০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
  • 138

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।