০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৪)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • 78

রণাঙ্গণে আহত মিত্রবাহিনীর সৈনিকদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার এই সামরিক হাসপাতালে আনা হতো।

নেতাজি আরো বলেন যে, চালের প্রথম সাপ্লাই নিরাপদে সম্পন্ন হলে পরবর্তী ডেলিভারিগুলোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ, “ব্রিটিশরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে শয়ে শয়ে ক্ষুধার্ত নারী, পুরুষ ও শিশু অনাহারের কবল থেকে রক্ষা পাবে।” ব্রিটিশ ক্ষমতার প্রতি নেতাজির চাল প্রেরণের প্রস্তাবটি খাদ্যাভাবে নিদারুণ হতাশাগ্রস্থরা শুনেছিলেন।

দিনকয়েক বাদে, ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্সের একটি রিপোর্টে বলা হয় যে “বোস সম্বন্ধে সর্বশেষ জনশ্রুতি হলো যে তিনি (নেতাজি) দুর্গতদের জন্য চাল পাঠানো সম্ভব করার জন্য ভাইসরয়কে লিখিতভাবে দুটো জাহাজ পাঠাবার অনুরোধ করেছেন।” ফলে, নয়াদিল্লীর ক্ষমতার অন্দরমহলে স্নায়বিক অস্থিরতা ও তেলেসমাতি শুরু হয়, নেতাজির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট সব ধরনের খবরাখবর প্রকাশের উপরে শক্ততম সেন্সরশিপ আরোপিত হয়।

নেতাজি সুভাষ। দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত বঙ্গবাসিদের জন্য বামী থেকে একশ’ হাজার টন চাল পাঠাতে চেয়েছিলেন।

১৯৪৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর রিচার্ড টটেনহ্যাম (Richard Tottenham) লেখেন যে “আমরা অবশ্য সম্ভাব্য সব উপায়ে সুভাষ বসুর সুনামহানি ও তাঁকে কলঙ্কদায়ী করতে সদাই চিন্তিত ও ব্যস্তসমস্ত ছিলাম।”

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর ছিল অভ্যন্তরীন দূর্গ। অ্যাংলো-আমেরিকান মিত্রবাহিনীর সৈনিকরা, বিশেষ করে মার্কিন সৈনিকদের সেনা-ছাউনি ছিল ঢাকার ক্যান্টমেন্ট এলাকায়। মার্কিনদের একটি সামরিক হাসপাতালও ছিল। হাসপাতালটি ছিল- বর্তমানে যে ভবনটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নামে পরিচিত সেই ভবনে এবং (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস) সলিমুল্লাহ হল ছিল সামরিক হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবন। রণাঙ্গণে আহত মিত্রবাহিনীর সৈনিকদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার এই সামরিক হাসপাতালে আনা হতো।

ঢাকায়, ক্লাইভ ব্র্যানসন নামক এক ব্রিটিশ সৈনিকের সঙ্গে প্রফেসর করিমের পরিচয় হয়। ক্লাইভ ছিল একাধারে কমিউনিসী, কবি এবং শিল্পী। ওঁর আঁকা কয়েকটি ছবি লন্ডনের “টেইট গ্যালারিতে রয়েছে। এই ক্লাইভ ১৯৪৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বামী ফ্রন্টে নিহত হন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৩)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৩)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভুট্টার মেয়ে’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৪)

০৯:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

রণাঙ্গণে আহত মিত্রবাহিনীর সৈনিকদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার এই সামরিক হাসপাতালে আনা হতো।

নেতাজি আরো বলেন যে, চালের প্রথম সাপ্লাই নিরাপদে সম্পন্ন হলে পরবর্তী ডেলিভারিগুলোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ, “ব্রিটিশরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে শয়ে শয়ে ক্ষুধার্ত নারী, পুরুষ ও শিশু অনাহারের কবল থেকে রক্ষা পাবে।” ব্রিটিশ ক্ষমতার প্রতি নেতাজির চাল প্রেরণের প্রস্তাবটি খাদ্যাভাবে নিদারুণ হতাশাগ্রস্থরা শুনেছিলেন।

দিনকয়েক বাদে, ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্সের একটি রিপোর্টে বলা হয় যে “বোস সম্বন্ধে সর্বশেষ জনশ্রুতি হলো যে তিনি (নেতাজি) দুর্গতদের জন্য চাল পাঠানো সম্ভব করার জন্য ভাইসরয়কে লিখিতভাবে দুটো জাহাজ পাঠাবার অনুরোধ করেছেন।” ফলে, নয়াদিল্লীর ক্ষমতার অন্দরমহলে স্নায়বিক অস্থিরতা ও তেলেসমাতি শুরু হয়, নেতাজির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট সব ধরনের খবরাখবর প্রকাশের উপরে শক্ততম সেন্সরশিপ আরোপিত হয়।

নেতাজি সুভাষ। দুর্ভিক্ষ প্রপীড়িত বঙ্গবাসিদের জন্য বামী থেকে একশ’ হাজার টন চাল পাঠাতে চেয়েছিলেন।

১৯৪৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর রিচার্ড টটেনহ্যাম (Richard Tottenham) লেখেন যে “আমরা অবশ্য সম্ভাব্য সব উপায়ে সুভাষ বসুর সুনামহানি ও তাঁকে কলঙ্কদায়ী করতে সদাই চিন্তিত ও ব্যস্তসমস্ত ছিলাম।”

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর ছিল অভ্যন্তরীন দূর্গ। অ্যাংলো-আমেরিকান মিত্রবাহিনীর সৈনিকরা, বিশেষ করে মার্কিন সৈনিকদের সেনা-ছাউনি ছিল ঢাকার ক্যান্টমেন্ট এলাকায়। মার্কিনদের একটি সামরিক হাসপাতালও ছিল। হাসপাতালটি ছিল- বর্তমানে যে ভবনটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নামে পরিচিত সেই ভবনে এবং (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস) সলিমুল্লাহ হল ছিল সামরিক হাসপাতালের সম্প্রসারিত ভবন। রণাঙ্গণে আহত মিত্রবাহিনীর সৈনিকদেরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার এই সামরিক হাসপাতালে আনা হতো।

ঢাকায়, ক্লাইভ ব্র্যানসন নামক এক ব্রিটিশ সৈনিকের সঙ্গে প্রফেসর করিমের পরিচয় হয়। ক্লাইভ ছিল একাধারে কমিউনিসী, কবি এবং শিল্পী। ওঁর আঁকা কয়েকটি ছবি লন্ডনের “টেইট গ্যালারিতে রয়েছে। এই ক্লাইভ ১৯৪৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বামী ফ্রন্টে নিহত হন।

(চলবে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৩)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৩৩)