০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১৬)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
  • 149

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


১৮৩৭ সালের জনৈক পর্যবেক্ষকের অভিমত অনুযায়ী ভারতের প্রধান রফতানী দ্রব্যই ছিল নীল। ভারতের অন্যান্য স্থানেও নীল প্রস্তুতের ক্যারেবীয় পদ্ধতি গৃহীত হয়েছিল। এমনকি দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেও তাই। অন্যান্য স্থানে প্রস্তুত নীলের সঙ্গে বাংলাদেশের নীলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।
“বিহার ও বঙ্গে প্রস্তুত নীল মান ও পরিমাণে অন্যান্য স্থানে উৎপাদিত নীলের চেয়ে ছিল উৎকৃষ্টতর। উর্বর মাটি ও গ্রীষ্ম প্রধান জলবায়ু নীলের জন্য উপযোগী ছিল বলে মনে হয়। উৎপাদনকারীদের অদক্ষতা কিংবা মাটি ও জলবায়ুর অনুপযোগিতা অথবা এই সবগুলো কারণের জন্যেই হোক না কেন ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে যে নীল উৎপন্ন হত তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।**
উরন্ত কিছু সহায়তাদান ও ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বিশ্বে বাংলাদেশকে নীল উৎপাদনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে করা হত কঠোর সংগ্রাম। প্রথম পর্যায়ের উলোভাদের প্রায় সব প্রচেষ্টা হল ব্যর্থ। তারা দোষ দিল প্রতিকূল বাণিজ্যের উপর। উদ্যোক্তাদের লা যানবাহনের দীর্ঘ সারির উপর ও বাজার সম্পর্কে হালের তথ্য না স্বাস্ত্যার উপর। বাংলার এক বিশিষ্ট নীল ব্যবসায়ী ১৭৯০ সালে এই বলে অভিযোগ সারমারয় বাংলাদেশের নীলকরদের চাইতে দ্বিগুণ সুবিধা নিয়ে বাজারে (লন্ডন) যান ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ব্যবসায়ীরা।”
উইচিরবদের ছিল সরবরাহের সমস্যা। কোনো জমিতে নীলকুঠি করতে হলে সরকারের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হত। প্রথম দিকে ২৫ হেক্টরের বেশি জমি বরাদ্দ করা হত। (প্রায় ৭৫ বিঘা) জমির স্বল্পতার কারণে নীলকররা তার পাশের কৃষকদের নীল উৎপাদনের জন্য বলপ্রয়োগ করত। এভাবে প্রতিবেশী কৃষকদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষের সূত্রপাত হত। এতে জড়িয়ে পড়ত জমিদাররাও।
আবার জমি কেন্দ্র করে কিংবা নীলের সরবরাহ কেন্দ্র করে হাতাহাতি শুরু হত নীলকরদের নিজেদের মধ্যেও প্রথম দিকে বাংলার নীলের মান আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে বাংলার নীলের এতই সুনাম হয় যে বলা হত এই নীল উৎকৃষ্টতার দিক থেকে আমেরিকান ও ফরাসী নীলকে ছাড়িয়ে গেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-১৬)

১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


১৮৩৭ সালের জনৈক পর্যবেক্ষকের অভিমত অনুযায়ী ভারতের প্রধান রফতানী দ্রব্যই ছিল নীল। ভারতের অন্যান্য স্থানেও নীল প্রস্তুতের ক্যারেবীয় পদ্ধতি গৃহীত হয়েছিল। এমনকি দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতেও তাই। অন্যান্য স্থানে প্রস্তুত নীলের সঙ্গে বাংলাদেশের নীলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।
“বিহার ও বঙ্গে প্রস্তুত নীল মান ও পরিমাণে অন্যান্য স্থানে উৎপাদিত নীলের চেয়ে ছিল উৎকৃষ্টতর। উর্বর মাটি ও গ্রীষ্ম প্রধান জলবায়ু নীলের জন্য উপযোগী ছিল বলে মনে হয়। উৎপাদনকারীদের অদক্ষতা কিংবা মাটি ও জলবায়ুর অনুপযোগিতা অথবা এই সবগুলো কারণের জন্যেই হোক না কেন ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে যে নীল উৎপন্ন হত তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।**
উরন্ত কিছু সহায়তাদান ও ব্যবস্থা গ্রহণের পরও বিশ্বে বাংলাদেশকে নীল উৎপাদনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে করা হত কঠোর সংগ্রাম। প্রথম পর্যায়ের উলোভাদের প্রায় সব প্রচেষ্টা হল ব্যর্থ। তারা দোষ দিল প্রতিকূল বাণিজ্যের উপর। উদ্যোক্তাদের লা যানবাহনের দীর্ঘ সারির উপর ও বাজার সম্পর্কে হালের তথ্য না স্বাস্ত্যার উপর। বাংলার এক বিশিষ্ট নীল ব্যবসায়ী ১৭৯০ সালে এই বলে অভিযোগ সারমারয় বাংলাদেশের নীলকরদের চাইতে দ্বিগুণ সুবিধা নিয়ে বাজারে (লন্ডন) যান ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ব্যবসায়ীরা।”
উইচিরবদের ছিল সরবরাহের সমস্যা। কোনো জমিতে নীলকুঠি করতে হলে সরকারের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হত। প্রথম দিকে ২৫ হেক্টরের বেশি জমি বরাদ্দ করা হত। (প্রায় ৭৫ বিঘা) জমির স্বল্পতার কারণে নীলকররা তার পাশের কৃষকদের নীল উৎপাদনের জন্য বলপ্রয়োগ করত। এভাবে প্রতিবেশী কৃষকদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষের সূত্রপাত হত। এতে জড়িয়ে পড়ত জমিদাররাও।
আবার জমি কেন্দ্র করে কিংবা নীলের সরবরাহ কেন্দ্র করে হাতাহাতি শুরু হত নীলকরদের নিজেদের মধ্যেও প্রথম দিকে বাংলার নীলের মান আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর দিকে বাংলার নীলের এতই সুনাম হয় যে বলা হত এই নীল উৎকৃষ্টতার দিক থেকে আমেরিকান ও ফরাসী নীলকে ছাড়িয়ে গেছে।