১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য রবিন হুডের অন্ধকার অধ্যায়: কিংবদন্তিকে নতুনভাবে দেখাল ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ প্লেভের সাফল্যে উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়ার ভার্চুয়াল আইডল বাজার, একের পর এক নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে সাইবার হামলা কি যুদ্ধের সমান? আন্তর্জাতিক আইনের নতুন সীমারেখা

প্রোটিন পাউডারে বিপজ্জনক মাত্রার সিসার উপস্থিতি

নতুন গবেষণার উদ্বেগজনক ফলাফল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘কনজিউমার রিপোর্টস’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত একাধিক প্রোটিন পাউডারে বিপজ্জনক মাত্রার সিসা (lead) পাওয়া গেছে। মোট ২৩টি প্রোটিন পাউডারের নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যেই এক চামচ (এক সার্ভিং)-এর মধ্যে দৈনিক নিরাপদ সীমা ০.৫ মাইক্রোগ্রাম সিসার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের পণ্যে সিসার গড় পরিমাণ আরও বেড়েছে।


উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনে বেশি ভারী ধাতু

কনজিউমার রিপোর্টস জানিয়েছে, উদ্ভিদভিত্তিক (plant-based) প্রোটিন পাউডারে গড়ে ভারী ধাতুর পরিমাণ দুগ্ধজাত প্রোটিন—যেমন ‘হুই’—এর চেয়ে নয় গুণ বেশি। আবার গরুর মাংসভিত্তিক প্রোটিনের তুলনায়ও এটি দ্বিগুণের বেশি।

সংস্থার খাদ্য ও নিরাপত্তা গবেষক টুন্ডে আকিনলায়ে বলেন, “এই প্রোটিন পাউডারগুলোতে যতটা লাভ হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারে।”


প্রতিদিন ব্যবহার না করার পরামর্শ

আকিনলায়ে সতর্ক করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন প্রোটিন পাউডার সেবনের পরামর্শ দিচ্ছি না, কারণ অনেক পণ্যে ভারী ধাতুর পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এসব পাউডার একেবারেই অপরিহার্য নয়।”

গবেষকের মতে, নিয়মিত এসব পণ্য গ্রহণ শরীরে বিষাক্ত ধাতুর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।


ফিটনেস শিল্পে জনপ্রিয়তা ও ঝুঁকি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও সাপ্লিমেন্ট পণ্য দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে ফিটনেস সচেতন মানুষ ও অ্যাথলেটদের মধ্যে। প্রোটিন পাউডারকে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পেশি বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে দেখা হয়।

তবে গবেষকরা বলছেন, এই অন্ধ জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রোটিন পেতে প্রাকৃতিক উৎস—যেমন ডিম, মাছ, দুধ ও ডাল—সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।


#প্রোটিনপাউডার #সিসাদূষণ #স্বাস্থ্যঝুঁকি #কনজিউমাররিপোর্টস #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

প্রোটিন পাউডারে বিপজ্জনক মাত্রার সিসার উপস্থিতি

১২:১২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

নতুন গবেষণার উদ্বেগজনক ফলাফল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘কনজিউমার রিপোর্টস’-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত একাধিক প্রোটিন পাউডারে বিপজ্জনক মাত্রার সিসা (lead) পাওয়া গেছে। মোট ২৩টি প্রোটিন পাউডারের নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যেই এক চামচ (এক সার্ভিং)-এর মধ্যে দৈনিক নিরাপদ সীমা ০.৫ মাইক্রোগ্রাম সিসার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের পণ্যে সিসার গড় পরিমাণ আরও বেড়েছে।


উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনে বেশি ভারী ধাতু

কনজিউমার রিপোর্টস জানিয়েছে, উদ্ভিদভিত্তিক (plant-based) প্রোটিন পাউডারে গড়ে ভারী ধাতুর পরিমাণ দুগ্ধজাত প্রোটিন—যেমন ‘হুই’—এর চেয়ে নয় গুণ বেশি। আবার গরুর মাংসভিত্তিক প্রোটিনের তুলনায়ও এটি দ্বিগুণের বেশি।

সংস্থার খাদ্য ও নিরাপত্তা গবেষক টুন্ডে আকিনলায়ে বলেন, “এই প্রোটিন পাউডারগুলোতে যতটা লাভ হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারে।”


প্রতিদিন ব্যবহার না করার পরামর্শ

আকিনলায়ে সতর্ক করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন প্রোটিন পাউডার সেবনের পরামর্শ দিচ্ছি না, কারণ অনেক পণ্যে ভারী ধাতুর পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এসব পাউডার একেবারেই অপরিহার্য নয়।”

গবেষকের মতে, নিয়মিত এসব পণ্য গ্রহণ শরীরে বিষাক্ত ধাতুর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।


ফিটনেস শিল্পে জনপ্রিয়তা ও ঝুঁকি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও সাপ্লিমেন্ট পণ্য দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে ফিটনেস সচেতন মানুষ ও অ্যাথলেটদের মধ্যে। প্রোটিন পাউডারকে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পেশি বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে দেখা হয়।

তবে গবেষকরা বলছেন, এই অন্ধ জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রোটিন পেতে প্রাকৃতিক উৎস—যেমন ডিম, মাছ, দুধ ও ডাল—সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।


#প্রোটিনপাউডার #সিসাদূষণ #স্বাস্থ্যঝুঁকি #কনজিউমাররিপোর্টস #সারাক্ষণরিপোর্ট