১০:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশে নতুন সরকারকে জুলাই চাটার সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে: আইআরআই মারডক সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন: ক্ষমতা, বিতর্ক ও উত্তরাধিকার সংকটের অন্তরালের কাহিনি উড়ে যাওয়া “বিদ্যুৎচালিত” নৌকা: শহুরে পরিবহন বদলে দেবে কি? ওয়াদারিং হাইটস অবলম্বনে বিতর্কিত নতুন সিনেমা, প্রেম নাকি কেবল শরীরের ঝড়? ক্রিপ্টো শীতের তীব্র প্রহার: বিটকয়েন ও ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে মরণঘণ্টা বাজছে আজ চোখের মতো বুদ্ধিমত্তা! রোবটদের দৃষ্টি এবার হবে মানুষের চেয়ে চারগুণ দ্রুত আত্মনির্ভরতার তরঙ্গ: আমেরিকায় সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপ বুম এশিয়ার করপোরেট শাসনে বিপ্লব: জাপানের পথচলা কি বদলে দেবে পুরো অঞ্চলের পুঁজিবাজার? তারেক রহমানের শপথে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ পাঠানোর পরিকল্পনা বিএনপির ভোটে পরাজিত হলেও সংসদে যেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতেই নৈতিক সাংবাদিকতার ভিত্তি—ঢাকায় সিজেন ১০ম সম্মেলনে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

দুই দিনের সম্মেলন শুরু ঢাকায়

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক (সিজেন)-এর দুই দিনের ১০ম বার্ষিক সম্মেলন শুক্রবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই নৈতিক সাংবাদিকতা বিকাশের মূলভিত্তি।

এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগ, ডিডাব্লিউ একাডেমি, জার্মান কোঅপারেশন এবং সিজেনের যৌথ উদ্যোগে।


বৃহত্তম সাংবাদিকতা শিক্ষাবিদ সমাবেশ

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি একাডেমিক, গবেষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী। এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষাবিদদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী দিনে উপস্থাপন করা হয় বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহামুদুল হকের গবেষণা—‘বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা’।


গবেষণার চমকপ্রদ পরিসংখ্যান

গবেষণায় মাহামুদুল হক দেশের ৫১৮ জন সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন। তার প্রতিবেদনে দেখা যায়—

  • ৩৭.৫ শতাংশ সাংবাদিক অন্তত একবার পেশাগত কারণে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন।
  • ৬৫.৬ শতাংশ সাংবাদিক হুমকির মুখে পড়েছেন।
  • ২২.৪ শতাংশ ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।
  • ৭৮.৭ শতাংশ মানসিক হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।
  • ৫২.৩ শতাংশ সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আরও দেখা যায়, ৩৬.৭ শতাংশ সাংবাদিক পুলিশি হয়রানি বা ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়েছেন, আর ৬৯.৩ শতাংশ অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে হুমকি ও আতঙ্কের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

গ্রুপিং বা দলীয় সাংবাদিকতায় নষ্ট হচ্ছে সাংবাদিকদের নিজস্ব ভাবমুর্তি -  কলারোয়া নিউজ

নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

গবেষণার ফলাফলে আরও উঠে এসেছে যে, ৮৭.৯ শতাংশ সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগে ভুগছেন। ৮৯.৬ শতাংশ মনে করেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বহুস্তরীয় ও জটিল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।


নীতিগত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা

সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক মাহামুদুল হক বলেন, এই গবেষণা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা’কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, নীতিগত হস্তক্ষেপ এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত অতিথিরা

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ আবুল ফাইজ, এএমআইসি মহাসচিব র‍্যামন গিলারমো আর. জেনিলো, এআইইউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, এআইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. কারমেন জে. লামাগনা ও ইস্তিয়াক আবেদিন, এবং ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য ও সিজেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুড উইলিয়াম জেনিলোসহ আরও অনেকে।

সিজেনের এই সম্মেলন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে সমাজে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা কখনোই টেকসই হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে নতুন সরকারকে জুলাই চাটার সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে: আইআরআই

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতেই নৈতিক সাংবাদিকতার ভিত্তি—ঢাকায় সিজেন ১০ম সম্মেলনে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

০৭:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

দুই দিনের সম্মেলন শুরু ঢাকায়

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক (সিজেন)-এর দুই দিনের ১০ম বার্ষিক সম্মেলন শুক্রবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই নৈতিক সাংবাদিকতা বিকাশের মূলভিত্তি।

এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগ, ডিডাব্লিউ একাডেমি, জার্মান কোঅপারেশন এবং সিজেনের যৌথ উদ্যোগে।


বৃহত্তম সাংবাদিকতা শিক্ষাবিদ সমাবেশ

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি একাডেমিক, গবেষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী। এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষাবিদদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী দিনে উপস্থাপন করা হয় বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহামুদুল হকের গবেষণা—‘বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা’।


গবেষণার চমকপ্রদ পরিসংখ্যান

গবেষণায় মাহামুদুল হক দেশের ৫১৮ জন সাংবাদিকের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন। তার প্রতিবেদনে দেখা যায়—

  • ৩৭.৫ শতাংশ সাংবাদিক অন্তত একবার পেশাগত কারণে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন।
  • ৬৫.৬ শতাংশ সাংবাদিক হুমকির মুখে পড়েছেন।
  • ২২.৪ শতাংশ ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।
  • ৭৮.৭ শতাংশ মানসিক হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।
  • ৫২.৩ শতাংশ সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আরও দেখা যায়, ৩৬.৭ শতাংশ সাংবাদিক পুলিশি হয়রানি বা ভয়ভীতির সম্মুখীন হয়েছেন, আর ৬৯.৩ শতাংশ অন্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে হুমকি ও আতঙ্কের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

গ্রুপিং বা দলীয় সাংবাদিকতায় নষ্ট হচ্ছে সাংবাদিকদের নিজস্ব ভাবমুর্তি -  কলারোয়া নিউজ

নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

গবেষণার ফলাফলে আরও উঠে এসেছে যে, ৮৭.৯ শতাংশ সাংবাদিক তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগে ভুগছেন। ৮৯.৬ শতাংশ মনে করেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বহুস্তরীয় ও জটিল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।


নীতিগত সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা

সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক মাহামুদুল হক বলেন, এই গবেষণা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা’কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, নীতিগত হস্তক্ষেপ এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত অতিথিরা

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ আবুল ফাইজ, এএমআইসি মহাসচিব র‍্যামন গিলারমো আর. জেনিলো, এআইইউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, এআইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. কারমেন জে. লামাগনা ও ইস্তিয়াক আবেদিন, এবং ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য ও সিজেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুড উইলিয়াম জেনিলোসহ আরও অনেকে।

সিজেনের এই সম্মেলন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে সমাজে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা কখনোই টেকসই হবে না।