০২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ‘চাকরি বৃদ্ধির সংকট’ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো পাকিস্তানে জ্বালানি মূল্য আকাশছোঁয়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের চাপ বাড়ল বিজেপি রাষ্ট্রপতির শাসন চাপানোর পরিকল্পনা করছে: মমতা ইরান যুদ্ধ ইরাকে: বাগদাদ সেই সংঘাতের দিকে ধীরে ধীরে ঢুকে যাচ্ছে যা দীর্ঘদিন এড়াতে চেয়েছিল পাবনায় জেডিসি নেতা গুলি ও কোপে নিহত গাইবান্ধায় ছুরি হামলায় চারজন আহত; সন্দেহভাজন আটক দেশজুড়ে হাম প্রাদুর্ভাব: টিকা সংকট, ভ্যাকসিন অভাব ও শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা হামলার মধ্যে পড়লেও মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোর ক্ষমতা রক্ষা করছে আমেরিকার  এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ধ্বংস প্রমান করছে  ইরানের সামরিক আঘাতের সক্ষমতা এখনও অটুট ইরানের হাতে গুলিবিদ্ধ আমেরিকার  এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল  সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

এমআরটি–৫ দক্ষিণ লাইনে অনুমোদনে দেরি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঢাকা এমআরটি লাইন–৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয়েছে—বাংলাদেশ এ বছরই নির্মাণকাজ শুরু না করলে ২০২৫ সালের পর প্রকল্পটির জন্য রাখা অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখনো পরিকল্পনা কমিশনে (পিসি) ঝুলে থাকায় ঋণচুক্তির প্রক্রিয়াও থেমে আছে।


প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

  • এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অর্থায়ন ঝুঁকির সতর্কতা জানানো হয়।
  • ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে; অনুমোদন হলেই এডিবি ও সহ-অর্থায়নকারী কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি করা হবে।
  • পরিকল্পনা উপদেষ্টা এখনো ৪৭.৭২ বিলিয়ন টাকার (প্রায় ৪,৭৭২ কোটি টাকা) প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) তোলার জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।
  • তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ইতিমধ্যে একনেকে তোলার সুপারিশ করেছে।


কেন আটকে আছে

সরকারি একাধিক সূত্র বলছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে উচ্চ ব্যয়ের নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হচ্ছে।


অর্থায়ন কাঠামো

  • মোট ব্যয়: ৪৭.৭২ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৪,৭৭২ কোটি টাকা)।
  • উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি: এডিবি ও কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক মিলে ৩২.৩৩ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৩,২৩৩ কোটি টাকা)।
  • অবশিষ্ট অর্থ: সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

রুট ও অবকাঠামো

  • মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৭.৪ কিলোমিটার (গাবতলী থেকে দশেরকান্দি)।
  • রুট: গাবতলী–কল্যাণপুর–মিরপুর রোড–পান্থপথ–কারওয়ান বাজার–হাতিরঝিল–আফতাবনগর–দশেরকান্দি।
  • গাবতলী–আফতাবনগর অংশে ১২.৮ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন ও ১২টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন থাকবে। বাকি অংশে ৪টি উড়াল স্টেশন হবে।

যাত্রী ধারণক্ষমতা ও চালনার সূচি

  • ডিপিপি অনুযায়ী, ২০৩১ সালে গাবতলী–দশেরকান্দি অংশে প্রতি ৪.৫ মিনিট পরপর ট্রেন চলবে।
  • ঘণ্টায় যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা: প্রায় ১৯,৫০০ জন।


ঋণচুক্তির অগ্রগতি

  • ইআরডি জানায়, এডিবির সঙ্গে প্রকল্প ঋণ নিয়ে আলোচনা এক বছর আগেই শেষ হয়েছে; কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা সম্পন্ন।
  • তবে পরিকল্পনা কমিশন ডিপিপি অনুমোদন না দেওয়ায় এখনো ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়নি।

পটভূমি

২০১৯ সালের নভেম্বরে এডিবি এমআরটি লাইন–৫ (দক্ষিণ)–এর নকশা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দরপত্র প্রস্তুতি ইত্যাদি কাজের জন্য ৩৩.২৬ মিলিয়ন ডলারের স্বল্পসুদে ঋণ অনুমোদন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পোর্টফোলিওর ২০২৬ সালের জন্যও এডিবি নির্দিষ্ট তহবিল রেখেছে; কিন্তু এ প্রকল্পে বরাদ্দ টিকিয়ে রাখতে ২০২৫–এর আগে নির্মাণ শুরু করা জরুরি বলে এডিবির বার্তা।


কী ঝুঁকি, কী করণীয়

  • অনুমোদনে দেরি হলে: খরচ বৃদ্ধি, যাত্রীসেবা চালুতে বিলম্ব, যানজট ও দূষণ কমানোর সুফল পেতে দেরি।
  • অর্থায়ন ঝুঁকি: এ বছর কাজ শুরু না হলে ২০২৫–এর পর এডিবির প্রকল্প–তহবিল ‘শুকিয়ে’ যেতে পারে।
  • করণীয়: দ্রুত ডিপিপি অনুমোদন, একনেকে তোলা, এডিবি ও কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন করে নির্মাণ শুরু করা।

