১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগের দিনে টিকে থাকার পাঠ: কেন বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের দুশ্চিন্তা, প্রশ্নের উত্তর দিলেন জো হার্ট ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি

এফ বি আই নথি তলব করেছে জলবায়ু ফান্ডের  ২০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া সংস্থাগুলোর

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
  • 120

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

১. ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেস ও সরকারি তদারকির চোখ ফাঁকি দিতেই এই অর্থ স্থানান্তর করে।

 ২.  ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ২০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দে জালিয়াতি হয়েছে।

  ৩.  ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিটিব্যাংকে ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনুদানের অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না।

  ৪ সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের সকল যোগাযোগ ও লেনদেন-সংক্রান্ত নথি এফবিআই’র কাছে জমা দিতে হবে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কয়েকটি জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট অলাভজনক সংস্থার প্রতি চাপ বাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সংস্থাগুলো বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পেয়েছিল। নতুন নির্দেশ অনুসারে, এসব সংস্থাকে এফবিআই’র হাতে নিজেদের সব রেকর্ড হস্তান্তর করতে হবে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে।

পটভূমি

  • বাইডেন প্রশাসন বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (ইপিএ) প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সিটিব্যাংকে জমা রাখে। এই অর্থ গ্রিনহাউস গ্যাস রিডাকশন ফান্ড থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেস ও সরকারি তদারকির চোখ ফাঁকি দিতেই এই অর্থ স্থানান্তর করে।
  • ইপিএ গঠিত এই বিশেষ তহবিল সাধারণত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিম্ন-আয়ের সম্প্রদায়ের পরিবেশ-বান্ধব প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

সরকারি চিঠি ও এফবিআইর অনুসন্ধান

  • অন্তত দুটি অলাভজনক সংস্থা (যারা অনুদান পেয়েছে) সাম্প্রতিক সময়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি এড মার্টিনের সই করা চিঠি পেয়েছে।
  • সেখানে সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের সকল যোগাযোগ ও লেনদেন-সংক্রান্ত নথি এফবিআই’র কাছে জমা দিতে হবে।
  • এ ছাড়া সংস্থাগুলোর নিবন্ধন কাগজপত্র, অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা, নীতি ও পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
  • চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, নির্ধারিত তারিখে ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে।

ইপিএর অবস্থান

  • ইপিএ’র ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর চাড ম্যাকইন্টশ একইসঙ্গে অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে একটি আলাদা চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে প্রায় ৩৫টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
  • এর মধ্যে রয়েছে বোর্ড ডিরেক্টরদের পরিচয়, কর বিষয়ক নথি, “হাউ টু ডেভেলপ আ বাজেট” শীর্ষক প্রশিক্ষণ মডিউলের সনদ, পুরো অনুদান খরচের বিবরণ, এবং কারা উপ-অনুদান পেয়েছে তার তালিকা।
  • অনেক সংস্থা জানিয়েছে যে, এই তথ্যগুলোর বেশিরভাগ ইতিমধ্যে সিটিব্যাংক ও ইপিএ’র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক বিরোধ

  • ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ২০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দে জালিয়াতি হয়েছে। তবে এখনো কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে আনা হয়নি।
  • যদি জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে প্রশাসন আইনগত প্রক্রিয়ায় সিটিব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করবে।
  • তবে গ্রিনহাউস গ্যাস রিডাকশন ফান্ড সংক্রান্ত চুক্তি, কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকে মনে করছেন, এই উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

তহবিল ফ্রিজ’ ও এর প্রভাব

  • প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিটিব্যাংকে ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনুদানের অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না।
  • অর্থ আটকে থাকায় কিছু সংস্থা কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
  • অন্তত একটি সংস্থা অস্থায়ীভাবে কর্মী ছাঁটাই বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে।

পরিশেষ

  • অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিডেন আমলের জলবায়ু উদ্যোগগুলোকে থমকে দিতে বা ধীর করে দিতে চাইছে।
  • ইপিএ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অলাভজনক সংস্থাগুলোর দ্বন্দ্ব বাড়ার কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর জন্য বরাদ্দকৃত এই বিশাল তহবিল বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
  • এখনো বিষয়টি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই রায়ই মূলত ঠিক করবে ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলের ভবিষ্যৎ এবং এর ব্যবস্থাপনার বৈধতা।
জনপ্রিয় সংবাদ

তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এফ বি আই নথি তলব করেছে জলবায়ু ফান্ডের  ২০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া সংস্থাগুলোর

১০:০০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

১. ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেস ও সরকারি তদারকির চোখ ফাঁকি দিতেই এই অর্থ স্থানান্তর করে।

 ২.  ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ২০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দে জালিয়াতি হয়েছে।

  ৩.  ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিটিব্যাংকে ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনুদানের অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না।

  ৪ সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের সকল যোগাযোগ ও লেনদেন-সংক্রান্ত নথি এফবিআই’র কাছে জমা দিতে হবে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কয়েকটি জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট অলাভজনক সংস্থার প্রতি চাপ বাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সংস্থাগুলো বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পেয়েছিল। নতুন নির্দেশ অনুসারে, এসব সংস্থাকে এফবিআই’র হাতে নিজেদের সব রেকর্ড হস্তান্তর করতে হবে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে।

পটভূমি

  • বাইডেন প্রশাসন বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (ইপিএ) প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সিটিব্যাংকে জমা রাখে। এই অর্থ গ্রিনহাউস গ্যাস রিডাকশন ফান্ড থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেস ও সরকারি তদারকির চোখ ফাঁকি দিতেই এই অর্থ স্থানান্তর করে।
  • ইপিএ গঠিত এই বিশেষ তহবিল সাধারণত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিম্ন-আয়ের সম্প্রদায়ের পরিবেশ-বান্ধব প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

সরকারি চিঠি ও এফবিআইর অনুসন্ধান

  • অন্তত দুটি অলাভজনক সংস্থা (যারা অনুদান পেয়েছে) সাম্প্রতিক সময়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি এড মার্টিনের সই করা চিঠি পেয়েছে।
  • সেখানে সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের সকল যোগাযোগ ও লেনদেন-সংক্রান্ত নথি এফবিআই’র কাছে জমা দিতে হবে।
  • এ ছাড়া সংস্থাগুলোর নিবন্ধন কাগজপত্র, অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা, নীতি ও পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
  • চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, নির্ধারিত তারিখে ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে।

ইপিএর অবস্থান

  • ইপিএ’র ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর চাড ম্যাকইন্টশ একইসঙ্গে অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে একটি আলাদা চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে প্রায় ৩৫টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
  • এর মধ্যে রয়েছে বোর্ড ডিরেক্টরদের পরিচয়, কর বিষয়ক নথি, “হাউ টু ডেভেলপ আ বাজেট” শীর্ষক প্রশিক্ষণ মডিউলের সনদ, পুরো অনুদান খরচের বিবরণ, এবং কারা উপ-অনুদান পেয়েছে তার তালিকা।
  • অনেক সংস্থা জানিয়েছে যে, এই তথ্যগুলোর বেশিরভাগ ইতিমধ্যে সিটিব্যাংক ও ইপিএ’র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক বিরোধ

  • ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ২০ বিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দে জালিয়াতি হয়েছে। তবে এখনো কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে আনা হয়নি।
  • যদি জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে প্রশাসন আইনগত প্রক্রিয়ায় সিটিব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করবে।
  • তবে গ্রিনহাউস গ্যাস রিডাকশন ফান্ড সংক্রান্ত চুক্তি, কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকে মনে করছেন, এই উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।

তহবিল ফ্রিজ’ ও এর প্রভাব

  • প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিটিব্যাংকে ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনুদানের অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না।
  • অর্থ আটকে থাকায় কিছু সংস্থা কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
  • অন্তত একটি সংস্থা অস্থায়ীভাবে কর্মী ছাঁটাই বা বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে।

পরিশেষ

  • অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিডেন আমলের জলবায়ু উদ্যোগগুলোকে থমকে দিতে বা ধীর করে দিতে চাইছে।
  • ইপিএ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অলাভজনক সংস্থাগুলোর দ্বন্দ্ব বাড়ার কারণে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর জন্য বরাদ্দকৃত এই বিশাল তহবিল বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
  • এখনো বিষয়টি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই রায়ই মূলত ঠিক করবে ২০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলের ভবিষ্যৎ এবং এর ব্যবস্থাপনার বৈধতা।