ব্রিটেনের মানুষের ভোটে দেশের সবচেয়ে প্রিয় প্রজাপতির স্বীকৃতি পেয়েছে ময়ূর প্রজাপতি। চোখের মতো বর্ণিল নকশা আর সহজে দেখা মেলার কারণে এই প্রজাতিটি অন্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এক জনভোটে ৬০টি দেশীয় প্রজাতির মধ্যে ময়ূর প্রজাপতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পায়। ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের পছন্দের প্রজাপতির জন্য ভোট দেন। ফলাফলে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে দেখা যায় এমন পরিচিত প্রজাতিগুলোই মানুষের বেশি মন জয় করেছে।
রঙিন প্রজাতিদের আধিপত্য
তালিকায় ময়ূর প্রজাপতির পর রয়েছে কমলা-ডগা, লাল অ্যাডমিরাল, হোলি নীল এবং উজ্জ্বল হলুদ ব্রিমস্টোন প্রজাতি। এসব প্রজাপতি সাধারণত বাগান, পার্ক এবং শহরতলির সবুজ এলাকায় নিয়মিত দেখা যায়। ফলে মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচিতি এবং আবেগের সম্পর্কও বেশি।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতিগুলো খুব বেশি সমর্থন পায়নি। ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় প্রজাপতি সোয়ালোটেইল তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে, এই প্রজাতি সাধারণত নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকায় অধিকাংশ মানুষের কাছে খুব পরিচিত নয়।

প্রজাপতি প্রেমীদের উচ্ছ্বাস
প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় বেগুনি সম্রাট প্রজাপতি তালিকায় পনেরোতম স্থানে অবস্থান করেছে। যদিও এই প্রজাতিকে ঘিরে উৎসাহী অনুসারীদের একটি শক্তিশালী সম্প্রদায় রয়েছে, তবু সাধারণ ভোটারদের কাছে এটি শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে প্রজাপতি এখনও দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি প্রাণী। নানা রঙ, আকার ও বৈশিষ্ট্যের প্রজাপতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ভোটের ফলাফলেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রীষ্মে আরও বাড়তে পারে উপস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছরের গ্রীষ্মে ময়ূর প্রজাপতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাদের শূককীটের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নতুন প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক প্রজাপতি দেখা যেতে পারে।
একই সময়ে আফ্রিকা থেকে আগত পরিযায়ী রঙিন প্রজাতি পেইন্টেড লেডিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় পৌঁছেছে। তাদের শূককীট বিভিন্ন উদ্ভিদে খাদ্য গ্রহণের পর নতুন প্রজন্মের জন্ম দেবে, যা গ্রীষ্মের শেষভাগে প্রজাপতির সংখ্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রকৃতির রঙিন এই দূতেরা শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং জীববৈচিত্র্যের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও কাজ করে। তাই মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা ভবিষ্যতে তাদের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















