০৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নজরহীন সমুদ্রতল, ঝুঁকিতে বিশ্বের ডিজিটাল ধমনি জোহরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: কয়েকটি আসনই ঠিক করতে পারে পরবর্তী সরকার মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ প্রাণহানি, সবচেয়ে ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল এফবিসিসিআইর স্বাগত বাজেট, তবে রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ ভারতের আসামে বিমানবাহিনীর এএন-৩২ বিধ্বস্ত, অবতরণের সময় আগুন লেবাননে আবারও ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫; যুদ্ধবিরতি নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: আগামী ৫০ বছরে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার আশা চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, বালু ব্যবসার বিরোধের অভিযোগ হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৬৪৮ এক ট্রিলিয়ন ডলারের মানুষ এবং পুঁজিবাদের নতুন বিশ্বাসব্যবস্থা

বিশ্বকাপের ফ্রেমে ফুটবলের ইতিহাস: পেলের জাদু থেকে ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, এটি আবেগ, নাটকীয়তা, গৌরব আর স্মরণীয় মুহূর্তের এক বিশাল ভান্ডার। সেই ইতিহাসের অসংখ্য দৃশ্যকে নিজের ক্যামেরায় বন্দি করেছেন কিংবদন্তি ক্রীড়া আলোকচিত্রী পিটার রবিনসন। ১৩টি বিশ্বকাপ কভার করা এই ফটোগ্রাফারের তোলা কিছু প্রিয় ছবি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে ফুটবলের কয়েক দশকের সেরা মুহূর্তগুলো ধরা পড়েছে জীবন্তভাবে।

পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে, সম্ভাব্য দাম ৬০ লাখ ডলার

পেলের বিশ্বকাপ থেকে যাত্রা

পিটার রবিনসনের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। সেই আসরে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে তিনি ক্যামেরাবন্দি করেন ফুটবল কিংবদন্তি পেলে, ইংল্যান্ডের ববি চার্লটন এবং কোচ স্যার আলফ র‍্যামসের উপস্থিতি। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।

সেই বিশ্বকাপই পরবর্তী সময়ে রবিনসনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবল-ফটোগ্রাফি জীবনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

10-Minute Match | Lethal Netherlands 4-0 Argentina | A 1974 Classic

ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনার উত্থান

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ‘টোটাল ফুটবল’ যুগের প্রতীক জোহান ক্রুইফকে তাঁর বিখ্যাত ১৪ নম্বর জার্সিতে ক্যামেরাবন্দি করেন রবিনসন। এরপর ১৯৭৮ সালে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের নানা মুহূর্তও তাঁর ছবিতে ধরা পড়ে।

পেরুকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা থেকে শুরু করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ড্যানিয়েল বার্তোনির গোল—সবই হয়ে আছে ইতিহাসের অংশ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ওসি আর্দিলেসের উদযাপনও স্থান পেয়েছে তাঁর সংগ্রহে।

ঈশ্বরের হাত থেকে ফুটবলের মহাকাব্য—শুভ জন্মদিন, ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার মহাকাব্যিক মুহূর্ত

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা উঠলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একক নৈপুণ্যে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

রবিনসনের তোলা ছবিতে দেখা যায়, গোলের পর উচ্ছ্বাসে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন ম্যারাডোনা, আর পেছনে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের হতাশ মুখ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এই ফ্রেম।

বিখ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ গোল: রবার্তো ব্যাজিওর ব্রিলিয়ান্স | 1990, ইতালি বনাম  চেকোস্লোভাকিয়া, এবং ঘটনা | ব্রিটানিকা

আবেগ, বেদনা ও হারানোর গল্প

বিশ্বকাপ শুধু সাফল্যের গল্প নয়, এটি বেদনাও বহন করে। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড কোচ জ্যাক চার্লটনের উদ্বিগ্ন মুখ কিংবা ইংল্যান্ড কোচ ববি রবসনের হতাশ প্রতিক্রিয়া—সবই ফুটবলের আবেগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একই আসরে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর রবসনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার—এই ছবিটিও বিশ্বকাপের মানবিক দিককে তুলে ধরে।

কতটা ভয়ংকর ছিলেন 'আসল রোনালদো'

রোনালদো, ইনিয়েস্তা ও নতুন যুগ

১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের হতাশা, ২০০২ সালে ইয়োকোহামায় ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর করা কিউবিকল, ২০০৬ সালের ফাইনালে ডেভিড ত্রেজেগের ব্যর্থ পেনাল্টির পূর্বমুহূর্ত—সবই রবিনসনের ক্যামেরায় অমর হয়ে আছে।

২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোল এবং ২০১৮ সালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ট্রফি গ্রহণের দৃশ্যও তাঁর সংগ্রহের অন্যতম আকর্ষণ।

বিশ্বকাপে নতুন ক্যামেরা ব্যবহার - টেক শহর

ক্যামেরার চোখে বিশ্বকাপের ইতিহাস

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের মাঠে কাজ করা পিটার রবিনসনের ছবিগুলো শুধু খেলার দৃশ্য নয়, বরং ফুটবলের সাংস্কৃতিক ও আবেগঘন ইতিহাসের দলিল। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রতিটি ফ্রেম বিশ্বকাপের একেকটি যুগ, একেকটি গল্প এবং কোটি সমর্থকের স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে।

