০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
আসামে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, চার বিয়েতে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ রিজার্ভে ধাক্কা: দুই সপ্তাহে কমে ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে নতুন চাপ মধ্য-এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ না খুললে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে: তেল শিল্পের সতর্কবার্তা ইরান মার্কিন শর্ত মানতে রাজি, তবে খার্গ দ্বীপ দখলের ভাবনায় ট্রাম্প হরমুজ সংকটের আঘাতে বাংলাদেশ: বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে ৪৮০ কোটি ডলার ইসলামাবাদে চার দেশের কূটনীতি: পাকিস্তান মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিল বঙ্গের ধাঁধা — সামাজিক অগ্রগতি কেন উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত হয়নি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার উদ্যোগে পাকিস্তান, চীনের সমর্থন চাইতে বেইজিং সফরে ইসহাক দার ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয়

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • 123

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


হাইতির নীল শিল্পের বিলুপ্তি
হাইতির নীল শিল্পের ক্রমাবনতি হয়েছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু হাইতির নীলের ধ্বংস নেমে এল অকস্মাৎ। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে হাইতির (সেন্ট ডোমিঙ্গো) ফরাসী উদ্যোক্তারা তামাক চাষ করা থেকে নীল চাষের দিকে ঝুঁকলো। অবশ্যই এতে লাভ হত বেশি কিন্তু সে হল বড় চাষীদের ক্ষেত্রে। শীঘ্রই হাইতির অর্থনীতি হয়ে পড়ল নীল নির্ভর। ১৬৯৪ সালের দিকে সব “বিদেশী নীলের” রফতানী নিষিদ্ধ করে দিল সরকার।
ফরাসী বাজারে হাইতির নীল যাতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্যেই এই ব্যবস্থা। ফ্রান্সের হাইতির যে নীল আমদানী করা হত তার কম করে অর্দ্ধেক নীল আবার রফতানী করা হত ইউরোপের বাজারে (নেদারল্যান্ড ও জার্মেনী)।২৯ ১৭৩০ খ্রীঃ হাইতির উপনিবেশে নীলকরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। এ সংখ্যা অবশ্য ওঠানামা করত।”
ফ্রান্সের সফল রফতানী বাণিজ্যে হঠাৎ নেমে এল সঙ্কট। বিশ্ব বাজারে আন্তর্জাতিক পণ্য দ্রব্য কফি নিয়ে শুরু হল তীব্র প্রতিযোগিতা। তবে কফি বাণিজ্যে চরম আঘাত নেমে এল ক্রীতদাস কফি চাষীদের বিদ্রোহের ফলে এবং এই বিদ্রোহের ফলেই ফ্রান্সের কাছে থেকে পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে হাইতি স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮০৪ সালে। এই সব বিদ্রোহের ফলে রফতানী বাণিজ্যের ভিত্তিভূমি একেবারে ধ্বসে পরে।
ফরাসী উদ্যোক্তাদের (কলোনস) ব্যবসা দাঁড়িয়ে ছিল ক্রীতদাস ও কেনা গোলামদের উপর। নীলের ফরাসী বাণিজ্য হঠাৎ এই যে বন্ধ হয়ে গেল সে একেবারে চিরদিনের মত। ফ্রান্স আর কখনো তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। তখন থেকে তার সাবেক উপনিবেশের বাইরের দেশগুলোর উপর ফ্রান্স নির্ভর করত নীলের জন্যে।
জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, চার বিয়েতে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১১)

১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


হাইতির নীল শিল্পের বিলুপ্তি
হাইতির নীল শিল্পের ক্রমাবনতি হয়েছিল ধীরে ধীরে, কিন্তু হাইতির নীলের ধ্বংস নেমে এল অকস্মাৎ। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে হাইতির (সেন্ট ডোমিঙ্গো) ফরাসী উদ্যোক্তারা তামাক চাষ করা থেকে নীল চাষের দিকে ঝুঁকলো। অবশ্যই এতে লাভ হত বেশি কিন্তু সে হল বড় চাষীদের ক্ষেত্রে। শীঘ্রই হাইতির অর্থনীতি হয়ে পড়ল নীল নির্ভর। ১৬৯৪ সালের দিকে সব “বিদেশী নীলের” রফতানী নিষিদ্ধ করে দিল সরকার।
ফরাসী বাজারে হাইতির নীল যাতে প্রবেশ করতে পারে সেজন্যেই এই ব্যবস্থা। ফ্রান্সের হাইতির যে নীল আমদানী করা হত তার কম করে অর্দ্ধেক নীল আবার রফতানী করা হত ইউরোপের বাজারে (নেদারল্যান্ড ও জার্মেনী)।২৯ ১৭৩০ খ্রীঃ হাইতির উপনিবেশে নীলকরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। এ সংখ্যা অবশ্য ওঠানামা করত।”
ফ্রান্সের সফল রফতানী বাণিজ্যে হঠাৎ নেমে এল সঙ্কট। বিশ্ব বাজারে আন্তর্জাতিক পণ্য দ্রব্য কফি নিয়ে শুরু হল তীব্র প্রতিযোগিতা। তবে কফি বাণিজ্যে চরম আঘাত নেমে এল ক্রীতদাস কফি চাষীদের বিদ্রোহের ফলে এবং এই বিদ্রোহের ফলেই ফ্রান্সের কাছে থেকে পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে হাইতি স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮০৪ সালে। এই সব বিদ্রোহের ফলে রফতানী বাণিজ্যের ভিত্তিভূমি একেবারে ধ্বসে পরে।
ফরাসী উদ্যোক্তাদের (কলোনস) ব্যবসা দাঁড়িয়ে ছিল ক্রীতদাস ও কেনা গোলামদের উপর। নীলের ফরাসী বাণিজ্য হঠাৎ এই যে বন্ধ হয়ে গেল সে একেবারে চিরদিনের মত। ফ্রান্স আর কখনো তা পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। তখন থেকে তার সাবেক উপনিবেশের বাইরের দেশগুলোর উপর ফ্রান্স নির্ভর করত নীলের জন্যে।