০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই সব আসনে ‘আমি-ই প্রার্থী’ বার্তা মমতার, ভোটের আগে আবেগঘন প্রচার তৃণমূলের সাত মাসে ব্যাংক থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, ইউ-লুপ ব্রিজে মর্মান্তিক সংঘর্ষ

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪
  • 95

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।
জনপ্রিয় সংবাদ

টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২১)

১০:০০:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল গাছ বড় হওয়ার পর সে গাছ থেকে কি পরিমাণ নীল পাওয়া যাবে তা অনুমান করা এক কষ্ট সাপেক্ষ ব্যাপার, কেননা নীল গাছে তো নীল দেখা যায় না। বস্তুত নীল গাছে নীল থাকে না। আর যা থাকে তার রং নীল নয়। আসলে নীল গাছে থাকে “ইন্ডিকানা”। এটা এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যার কোনো রং নেই- বলা যেতে পারে নীলের পূর্বাবস্থা। অভিজ্ঞ চাষীরা গাছ দেখলেই বুঝে ফেলে যে গাছ স্বাস্থ্যবতী ও পরিপক্ক কিনা বা গাছ কাটার সময় হয়েছে কিনা। কিন্তু গাছ থেকে নীল কতটুকু পাওয়া যাবে বা সে নীলের উৎকৃষ্টতা কতটুকু তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সে রহস্যের কিনারা হবার নয়। এই গাছ থেকে নীল উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল জুড়ে যে অসংখ্য নীলকুঠি আছে সেখানে।
নীল প্রস্তুত একেবারে একটি গ্রামীণ শিল্প। কেননা নীল গাছ কাটার অল্পক্ষণের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াজাত করার কাজ শুরু করতে হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে নৌকা নির্ভর ও নদীমাতৃক বাংলাদেশে নীলকুঠি করা হত নদীর কোল ঘেষে, নীলক্ষেতের কাছে। কাটা নীল গাছগুলো নীলকুঠিতে নেয়া হত মহিষের অথবা গরুর গাড়িতে তাতে সময় লাগত আরও বেশি। তাই নজর রাখা হত নীলকুঠি যাতে হয় নদী তীরে।
নীলকুঠিতে এই গাছগুলো পানিতে ফেলে রেখে গেঁজানো হত। এই প্রক্রিয়ায় ইন্ডিকান ভেঙে গিয়ে পানিতে ভেসে উঠত এক ধরনের পদার্থ যার মধ্যে আছে হলুদ বর্ণের ইনডস্কিল ও ফ্রুকটোজ। চৌবাচ্চার পানি ফেলে দিয়ে গাছগুলোকে পেটানো হত। খানিকক্ষণ হাওয়া লাগালে ইনডক্সিল নীলে পরিণত হত। নীলের কণাগুলো ভেসে থাকত পানিতে। এগুলোকে নীল কাদার মত জমতে দেয়া হত।