Pelé, Maradona and Big Jack — a lifetime of shooting World Cups

বিশ্বকাপের স্মরণীয় ছবি

মেক্সিকো ১৯৭০ থেকে রাশিয়া ২০১৮—১৩টি বিশ্বকাপের অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে একসঙ্গে তুলে ধরেছেন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী পিটার রবিনসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নজরহীন সমুদ্রতল, ঝুঁকিতে বিশ্বের ডিজিটাল ধমনি

বিশ্বকাপের ফ্রেমে ফুটবলের ইতিহাস: পেলের জাদু থেকে ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’

০৬:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, এটি আবেগ, নাটকীয়তা, গৌরব আর স্মরণীয় মুহূর্তের এক বিশাল ভান্ডার। সেই ইতিহাসের অসংখ্য দৃশ্যকে নিজের ক্যামেরায় বন্দি করেছেন কিংবদন্তি ক্রীড়া আলোকচিত্রী পিটার রবিনসন। ১৩টি বিশ্বকাপ কভার করা এই ফটোগ্রাফারের তোলা কিছু প্রিয় ছবি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যেখানে ফুটবলের কয়েক দশকের সেরা মুহূর্তগুলো ধরা পড়েছে জীবন্তভাবে।

পেলের বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে, সম্ভাব্য দাম ৬০ লাখ ডলার

পেলের বিশ্বকাপ থেকে যাত্রা

পিটার রবিনসনের প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। সেই আসরে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে তিনি ক্যামেরাবন্দি করেন ফুটবল কিংবদন্তি পেলে, ইংল্যান্ডের ববি চার্লটন এবং কোচ স্যার আলফ র‍্যামসের উপস্থিতি। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।

সেই বিশ্বকাপই পরবর্তী সময়ে রবিনসনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবল-ফটোগ্রাফি জীবনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

10-Minute Match | Lethal Netherlands 4-0 Argentina | A 1974 Classic

ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনার উত্থান

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের ‘টোটাল ফুটবল’ যুগের প্রতীক জোহান ক্রুইফকে তাঁর বিখ্যাত ১৪ নম্বর জার্সিতে ক্যামেরাবন্দি করেন রবিনসন। এরপর ১৯৭৮ সালে স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের নানা মুহূর্তও তাঁর ছবিতে ধরা পড়ে।

পেরুকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা থেকে শুরু করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ড্যানিয়েল বার্তোনির গোল—সবই হয়ে আছে ইতিহাসের অংশ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ওসি আর্দিলেসের উদযাপনও স্থান পেয়েছে তাঁর সংগ্রহে।

ঈশ্বরের হাত থেকে ফুটবলের মহাকাব্য—শুভ জন্মদিন, ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার মহাকাব্যিক মুহূর্ত

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা উঠলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একক নৈপুণ্যে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।

রবিনসনের তোলা ছবিতে দেখা যায়, গোলের পর উচ্ছ্বাসে দুই হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন ম্যারাডোনা, আর পেছনে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের হতাশ মুখ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয় এই ফ্রেম।

বিখ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ গোল: রবার্তো ব্যাজিওর ব্রিলিয়ান্স | 1990, ইতালি বনাম  চেকোস্লোভাকিয়া, এবং ঘটনা | ব্রিটানিকা

আবেগ, বেদনা ও হারানোর গল্প

বিশ্বকাপ শুধু সাফল্যের গল্প নয়, এটি বেদনাও বহন করে। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড কোচ জ্যাক চার্লটনের উদ্বিগ্ন মুখ কিংবা ইংল্যান্ড কোচ ববি রবসনের হতাশ প্রতিক্রিয়া—সবই ফুটবলের আবেগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

একই আসরে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর রবসনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার—এই ছবিটিও বিশ্বকাপের মানবিক দিককে তুলে ধরে।

কতটা ভয়ংকর ছিলেন 'আসল রোনালদো'

রোনালদো, ইনিয়েস্তা ও নতুন যুগ

১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের হতাশা, ২০০২ সালে ইয়োকোহামায় ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর করা কিউবিকল, ২০০৬ সালের ফাইনালে ডেভিড ত্রেজেগের ব্যর্থ পেনাল্টির পূর্বমুহূর্ত—সবই রবিনসনের ক্যামেরায় অমর হয়ে আছে।

২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোল এবং ২০১৮ সালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ট্রফি গ্রহণের দৃশ্যও তাঁর সংগ্রহের অন্যতম আকর্ষণ।

বিশ্বকাপে নতুন ক্যামেরা ব্যবহার - টেক শহর

ক্যামেরার চোখে বিশ্বকাপের ইতিহাস

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের মাঠে কাজ করা পিটার রবিনসনের ছবিগুলো শুধু খেলার দৃশ্য নয়, বরং ফুটবলের সাংস্কৃতিক ও আবেগঘন ইতিহাসের দলিল। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রতিটি ফ্রেম বিশ্বকাপের একেকটি যুগ, একেকটি গল্প এবং কোটি সমর্থকের স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে।

Pelé, Maradona and Big Jack — a lifetime of shooting World Cups

বিশ্বকাপের স্মরণীয় ছবি

মেক্সিকো ১৯৭০ থেকে রাশিয়া ২০১৮—১৩টি বিশ্বকাপের অবিস্মরণীয় মুহূর্তকে একসঙ্গে তুলে ধরেছেন কিংবদন্তি আলোকচিত্রী পিটার রবিনসন।