০১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫২)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • 120

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি বলেন যে, হেষ্টিংস রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বাহারবন্দ পরগণা প্রভৃতি তাঁহার দেওয়ান কান্তকে প্রদান করিয়াছেন। রাণী কোনও দোষ করেন নাই এবং কান্তের সহিত রাণীর এমন কোন সম্বন্ধ নাই যে, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাহারবন্দ পাইতে পারেন। গবর্ণর এ বিষয়ের কারণ নির্দেশ করিবেন। হেষ্টিংস এই অভিযোগে স্বকীয় নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য বলিয়াছিলেন যে, বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত ছিল না এবং কোন কালে তাঁহার দখলে ছিল না। বরং তাহা সীমান্ত প্রদেশে অবস্থিত হওয়ায় সরকারের খাসে ছিল।

পরিশিষ্টে আমরা বাহারবন্দের এক বিবরণ দিয়াছি। তাহাতে সকলে দেখিতে পাইবেন যে, বাহারবন্দ অনেক সময়ে জায়গীর বলিয়া অভিহিত হইলেও, তাহা রাণী ভবানীরই জমিদারী ছিল। এ কথা গুডল্যাড সাহেবের লিখিত বাহারবন্দের বিবরণ হইতে অবগত হওয়া যায়। বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বা তাঁহার দখলে না থাকিলেও, যখন সেরেস্তায় তিনি জমিদার বলিয়া বরাবর উল্লিখিত হইয়া আসিতেছেন, তখন তাঁহার সহিত বন্দোবস্ত না করিয়া, কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথের সহিত বন্দোবস্ত করা কেন হইল, হেষ্টিংস সাহেব ইহার উত্তর দিতে পারেন নাই।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, ইহাতে কাস্তের প্রতি আমি কোন অনুগ্রহ দেখাই নাই। ইহাও যদি অনুগ্রহ না হয়, তবে অনুগ্রহ যে কিরূপ, তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। আমরা বাহারবন্দ প্রদানবিষয়ে হেষ্টিংসকে বারংবার দোষ প্রদান করিয়াছি; কিন্তু কান্তবাবুও এ বিষয়ে দোষী কিনা, তাহা একবারও তাবিয়া দেখি নাই। অনেকে মনে করিতে পারেন যে, হেষ্টিংস যখন তাঁহাকে উক্ত সম্পত্তি প্রদান করিয়াছেন, তখন সে দোষ হেষ্টিংসেরই হইবে; কান্তবাবু তজ্জন্য দোষী হইবেন কেন?

কিন্তু একটু চিন্তা করিয়া দেখিলে, কান্তবাবুরও কি কোন দোষ দেখা যায় না? কেহ আদি বলপূর্ব্বক একজনের সম্পত্তি অপহরণ করিয়া, আর এক জনকে প্রদান করে এবং সে ব্যক্তি যদি অম্লানবদনে তাহা গ্রহণ করে, তাহাতে কি তাহার কিছুমাত্র প্রত্যবায় নাই? কান্তবাবু জানিয়া শুনিয়া বাহারবন্দ গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং সে বিষয়ে যে, তাঁহার কিছু দোষ হয় নাই, ইহা কেমন করিয়া স্বীকার করিব?

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫২)

১১:০০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি বলেন যে, হেষ্টিংস রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বাহারবন্দ পরগণা প্রভৃতি তাঁহার দেওয়ান কান্তকে প্রদান করিয়াছেন। রাণী কোনও দোষ করেন নাই এবং কান্তের সহিত রাণীর এমন কোন সম্বন্ধ নাই যে, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাহারবন্দ পাইতে পারেন। গবর্ণর এ বিষয়ের কারণ নির্দেশ করিবেন। হেষ্টিংস এই অভিযোগে স্বকীয় নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য বলিয়াছিলেন যে, বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত ছিল না এবং কোন কালে তাঁহার দখলে ছিল না। বরং তাহা সীমান্ত প্রদেশে অবস্থিত হওয়ায় সরকারের খাসে ছিল।

পরিশিষ্টে আমরা বাহারবন্দের এক বিবরণ দিয়াছি। তাহাতে সকলে দেখিতে পাইবেন যে, বাহারবন্দ অনেক সময়ে জায়গীর বলিয়া অভিহিত হইলেও, তাহা রাণী ভবানীরই জমিদারী ছিল। এ কথা গুডল্যাড সাহেবের লিখিত বাহারবন্দের বিবরণ হইতে অবগত হওয়া যায়। বাহারবন্দ রাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তর্গত বা তাঁহার দখলে না থাকিলেও, যখন সেরেস্তায় তিনি জমিদার বলিয়া বরাবর উল্লিখিত হইয়া আসিতেছেন, তখন তাঁহার সহিত বন্দোবস্ত না করিয়া, কান্তবাবুর পুত্র লোকনাথের সহিত বন্দোবস্ত করা কেন হইল, হেষ্টিংস সাহেব ইহার উত্তর দিতে পারেন নাই।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, ইহাতে কাস্তের প্রতি আমি কোন অনুগ্রহ দেখাই নাই। ইহাও যদি অনুগ্রহ না হয়, তবে অনুগ্রহ যে কিরূপ, তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। আমরা বাহারবন্দ প্রদানবিষয়ে হেষ্টিংসকে বারংবার দোষ প্রদান করিয়াছি; কিন্তু কান্তবাবুও এ বিষয়ে দোষী কিনা, তাহা একবারও তাবিয়া দেখি নাই। অনেকে মনে করিতে পারেন যে, হেষ্টিংস যখন তাঁহাকে উক্ত সম্পত্তি প্রদান করিয়াছেন, তখন সে দোষ হেষ্টিংসেরই হইবে; কান্তবাবু তজ্জন্য দোষী হইবেন কেন?

কিন্তু একটু চিন্তা করিয়া দেখিলে, কান্তবাবুরও কি কোন দোষ দেখা যায় না? কেহ আদি বলপূর্ব্বক একজনের সম্পত্তি অপহরণ করিয়া, আর এক জনকে প্রদান করে এবং সে ব্যক্তি যদি অম্লানবদনে তাহা গ্রহণ করে, তাহাতে কি তাহার কিছুমাত্র প্রত্যবায় নাই? কান্তবাবু জানিয়া শুনিয়া বাহারবন্দ গ্রহণ করিয়াছিলেন। সুতরাং সে বিষয়ে যে, তাঁহার কিছু দোষ হয় নাই, ইহা কেমন করিয়া স্বীকার করিব?