মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে অথবা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে বা পথেই অকার্যকর হয়ে যায়। এছাড়া আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব হামলায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ
বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান একাধিকবার এসব দেশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলোও সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে থাকায় সংকট নিরসনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ থাকলে সামরিক সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে, সংঘাত এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি একটি অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

























