকিম হাবিব লিখেছেন, মিছিলে মহাদেবের অনেক লম্বা-চওড়া মূর্তি থাকতো। লালচানের মূর্তির কথা তিনি উল্লেখ করেননি। কাহাররা মূর্তি বহন করত। “লোকেরা মহাদেবের জয়ধ্বনি দিত আর ফুল ও খেলনা ছিটানো হতো। তার সাথে থাকতো হিন্দু-মুসলমানদের সঙ-এর দল আর তার মধ্যেও সেই পূর্ব-পশ্চিম এর রেষারেষির হিংসাত্মক ভাব বিদ্যমান থাকতো।” প্রায়ই এ নিয়ে সংঘর্ষ হতো।

হাকিম উল্লেখ করেছেন, উনিশ শতকের শেষার্ধে এরকম মিছিলে “ইসলামপুরের মুসলমানদের সঙ্গে পূর্বাংশের সঙওয়ালাদের সাথে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। অনেক লাঠালাঠি হলো। মাথা ফাটানো, সঙওয়ালারা আহত হলো। কিন্তু মহাদেবের মূর্তির সাথে কেউ কোনোরকম দুর্ব্যবহার করলো না। অর্থাৎ সেই মূর্খ যুগের বাসিন্দারা এতই বুদ্ধি রাখতো বা সচেতন ছিল যে, ধর্মীয় সংঘর্ষ থেকে তারা বিরত থাকতো।”

জন্মাষ্টমীর বড় চৌকী (ইসলামপুর), বিশ শতকের প্রথমার্ধ

এইসব দাঙ্গাহাঙ্গামা ও লালচানের উত্তরাধিকারদের আর্থিক দৈন্যের কারণে বিশ শতকের শুরুতেই এই মিছিল বন্ধ হয়ে যায়।

সপ্ত এর গানের নিদর্শন এখন আর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি সঙ-এর গান উদ্ধার করেছি তার থেকে দুটি গান উদ্ধৃতি করছি। এগুলি প্রধানত জন্মাষ্টমীর মিছিলে গাওয়া হতো। তার মানে এ নয় যে, অন্য সময় গাওয়া হতো না। জন্মাষ্টমীর মিছিলেরও বড় আকর্ষণ ছিল সঙ এর গান।

মা তোমার কি অপার লীলা, ঢাকায় বসন্তের খেলা।
বুড়িগঙ্গার চরে নিলা.
হাসপাতালের ঘর।
বসন্ত আর ঝিন-ঝিন বাতে, লোক মরেছে শতে শতে,
লালবাগ আর শ্যামপুরেতে,

চিভার নাই অবসর।

কেহ যায় স্নান করিতে

কেহ যায় মা বাজারেতে,

কিন-ঝিন পাত পড়ে বসে

তাহাদের উপর।

ঢাকাতে ঢাকেশ্বরী তুই রইলি,

রায়ই কেন বাঁধালি,

সংকাবাড়ির রাত্তিতে

কত গোল পড়লো ঢাকাতে,

রায় সাহেবের বাজার কিছু নাই,

চকবাজারে উড়লো ছাই,

শ্যামবাজারে কত লোকের ঠাঁই,

মদন পালের বাগিচায়,

নতুন করে বাজার বসালি,

ঢাকাতে ঢাকেশ্বরী তুই রইলি।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১০২)