কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের পরিচালিত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। এ ঘটনায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত নারিমান জেলিয়ালভকে তলব করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রুশ বন্দরের কাছে পরপর হামলা
চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার তুয়াপসে বন্দরের কাছে কৃষ্ণসাগরে হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। বুধবার ‘লিডার বোর্দো মাভি’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে অন্তত তিনটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং পাঁচজন নাবিক আহত হন।
পরদিন ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে সহায়তা করতে ‘লিডার কোকাতেপে’ নামের আরেকটি জাহাজ সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু যাওয়ার পথেই সেটিও ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজটির ক্ষতি হলে সেটিকে তুরস্কের সামসুন বন্দরের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ
শনিবার আঙ্কারায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তুরস্কের কর্মকর্তারা। বৈঠকে কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ জানানো হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে মানুষের জীবন, সম্পদ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃষ্ণসাগরজুড়ে বাড়ছে ঝুঁকি
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার বন্দরের দিকে যাওয়া-আসা করা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াও ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ ও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে। এতে ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দরগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক বাণিজ্যও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তুরস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু জাহাজও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের
কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্ক এর আগেও উদ্বেগ জানিয়েছে। আগস্টের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান উভয় পক্ষকে এ ধরনের হামলা বন্ধ করে একটি সাময়িক বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধের প্রভাব এখন পুরো কৃষ্ণসাগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ ছিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।
তুরস্কের সর্বশেষ কূটনৈতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে, কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধের বিস্তার শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব বেসামরিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ক্রমেই বাড়ছে।
কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ—এই তিনটি বিষয়ই এখন আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















