০৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই সব আসনে ‘আমি-ই প্রার্থী’ বার্তা মমতার, ভোটের আগে আবেগঘন প্রচার তৃণমূলের সাত মাসে ব্যাংক থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বাড্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের, ইউ-লুপ ব্রিজে মর্মান্তিক সংঘর্ষ

জীবন আমার বোন (পর্ব-৩২)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
  • 87

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

বায়ু বললে, ‘রাইফেল ট্রেনিং রাইফেল ট্রেনিং ‘কচু হবে ওতে, শালার এটা একটা ফ্যাশন, যা নড়ুয়ে তোমরা এক একখান, এহা বজ্র খুব ঘনিষ্ঠ হ’য়ে বসলো। বললে, ‘শেষ পর্যন্ত কি হবে বলতো?’ ‘কি আবার হবে, হয় দু’পাঁচশো লোক মেরে সব ঠাণ্ডা ক’রে দেবে না হয়-

বাধা দিয়ে বস্তু অসহিষ্ণু হ’য়ে বললে, ‘সব মেনে নিলেই তো পারে, শুধু শুধু হই হই রক্তারক্তি ক’রে লাভটা কি?

‘তুই বরং ঘচাং ক’রে একটা খত ঝেড়ে দে, কাজ হ’লেও হ’তে পারে, লোকটা নাকি মেয়েলোকের কথায় ওঠে-বসে।’

‘ঠাট্টা রাখ, একটু বুঝিয়ে বলনা ছাই। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারার সময় তো মুখ দিয়ে কথার তুবড়ি ছোটে।

রজুর বিনুনি ধারে একটা টান মেরে থোকা বললে, ‘তুই যা বুঝিস অন্তত সেটুকুও যদি ওদের মগজে ঢুকতো তাহলে তো আর কোনো ল্যাঠাই ছিলো না।’

‘আচ্ছা ধর, শেষ পর্যন্ত যদি কোনোরকম মীমাংসা না হয় ?’

‘হবে কে বললে?”

‘ধর হ’লো না, তখন?’

‘কেন প্লেন বোঝাই বোরখা পরা সৈন্য নামছে রোজ এয়ারপোর্টে শুনিসনি?’

‘বাপি যে কেন আগেই চ’লে আসছে না।’

‘রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি চটকাবে কে, তুই?’

‘যাই বলিস, চাকরি জিনিশটা এত্তো বাজে–‘

‘এ্যাঁ, পথে এসো বাবা, পথে এসো। সেই জন্যেই তো বেকার ব’সে আছি।’

‘তুই একটা কুড়ের ডিম, চাকরি কেন, তোকে দিয়ে কিছুই হবে না কখনো।’

লম্বা হাই তুলে পটাপট দুটো আঙ্গুল মটকে থোকা আউ আউ ক’রে জড়িয়ে জড়িয়ে বললে, ‘বেশ আছি শালার, কি বল? আহারে, চিরটা কাল যদি এইভাবে আরামসে পিপুফিশু ক’রে কেটে যেতো।

‘শরীরে ঘুণ ধরতো, উইপোকা ধরতো ‘শরীরে উইপোকা না ধরলে কি আর মুনি-ঋষি হওয়া যায় রে, তুই একটা ইস্টুপিট, ষাঁড়ের গোবর, গোমুখ্যু।

একটু পরেই ‘জয়বাংলা’ ব’লে মুরাদ ঘরে ঢুকলো।

রুমাল দিয়ে মুখ মুছে একগ্লাস পানি চেয়ে খেলো সে। বললে, ‘ক’দিন থেকে হাঁটতে হাঁটতে শালার পায়ে ফোল্কা প’ড়ে গিয়েছে।’

‘বলিস কি, ফোস্কা আবার কি; তোর পা জোড়াই তো ফোঙ্কা।’

জনপ্রিয় সংবাদ

টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

জীবন আমার বোন (পর্ব-৩২)

১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

বায়ু বললে, ‘রাইফেল ট্রেনিং রাইফেল ট্রেনিং ‘কচু হবে ওতে, শালার এটা একটা ফ্যাশন, যা নড়ুয়ে তোমরা এক একখান, এহা বজ্র খুব ঘনিষ্ঠ হ’য়ে বসলো। বললে, ‘শেষ পর্যন্ত কি হবে বলতো?’ ‘কি আবার হবে, হয় দু’পাঁচশো লোক মেরে সব ঠাণ্ডা ক’রে দেবে না হয়-

বাধা দিয়ে বস্তু অসহিষ্ণু হ’য়ে বললে, ‘সব মেনে নিলেই তো পারে, শুধু শুধু হই হই রক্তারক্তি ক’রে লাভটা কি?

‘তুই বরং ঘচাং ক’রে একটা খত ঝেড়ে দে, কাজ হ’লেও হ’তে পারে, লোকটা নাকি মেয়েলোকের কথায় ওঠে-বসে।’

‘ঠাট্টা রাখ, একটু বুঝিয়ে বলনা ছাই। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারার সময় তো মুখ দিয়ে কথার তুবড়ি ছোটে।

রজুর বিনুনি ধারে একটা টান মেরে থোকা বললে, ‘তুই যা বুঝিস অন্তত সেটুকুও যদি ওদের মগজে ঢুকতো তাহলে তো আর কোনো ল্যাঠাই ছিলো না।’

‘আচ্ছা ধর, শেষ পর্যন্ত যদি কোনোরকম মীমাংসা না হয় ?’

‘হবে কে বললে?”

‘ধর হ’লো না, তখন?’

‘কেন প্লেন বোঝাই বোরখা পরা সৈন্য নামছে রোজ এয়ারপোর্টে শুনিসনি?’

‘বাপি যে কেন আগেই চ’লে আসছে না।’

‘রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি চটকাবে কে, তুই?’

‘যাই বলিস, চাকরি জিনিশটা এত্তো বাজে–‘

‘এ্যাঁ, পথে এসো বাবা, পথে এসো। সেই জন্যেই তো বেকার ব’সে আছি।’

‘তুই একটা কুড়ের ডিম, চাকরি কেন, তোকে দিয়ে কিছুই হবে না কখনো।’

লম্বা হাই তুলে পটাপট দুটো আঙ্গুল মটকে থোকা আউ আউ ক’রে জড়িয়ে জড়িয়ে বললে, ‘বেশ আছি শালার, কি বল? আহারে, চিরটা কাল যদি এইভাবে আরামসে পিপুফিশু ক’রে কেটে যেতো।

‘শরীরে ঘুণ ধরতো, উইপোকা ধরতো ‘শরীরে উইপোকা না ধরলে কি আর মুনি-ঋষি হওয়া যায় রে, তুই একটা ইস্টুপিট, ষাঁড়ের গোবর, গোমুখ্যু।

একটু পরেই ‘জয়বাংলা’ ব’লে মুরাদ ঘরে ঢুকলো।

রুমাল দিয়ে মুখ মুছে একগ্লাস পানি চেয়ে খেলো সে। বললে, ‘ক’দিন থেকে হাঁটতে হাঁটতে শালার পায়ে ফোল্কা প’ড়ে গিয়েছে।’

‘বলিস কি, ফোস্কা আবার কি; তোর পা জোড়াই তো ফোঙ্কা।’