০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • 160

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


হাইতির নীল শিল্পের বিলুপ্তি
হাইতির নীল শিল্পের ক্রমাবনতি হয়েছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু হাইতির নীলের ধ্বংস নেমে এল অকস্মাৎ। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে হাইতির (সেন্ট ডোমিঙ্গো) ফরাসী উদ্যোক্তারা তামাক চাষ করা থেকে নীল চাষের দিকে ঝুঁকলো। অবশ্যই এতে লাভ হত বেশি কিন্তু সে হল বড় চাষীদের ক্ষেত্রে। শীঘ্রই হাইতির অর্থনীতি হয়ে পড়ল নীল নির্ভর। ১৬৯৪ সালের দিকে সব “বিদেশী নীলের” রফতানী নিষিদ্ধ করে দিল সরকার।
ফরাসী বাজারে হাইতির নীল যাতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্যেই এই ব্যবস্থা। ফ্রান্সের হাইতির যে নীল আমদানী করা হত তার কম করে অর্দ্ধেক নীল আবার রফতানী করা হত ইউরোপের বাজারে (নেদারল্যান্ড ও জার্মেনী)।২৯ ১৭৩০ খ্রীঃ হাইতির উপনিবেশে নীলকরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। এ সংখ্যা অবশ্য ওঠানামা করত।”
ফ্রান্সের সফল রফতানী বাণিজ্যে হঠাৎ নেমে এল সঙ্কট। বিশ্ব বাজারে আন্তর্জাতিক পণ্য দ্রব্য কফি নিয়ে শুরু হল তীব্র প্রতিযোগিতা। তবে কফি বাণিজ্যে চরম আঘাত নেমে এল ক্রীতদাস কফি চাষীদের বিদ্রোহের ফলে এবং এই বিদ্রোহের ফলেই ফ্রান্সের কাছে থেকে পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে হাইতি স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮০৪ সালে। এই সব বিদ্রোহের ফলে রফতানী বাণিজ্যের ভিত্তিভূমি একেবারে ধ্বসে পরে।
ফরাসী উদ্যোক্তাদের (কলোনস) ব্যবসা দাঁড়িয়ে ছিল ক্রীতদাস ও কেনা গোলামদের উপর। নীলের ফরাসী বাণিজ্য হঠাৎ এই যে বন্ধ হয়ে গেল সে একেবারে চিরদিনের মত। ফ্রান্স আর কখনো তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। তখন থেকে তার সাবেক উপনিবেশের বাইরের দেশগুলোর উপর ফ্রান্স নির্ভর করত নীলের জন্যে।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১১)

১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


হাইতির নীল শিল্পের বিলুপ্তি
হাইতির নীল শিল্পের ক্রমাবনতি হয়েছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু হাইতির নীলের ধ্বংস নেমে এল অকস্মাৎ। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে হাইতির (সেন্ট ডোমিঙ্গো) ফরাসী উদ্যোক্তারা তামাক চাষ করা থেকে নীল চাষের দিকে ঝুঁকলো। অবশ্যই এতে লাভ হত বেশি কিন্তু সে হল বড় চাষীদের ক্ষেত্রে। শীঘ্রই হাইতির অর্থনীতি হয়ে পড়ল নীল নির্ভর। ১৬৯৪ সালের দিকে সব “বিদেশী নীলের” রফতানী নিষিদ্ধ করে দিল সরকার।
ফরাসী বাজারে হাইতির নীল যাতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্যেই এই ব্যবস্থা। ফ্রান্সের হাইতির যে নীল আমদানী করা হত তার কম করে অর্দ্ধেক নীল আবার রফতানী করা হত ইউরোপের বাজারে (নেদারল্যান্ড ও জার্মেনী)।২৯ ১৭৩০ খ্রীঃ হাইতির উপনিবেশে নীলকরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। এ সংখ্যা অবশ্য ওঠানামা করত।”
ফ্রান্সের সফল রফতানী বাণিজ্যে হঠাৎ নেমে এল সঙ্কট। বিশ্ব বাজারে আন্তর্জাতিক পণ্য দ্রব্য কফি নিয়ে শুরু হল তীব্র প্রতিযোগিতা। তবে কফি বাণিজ্যে চরম আঘাত নেমে এল ক্রীতদাস কফি চাষীদের বিদ্রোহের ফলে এবং এই বিদ্রোহের ফলেই ফ্রান্সের কাছে থেকে পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে হাইতি স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮০৪ সালে। এই সব বিদ্রোহের ফলে রফতানী বাণিজ্যের ভিত্তিভূমি একেবারে ধ্বসে পরে।
ফরাসী উদ্যোক্তাদের (কলোনস) ব্যবসা দাঁড়িয়ে ছিল ক্রীতদাস ও কেনা গোলামদের উপর। নীলের ফরাসী বাণিজ্য হঠাৎ এই যে বন্ধ হয়ে গেল সে একেবারে চিরদিনের মত। ফ্রান্স আর কখনো তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। তখন থেকে তার সাবেক উপনিবেশের বাইরের দেশগুলোর উপর ফ্রান্স নির্ভর করত নীলের জন্যে।