১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’ ধানক্ষেতে মাটিচাপা অবস্থায় মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, আতঙ্ক জয়পুরহাটে তিস্তা ও চীন সফর ঘিরে নজর রাখছে দিল্লি, বলল ভারত কাতারের সতর্কবার্তা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ না করার আহ্বান তেহরানকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রঙ হারাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় চিপসের প্যাকেট হ্যান্টাভাইরাস আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা, ক্রুজ জাহাজের প্রাদুর্ভাব দেখাল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ইমরান খানের বোনদের অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জাপানের সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ ৪০ বছরের গৃহঋণ চালুর পথে ইন্দোনেশিয়া, কমবে মাসিক কিস্তির চাপ শেয়ারবাজারে ফিরছে গতি, তিন সপ্তাহ পর লেনদেন ছাড়াল ১ হাজার কোটি টাকা

অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি ১০৫ দিন কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে বেঁচে ছিলেন, সফল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • 270

সারাক্ষণ ডেস্ক 

একজন অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি, যিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন, বায়ভ্যাকর (BiVACOR) সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে ১০৫ দিন বেঁচে ছিলেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবশেষে, সফলভাবে একজন দাতার হৃদয় প্রতিস্থাপনের পর, তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন করেন। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান, যা বিশ্বে প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা যেখানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে একজন রোগী হাসপাতালের বাইরে জীবনযাপন করেছেন।

কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

বায়ভ্যাকর সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয়টি অস্ট্রেলিয়ান বায়োইঞ্জিনিয়ার ড্যানিয়েল টিমসের আবিষ্কার। এটি একটি টাইটানিয়াম ব্লাড পাম্প, যা ম্যাগনেটিক লেভিটেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে। এই প্রযুক্তি সাধারণত উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। এটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পরিধান এড়িয়ে চলে, যা সাধারণ কৃত্রিম হৃদয়ের তুলনায় অধিক কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) অনুমোদিত একটি প্রাথমিক পরীক্ষামূলক গবেষণায় পাঁচজন রোগীর শরীরে এই কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এটি হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা বা প্রতিস্থাপনের যোগ্য নয় এমন রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের বিকল্প কি আসছে?

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দশকের মধ্যে কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তি হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় সম্পন্ন এই প্রতিস্থাপন প্রকল্পটি মনাশ ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে পরিচালিত “আটিফিশিয়াল হার্ট ফ্রন্টিয়ার্স প্রোগ্রাম”-এর অংশ, যা ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অর্থায়নে কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তির গবেষণা ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য কাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১.৮ কোটি মানুষ হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। এই নতুন কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তি হাজারো রোগীর জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হৃদযন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা, বাংলাদেশে চালু হলো ‘জেন্ডার চ্যাম্পিয়নস নেটওয়ার্ক’

অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি ১০৫ দিন কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে বেঁচে ছিলেন, সফল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

১০:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ ডেস্ক 

একজন অস্ট্রেলিয়ান ব্যক্তি, যিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন, বায়ভ্যাকর (BiVACOR) সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে ১০৫ দিন বেঁচে ছিলেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবশেষে, সফলভাবে একজন দাতার হৃদয় প্রতিস্থাপনের পর, তিনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা ছয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন করেন। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান, যা বিশ্বে প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা যেখানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয় নিয়ে একজন রোগী হাসপাতালের বাইরে জীবনযাপন করেছেন।

কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

বায়ভ্যাকর সম্পূর্ণ কৃত্রিম হৃদয়টি অস্ট্রেলিয়ান বায়োইঞ্জিনিয়ার ড্যানিয়েল টিমসের আবিষ্কার। এটি একটি টাইটানিয়াম ব্লাড পাম্প, যা ম্যাগনেটিক লেভিটেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে। এই প্রযুক্তি সাধারণত উচ্চগতির ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। এটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পরিধান এড়িয়ে চলে, যা সাধারণ কৃত্রিম হৃদয়ের তুলনায় অধিক কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) অনুমোদিত একটি প্রাথমিক পরীক্ষামূলক গবেষণায় পাঁচজন রোগীর শরীরে এই কৃত্রিম হৃদয় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এটি হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা বা প্রতিস্থাপনের যোগ্য নয় এমন রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের বিকল্প কি আসছে?

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দশকের মধ্যে কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তি হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় সম্পন্ন এই প্রতিস্থাপন প্রকল্পটি মনাশ ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে পরিচালিত “আটিফিশিয়াল হার্ট ফ্রন্টিয়ার্স প্রোগ্রাম”-এর অংশ, যা ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অর্থায়নে কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তির গবেষণা ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য কাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১.৮ কোটি মানুষ হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। এই নতুন কৃত্রিম হৃদয় প্রযুক্তি হাজারো রোগীর জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যারা প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হৃদযন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন।