পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান আইনসভার নির্বাচনের প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। ২৪টি আসনের মধ্যে দলটি ১০টিতে এগিয়ে থাকলেও নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, পিপিপির পরেই রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ), যারা ছয়টি আসনে এগিয়ে আছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাঁচটি আসনে এবং পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছেন। তাদের মিত্র দল একটি আসনে শীর্ষে রয়েছে।
নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে কারা
গিলগিট অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিপিপি ও পিএমএল-এনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। গিলগিটের একটি আসনে পিপিপির আঞ্চলিক সভাপতি এগিয়ে থাকলেও পাশের আরেকটি আসনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিএমএল-এনের শীর্ষ নেতা এগিয়ে রয়েছেন।
স্কার্দু, রন্দু, খারমাং ও শিগার অঞ্চলের একাধিক আসনে পিপিপি ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাস্টোর, তাঙ্গির, ঘিজার ও ঘাঞ্চের কয়েকটি আসনে পিএমএল-এনের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন। বিশেষ করে দিয়ামের, ইয়াসিন ও ঘাঞ্চের কয়েকটি আসনে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
ভোট কারচুপির অভিযোগ
নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। আশ্চর্যের বিষয়, এগিয়ে থাকা পিপিপিও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ফল যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি নথি প্রার্থীদের সরবরাহে বিলম্ব করা হয়েছে। তাদের দাবি, কিছু স্থানে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের ঘটনাও ঘটেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
একটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র হঠাৎ স্থানান্তরের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান বলেও জানা গেছে।
পিটিআইয়ের অভিযোগ আরও গুরুতর
নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরাও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। দলটির দাবি, সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত তাদের প্রার্থীরা অনেক আসনে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু পরে সন্দেহজনক ফলাফল প্রকাশ পেতে শুরু করে।
পিটিআই অভিযোগ করেছে, কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি ভোট পড়েছে এবং তাদের নির্বাচনী প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি নির্বাচনী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফলাফল প্রভাবিত করার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দলটি আরও দাবি করেছে, ভোটের আগে কিছু এলাকায় ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ভোটের সরকারি দাবি
অভিযোগের বিপরীতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণকে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল বলে জানানো হয়েছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা
কঠিন শীতের কারণে চার মাস বিলম্বের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২৪টি সাধারণ আসনের জন্য প্রায় ৪০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার।
এখন সবার নজর চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে। পিপিপি ও পিএমএল-এনের শীর্ষ আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্বের লড়াই নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