#এমআরটি৫ #এডিবি #পরিকল্পনাকমিশন #ঢাকা_মেট্রোরেল #অবকাঠামো #বাংলাদেশ_উন্নয়ন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘চাকরি বৃদ্ধির সংকট’ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠলো

এমআরটি–৫ দক্ষিণ লাইনে অনুমোদনে দেরি

১১:১৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঢাকা এমআরটি লাইন–৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয়েছে—বাংলাদেশ এ বছরই নির্মাণকাজ শুরু না করলে ২০২৫ সালের পর প্রকল্পটির জন্য রাখা অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখনো পরিকল্পনা কমিশনে (পিসি) ঝুলে থাকায় ঋণচুক্তির প্রক্রিয়াও থেমে আছে।


প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

  • এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অর্থায়ন ঝুঁকির সতর্কতা জানানো হয়।
  • ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে; অনুমোদন হলেই এডিবি ও সহ-অর্থায়নকারী কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি করা হবে।
  • পরিকল্পনা উপদেষ্টা এখনো ৪৭.৭২ বিলিয়ন টাকার (প্রায় ৪,৭৭২ কোটি টাকা) প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) তোলার জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেননি।
  • তবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ইতিমধ্যে একনেকে তোলার সুপারিশ করেছে।


কেন আটকে আছে

সরকারি একাধিক সূত্র বলছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে উচ্চ ব্যয়ের নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকায় অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর হচ্ছে।


অর্থায়ন কাঠামো

  • মোট ব্যয়: ৪৭.৭২ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৪,৭৭২ কোটি টাকা)।
  • উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি: এডিবি ও কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক মিলে ৩২.৩৩ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ৩,২৩৩ কোটি টাকা)।
  • অবশিষ্ট অর্থ: সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

রুট ও অবকাঠামো

  • মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৭.৪ কিলোমিটার (গাবতলী থেকে দশেরকান্দি)।
  • রুট: গাবতলী–কল্যাণপুর–মিরপুর রোড–পান্থপথ–কারওয়ান বাজার–হাতিরঝিল–আফতাবনগর–দশেরকান্দি।
  • গাবতলী–আফতাবনগর অংশে ১২.৮ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ লাইন ও ১২টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন থাকবে। বাকি অংশে ৪টি উড়াল স্টেশন হবে।

যাত্রী ধারণক্ষমতা ও চালনার সূচি

  • ডিপিপি অনুযায়ী, ২০৩১ সালে গাবতলী–দশেরকান্দি অংশে প্রতি ৪.৫ মিনিট পরপর ট্রেন চলবে।
  • ঘণ্টায় যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা: প্রায় ১৯,৫০০ জন।


ঋণচুক্তির অগ্রগতি

  • ইআরডি জানায়, এডিবির সঙ্গে প্রকল্প ঋণ নিয়ে আলোচনা এক বছর আগেই শেষ হয়েছে; কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা সম্পন্ন।
  • তবে পরিকল্পনা কমিশন ডিপিপি অনুমোদন না দেওয়ায় এখনো ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করা হয়নি।

পটভূমি

২০১৯ সালের নভেম্বরে এডিবি এমআরটি লাইন–৫ (দক্ষিণ)–এর নকশা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দরপত্র প্রস্তুতি ইত্যাদি কাজের জন্য ৩৩.২৬ মিলিয়ন ডলারের স্বল্পসুদে ঋণ অনুমোদন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পোর্টফোলিওর ২০২৬ সালের জন্যও এডিবি নির্দিষ্ট তহবিল রেখেছে; কিন্তু এ প্রকল্পে বরাদ্দ টিকিয়ে রাখতে ২০২৫–এর আগে নির্মাণ শুরু করা জরুরি বলে এডিবির বার্তা।


কী ঝুঁকি, কী করণীয়

  • অনুমোদনে দেরি হলে: খরচ বৃদ্ধি, যাত্রীসেবা চালুতে বিলম্ব, যানজট ও দূষণ কমানোর সুফল পেতে দেরি।
  • অর্থায়ন ঝুঁকি: এ বছর কাজ শুরু না হলে ২০২৫–এর পর এডিবির প্রকল্প–তহবিল ‘শুকিয়ে’ যেতে পারে।
  • করণীয়: দ্রুত ডিপিপি অনুমোদন, একনেকে তোলা, এডিবি ও কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন করে নির্মাণ শুরু করা।

#এমআরটি৫ #এডিবি #পরিকল্পনাকমিশন #ঢাকা_মেট্রোরেল #অবকাঠামো #বাংলাদেশ_উন্নয়ন #সারাক্ষণ_রিপোর্ট