০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো দৃশ্যম ৩ আগামীকাল অ্যামাজন প্রাইমে, ৩৩০ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার এবার ঘরে বসেই দেখুন রাইজের নতুন অ্যালবাম ‘II’ প্রথম দিনেই ৯ লাখ কপি বিক্রি, ‘Do Your Dance’ এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং চার বছর পর মাঠে বিটিএস, পুসানে দুই রাতে ১,১০,০০০ দর্শক ঝড় তুলল বিশ্বকাপ অভিষেকেই হ্যালান্ডের জোড়া গোল, নরওয়ে ইরাককে ৪-১ উড়িয়ে দিল আজ রাতে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া, মডরিচের শেষ বিশ্বকাপে ২০১৮-এর প্রতিশোধের সুযোগ এমবাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা, সেনেগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোলে রেকর্ড মেসির হ্যাট্রিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু, কিলোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁলেন বৃষ্টির ৯০% আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ম্যাচ, ডিএলএস নিয়মে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫২)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • 103

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি বলেন যে, হেষ্টিংস রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বাহারবন্দ পরগণা প্রভৃতি তাঁহার দেওয়ান কান্তকে প্রদান করিয়াছেন। রাণী কোনও দোষ করেন নাই এবং কান্তের সহিত রাণীর এমন কোন সম্বন্ধ নাই যে, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাহারবন্দ পাইতে পারেন। গবর্ণর এ বিষয়ের কারণ নির্দেশ করিবেন। হেষ্টিংস এই অভিযোগে স্বকীয় নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য বলিয়াছিলেন যে, বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত ছিল না এবং কোন কালে তাঁহার দখলে ছিল না। বরং তাহা সীমান্ত প্রদেশে অবস্থিত হওয়ায় সরকারের খাসে ছিল।

পরিশিষ্টে আমরা বাহারবন্দের এক বিবরণ দিয়াছি। তাহাতে সকলে দেখিতে পাইবেন যে, বাহারবন্দ অনেক সময়ে জায়গীর বলিয়া অভিহিত হইলেও, তাহা রাণী ভবানীরই জমিদারী ছিল। এ কথা গুডল্যাড সাহেবের লিখিত বাহারবন্দের বিবরণ হইতে অবগত হওয়া যায়। বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বা তাঁহার দখলে না থাকিলেও, যখন সেরেস্তায় তিনি জমিদার বলিয়া বরাবর উল্লিখিত হইয়া আসিতেছেন, তখন তাঁহার সহিত বন্দোবস্ত না করিয়া, কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথের সহিত বন্দোবস্ত করা কেন হইল, হেষ্টিংস সাহেব ইহার উত্তর দিতে পারেন নাই।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, ইহাতে কাস্তের প্রতি আমি কোন অনুগ্রহ দেখাই নাই। ইহাও যদি অনুগ্রহ না হয়, তবে অনুগ্রহ যে কিরূপ, তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। আমরা বাহারবন্দ প্রদানবিষয়ে হেষ্টিংসকে বারংবার দোষ প্রদান করিয়াছি; কিন্তু কান্তবাবুও এ বিষয়ে দোষী কিনা, তাহা একবারও তাবিয়া দেখি নাই। অনেকে মনে করিতে পারেন যে, হেষ্টিংস যখন তাঁহাকে উক্ত সম্পত্তি প্রদান করিয়াছেন, তখন সে দোষ হেষ্টিংসেরই হইবে; কান্তবাবু তজ্জন্য দোষী হইবেন কেন?

কিন্তু একটু চিন্তা করিয়া দেখিলে, কান্তবাবুরও কি কোন দোষ দেখা যায় না? কেহ আদি বলপূর্ব্বক একজনের সম্পত্তি অপহরণ করিয়া, আর এক জনকে প্রদান করে এবং সে ব্যক্তি যদি অম্লানবদনে তাহা গ্রহণ করে, তাহাতে কি তাহার কিছুমাত্র প্রত্যবায় নাই? কান্তবাবু জানিয়া শুনিয়া বাহারবন্দ গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং সে বিষয়ে যে, তাঁহার কিছু দোষ হয় নাই, ইহা কেমন করিয়া স্বীকার করিব?

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫২)

১১:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি বলেন যে, হেষ্টিংস রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বাহারবন্দ পরগণা প্রভৃতি তাঁহার দেওয়ান কান্তকে প্রদান করিয়াছেন। রাণী কোনও দোষ করেন নাই এবং কান্তের সহিত রাণীর এমন কোন সম্বন্ধ নাই যে, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাহারবন্দ পাইতে পারেন। গবর্ণর এ বিষয়ের কারণ নির্দেশ করিবেন। হেষ্টিংস এই অভিযোগে স্বকীয় নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য বলিয়াছিলেন যে, বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত ছিল না এবং কোন কালে তাঁহার দখলে ছিল না। বরং তাহা সীমান্ত প্রদেশে অবস্থিত হওয়ায় সরকারের খাসে ছিল।

পরিশিষ্টে আমরা বাহারবন্দের এক বিবরণ দিয়াছি। তাহাতে সকলে দেখিতে পাইবেন যে, বাহারবন্দ অনেক সময়ে জায়গীর বলিয়া অভিহিত হইলেও, তাহা রাণী ভবানীরই জমিদারী ছিল। এ কথা গুডল্যাড সাহেবের লিখিত বাহারবন্দের বিবরণ হইতে অবগত হওয়া যায়। বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বা তাঁহার দখলে না থাকিলেও, যখন সেরেস্তায় তিনি জমিদার বলিয়া বরাবর উল্লিখিত হইয়া আসিতেছেন, তখন তাঁহার সহিত বন্দোবস্ত না করিয়া, কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথের সহিত বন্দোবস্ত করা কেন হইল, হেষ্টিংস সাহেব ইহার উত্তর দিতে পারেন নাই।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, ইহাতে কাস্তের প্রতি আমি কোন অনুগ্রহ দেখাই নাই। ইহাও যদি অনুগ্রহ না হয়, তবে অনুগ্রহ যে কিরূপ, তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। আমরা বাহারবন্দ প্রদানবিষয়ে হেষ্টিংসকে বারংবার দোষ প্রদান করিয়াছি; কিন্তু কান্তবাবুও এ বিষয়ে দোষী কিনা, তাহা একবারও তাবিয়া দেখি নাই। অনেকে মনে করিতে পারেন যে, হেষ্টিংস যখন তাঁহাকে উক্ত সম্পত্তি প্রদান করিয়াছেন, তখন সে দোষ হেষ্টিংসেরই হইবে; কান্তবাবু তজ্জন্য দোষী হইবেন কেন?

কিন্তু একটু চিন্তা করিয়া দেখিলে, কান্তবাবুরও কি কোন দোষ দেখা যায় না? কেহ আদি বলপূর্ব্বক একজনের সম্পত্তি অপহরণ করিয়া, আর এক জনকে প্রদান করে এবং সে ব্যক্তি যদি অম্লানবদনে তাহা গ্রহণ করে, তাহাতে কি তাহার কিছুমাত্র প্রত্যবায় নাই? কান্তবাবু জানিয়া শুনিয়া বাহারবন্দ গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং সে বিষয়ে যে, তাঁহার কিছু দোষ হয় নাই, ইহা কেমন করিয়া স্বীকার করিব?