১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি গ্যাস স্টেশনে বসল বিয়ের আসর, তিন পোশাকে চমকে দিলেন ড্রামার কনে ট্রাম্পের মানচিত্রে ‘মার্কিন’ আইসল্যান্ড, ক্ষুব্ধ রেইকিয়াভিক তলব করল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনভিডিয়া–হাগিং ফেস চুক্তিতে বদলে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানের এআই কৌশল মেয়ের জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে টেলর সুইফটের প্রিয় গয়না-শিল্পীর অনন্য আংটি ১০–৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল, আপত্তি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চার প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মিসরের সামনে যোগ দেওয়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন কাঁচা সবুজ টমেটো সংরক্ষণ করুন শীতের জন্য, সহজেই তৈরি করুন মজাদার আচার ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করল মিসর

ঢাকায় ছিনতাইকারীর আতঙ্ক

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
  • 135

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইকারীদের দাপট বেড়েই চলেছে৷ অনেক ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েও মিলছে না নিরাপত্তা৷ ছিনতাইকারীর আতঙ্কে বাসা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক মো. তৌহিদুল হক বলেন, “আসলে প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধগুলো বাড়ছে, কিন্তু প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা এখন চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছে। ফলে রাতে মানুষ খুব প্রয়োজন না হলে বের হচ্ছে না। আবার এলাকাও পরিবর্তন করছে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে, তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এগুলো জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে।”

“আর পুলিশ দুই কারণে মামলা কম নেয়। প্রথমত, তারা মামলা কমিয়ে নেয় পরিস্থিতি ভালো দেখানোর জন্য। আরেকটি কারণ হলো; যারা শিকার হন, তাদের মামলায় অনীহা। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে মামলা করতে চান না। আর পুলিশ  নানা আইনের ধারায় ডাকাতিকে চুরি, আর চুরির ক্ষেত্রে সাধারণ জিডি নেয়,” বলেন তিনি।

তৌহিদুল হক বলেন, “আসলে মামলার সংখ্যা বা পুলিশের অপরাধের পরিসংখ্যান দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার বাস্তব অবস্থা বোঝা যাবে না। কারণ, অনেক ঘটনাই রিপোর্টেড হয় না। আর মানুষের মধ্যে যখন নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় তখন সেটা পরিসংখ্যান নিয়ে মাপা যায় না। সমাজের এই ভয়ার্ত অবস্থা সার্বিক বিষয়কে নির্দেশ করে।”

পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনসার উদ্দিন খান পাঠান ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আসলে পুলিশকে দৃশ্যমান তৎপরতা চালাতে হবে। তার ভিজিবিলিটি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিং বাড়াতে হবে। সেটা করলে মানুষ আস্থা পাবে। নিরাপত্তাহীনতা কেটে যাবে। কিন্তু সেটা এখন তেমন হচ্ছে না। আর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সেটাকেও ভিজিবল করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘পরিস্থিতির কারণেই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আর এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মানুষ আরো আস্থা হারাবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যেমন নিজেই রাতে থানায় গিয়েছেন, ব্যবস্থা নিয়েছেন, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এভাবে নিয়মিত যাওয়া দরকার। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। সেটা হলে আস্থা ফিরবে। তবে পুলিশ এখনো ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

“অনিশ্চিত পরিস্থিতি তাদের দায়িত্ব পালনে নিস্পৃহ করে। সামনে নির্বাচন হলে কারা ক্ষমতায় আসবে। না হলে কী হবে-এগুলোও তাদের প্রভাবিত করে,” বলেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, “এটা ঠিক ছিনতাইয়ের মতো আরো কিছু অপরাধ আছে, যা মানুষকে ভীত করে, তাদের মনে নিরপত্তাহীনতা তৈরি করে। এজন্যই আমরা পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়িয়েছি। অভিযান বেড়েছে। টহল বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক ছিনতাইকারী আটক হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব থানাকে আমরা বলেছি যে, অভিযোগ সঠিক হলে যেন মামলা নেয়া হয়। মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”

ডয়চে ভেলে বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় ক্লাসের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, বদলাতে হবে শিক্ষার পদ্ধতি

ঢাকায় ছিনতাইকারীর আতঙ্ক

০৪:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইকারীদের দাপট বেড়েই চলেছে৷ অনেক ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েও মিলছে না নিরাপত্তা৷ ছিনতাইকারীর আতঙ্কে বাসা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক মো. তৌহিদুল হক বলেন, “আসলে প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধগুলো বাড়ছে, কিন্তু প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা এখন চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছে। ফলে রাতে মানুষ খুব প্রয়োজন না হলে বের হচ্ছে না। আবার এলাকাও পরিবর্তন করছে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে, তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এগুলো জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে।”

“আর পুলিশ দুই কারণে মামলা কম নেয়। প্রথমত, তারা মামলা কমিয়ে নেয় পরিস্থিতি ভালো দেখানোর জন্য। আরেকটি কারণ হলো; যারা শিকার হন, তাদের মামলায় অনীহা। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে মামলা করতে চান না। আর পুলিশ  নানা আইনের ধারায় ডাকাতিকে চুরি, আর চুরির ক্ষেত্রে সাধারণ জিডি নেয়,” বলেন তিনি।

তৌহিদুল হক বলেন, “আসলে মামলার সংখ্যা বা পুলিশের অপরাধের পরিসংখ্যান দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার বাস্তব অবস্থা বোঝা যাবে না। কারণ, অনেক ঘটনাই রিপোর্টেড হয় না। আর মানুষের মধ্যে যখন নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় তখন সেটা পরিসংখ্যান নিয়ে মাপা যায় না। সমাজের এই ভয়ার্ত অবস্থা সার্বিক বিষয়কে নির্দেশ করে।”

পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনসার উদ্দিন খান পাঠান ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আসলে পুলিশকে দৃশ্যমান তৎপরতা চালাতে হবে। তার ভিজিবিলিটি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিং বাড়াতে হবে। সেটা করলে মানুষ আস্থা পাবে। নিরাপত্তাহীনতা কেটে যাবে। কিন্তু সেটা এখন তেমন হচ্ছে না। আর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সেটাকেও ভিজিবল করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘পরিস্থিতির কারণেই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আর এটা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে মানুষ আরো আস্থা হারাবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যেমন নিজেই রাতে থানায় গিয়েছেন, ব্যবস্থা নিয়েছেন, পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এভাবে নিয়মিত যাওয়া দরকার। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। সেটা হলে আস্থা ফিরবে। তবে পুলিশ এখনো ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

“অনিশ্চিত পরিস্থিতি তাদের দায়িত্ব পালনে নিস্পৃহ করে। সামনে নির্বাচন হলে কারা ক্ষমতায় আসবে। না হলে কী হবে-এগুলোও তাদের প্রভাবিত করে,” বলেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, “এটা ঠিক ছিনতাইয়ের মতো আরো কিছু অপরাধ আছে, যা মানুষকে ভীত করে, তাদের মনে নিরপত্তাহীনতা তৈরি করে। এজন্যই আমরা পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়িয়েছি। অভিযান বেড়েছে। টহল বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক ছিনতাইকারী আটক হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব থানাকে আমরা বলেছি যে, অভিযোগ সঠিক হলে যেন মামলা নেয়া হয়। মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”

ডয়চে ভেলে বাংলা