০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 136

সত্যেন্দ্রকুমার বসু

তুরুস্ক সম্রাট এই ভোজের সময়ে হিউএনচাঙের প্রতি যে রকম দৃষ্টি রেখেছিলেন তাতে তাঁর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাই প্রকাশ পায়। তুরুস্করা গদির উপর মাদুর পেতে বসেছিলেন, ধর্মগুরুকে বসবার জন্যে একখানা লোহার চেয়ার দেওয়া হয়। তাঁর জন্যে বিশেষ করে পবিত্র খাদ্যের ব্যবস্থা হয়- চালের তৈরী পিঠা, দুধের সর, চিনি, মধু, মনাক্কা আর মনাক্কার মদ।

আর ভোজের পর সম্রাট তাঁকে বৌদ্ধধর্মের উপদেশ দিতে অনুরোধ করলেন। অতএব সৈন্যদলের প্রধানদের সম্মুখে ধর্মগুরু তাঁর ধর্মের প্রধান প্রধান কথাগুলি ব্যাখ্যা করলেন। • দশশীল, অহিংসা, পারমিতা ও মোক্ষলাভের উপায় সম্বন্ধে উপদেশ দিলেন। উপদেশের শেষে সম্রাট দু-হাত তুলে সাষ্টাঙ্গে নত হলেন আর আনন্দের সঙ্গে উপদেশ গ্রহণ করলেন।

হিউএনচাঙকে তাঁর পছন্দ হয়ে গেল আর তুরফান রাজার মত ইনিও তাঁকে নিরস্ত করবার চেষ্টা করলেন- ‘গুরুদেব! ভারতবর্ষে যাবেন না। সেখানে এত গরম যে, গ্রীষ্মকাল শীতকালে কোনও তফাত নেই। আমার ভয় হচ্ছে যে, সে কষ্ট আপনার সহ্য হবে না। সেখান-কার মানুষ সব নগ্ন, কালো, ভব্যতা জানে না, আর আপনার সাক্ষাতের উপযুক্ত তারা নয়।’

হিউএনচাঙ জবাব দিলেন, ‘যাই বলুন, বুদ্ধের প্রকৃত ধর্মের অনুসন্ধানে যাবার জন্যে আমার মন সর্বদাই অতিশয় ব্যগ্র হয়ে রয়েছে। সেখানে পবিত্র তীর্থস্থানগুলি দেখব আর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করব এই আমার প্রাণের ইচ্ছা।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৬)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৭)

০৯:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সত্যেন্দ্রকুমার বসু

তুরুস্ক সম্রাট এই ভোজের সময়ে হিউএনচাঙের প্রতি যে রকম দৃষ্টি রেখেছিলেন তাতে তাঁর ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাই প্রকাশ পায়। তুরুস্করা গদির উপর মাদুর পেতে বসেছিলেন, ধর্মগুরুকে বসবার জন্যে একখানা লোহার চেয়ার দেওয়া হয়। তাঁর জন্যে বিশেষ করে পবিত্র খাদ্যের ব্যবস্থা হয়- চালের তৈরী পিঠা, দুধের সর, চিনি, মধু, মনাক্কা আর মনাক্কার মদ।

আর ভোজের পর সম্রাট তাঁকে বৌদ্ধধর্মের উপদেশ দিতে অনুরোধ করলেন। অতএব সৈন্যদলের প্রধানদের সম্মুখে ধর্মগুরু তাঁর ধর্মের প্রধান প্রধান কথাগুলি ব্যাখ্যা করলেন। • দশশীল, অহিংসা, পারমিতা ও মোক্ষলাভের উপায় সম্বন্ধে উপদেশ দিলেন। উপদেশের শেষে সম্রাট দু-হাত তুলে সাষ্টাঙ্গে নত হলেন আর আনন্দের সঙ্গে উপদেশ গ্রহণ করলেন।

হিউএনচাঙকে তাঁর পছন্দ হয়ে গেল আর তুরফান রাজার মত ইনিও তাঁকে নিরস্ত করবার চেষ্টা করলেন- ‘গুরুদেব! ভারতবর্ষে যাবেন না। সেখানে এত গরম যে, গ্রীষ্মকাল শীতকালে কোনও তফাত নেই। আমার ভয় হচ্ছে যে, সে কষ্ট আপনার সহ্য হবে না। সেখান-কার মানুষ সব নগ্ন, কালো, ভব্যতা জানে না, আর আপনার সাক্ষাতের উপযুক্ত তারা নয়।’

হিউএনচাঙ জবাব দিলেন, ‘যাই বলুন, বুদ্ধের প্রকৃত ধর্মের অনুসন্ধানে যাবার জন্যে আমার মন সর্বদাই অতিশয় ব্যগ্র হয়ে রয়েছে। সেখানে পবিত্র তীর্থস্থানগুলি দেখব আর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করব এই আমার প্রাণের ইচ্ছা।’

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৬)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৩৬)