গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের পরিচিত এক বিরল পাখি হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে যুক্তরাজ্যে। উত্তর ওয়েলসে পশ্চিম উপকূলীয় বকের উপস্থিতি শুধু পাখিপ্রেমীদের মধ্যেই নয়, প্রকৃতিবিদদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাখিদের আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র বদলে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে
সাধারণত পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে দেখা যায় এই পাখিকে। তবে গত সপ্তাহে উত্তর ওয়েলসের একটি উপসাগরে প্রথমবারের মতো এর উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে পাখিটিকে কাছের একটি বন্দরে নৌকার আশপাশে খাদ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি পর্যবেক্ষকরা সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন। বিরল প্রজাতির এই পাখিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ অনেকের কাছেই ছিল বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।
জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। তুলনামূলক উষ্ণ শীত এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আগে দক্ষিণাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা অনেক প্রজাতি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে বিস্তার লাভ করছে।
অতীতে যেসব অগভীর জলাশয় শীতকালে নিয়মিত জমে যেত, এখন সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বরফমুক্ত থাকছে। ফলে অগভীর পানিতে খাদ্য সংগ্রহকারী বক ও অনুরূপ পাখিদের জন্য নতুন অঞ্চলগুলোও বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।
আরও বিরল পাখির দেখা
একই সময়ে ইংল্যান্ডের লিংকনশায়ার অঞ্চলে আরেকটি বিরল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বকের উপস্থিতিও পাখিপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়েছে। এই প্রজাতির পাখি বছরে হাতে গোনা কয়েকবার মাত্র যুক্তরাজ্যে দেখা যায়।
জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, প্রকৃতির ভৌগোলিক বিন্যাসে ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রাণী ও পাখি নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

ক্রমশ বাড়ছে বিরল দর্শন
গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যে আরও কয়েকটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উষ্ণ আবহাওয়ার পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে কালো ডানার ঘুড়ি, বাদামি সামুদ্রিক পাখি এবং সাদা-পিঠের দ্রুতগতির পাখির মতো প্রজাতি। এসব উপস্থিতি গবেষকদের কাছে পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পশ্চিম উপকূলীয় বক ইতোমধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সসহ দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে একসময় যুক্তরাজ্যেও এর উপস্থিতি ঘটবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
চেহারায় আলাদা বৈশিষ্ট্য
আকার ও গঠনে পাখিটি সাধারণ সাদা বকের মতো হলেও এর নীলচে-ধূসর পালক সহজেই একে আলাদা করে চেনায়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই পাখিটি পাখিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না যে আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রজাতির অসংখ্য উপস্থিতি দেখা যাবে। তবুও ভবিষ্যতে আরও কিছু রেকর্ড সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব এখন শুধু তাপমাত্রার পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। পাখির অভিবাসন, নতুন আবাসস্থল নির্বাচন এবং জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















