০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
আতাউর রহমানের চলে যাওয়া খায়রুল হকের সব মামলায় জামিন, মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই গণতন্ত্র দুর্বল হলে মূর্তি বড় হয় সমুদ্রপথের ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ: ইরান যুদ্ধ যে বৈশ্বিক দুর্বলতাকে সামনে আনল আসামে ফের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, বিজেপি জোটের বিপুল জয়ে নতুন সরকার কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ বিস্তার, ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু নেপালের অর্থনীতির নীরব সংকট: প্রবাসী আয়ের ওপর অতিনির্ভরতার মূল্য বার্সেলোনায় কাচের গয়নার জ্বর, আগুন আর শিল্পের মিশেলে বদলে যাচ্ছে ফ্যাশনের ভাষা ভারি চুড়ির ঝলকে ফিরছে শক্তিশালী ফ্যাশনের বার্তা নারী নেতৃত্ব আর বিলাসী সংগ্রহের বিস্ময়, নিলামে উঠছে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী গয়না ও শিল্পকর্ম

চীনের উদ্ভাবনী মস-ভিত্তিক সমাধান: তেল নিঃসরণের বিরুদ্ধে পরিবেশবান্ধব যুদ্ধ

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • 174

সারাক্ষণ ডেস্ক 

তেল নিঃসরণ রোধে মস দিয়ে তৈরি হলো নতুন যুগের উপকরণ

তেল নিঃসরণ যেভাবে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, তার সমাধানে চীনা বিজ্ঞানীরা নতুন এক পথ দেখিয়েছেন। গুইঝো এডুকেশন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রাকৃতিক স্প্যাগনাম মস থেকে এমন একটি উপাদান তৈরি করেছেন, যা পানি প্রতিরোধ করে এবং দক্ষতার সঙ্গে তেল শোষণ করতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য—তেল নিঃসরণ পরিষ্কারে এক নতুন সম্ভাবনা।

পাইপলাইন ফেটে যাওয়া, ট্যাংকার ডুবে যাওয়া বা সমুদ্রতীরবর্তী রিগে দুর্ঘটনার ফলে তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটে, যা পরিষ্কার করতে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর লেগে যায়। তেল এবং জৈব রাসায়নিকের এই ধরনের দুর্ঘটনা মানবস্বাস্থ্য ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

বিভিন্ন দেশ এর আগে তুলা, ফলের খোসার মতো জৈব-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করলেও, সেগুলো শোষণক্ষমতায় দুর্বল, পানি প্রতিরোধে অক্ষম এবং একাধিকবার ব্যবহারে অকার্যকর ছিল। চীনা গবেষকরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছেন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মসের পৃষ্ঠ পরিবর্তন করে।

তারা জানান, নতুনভাবে প্রস্তুতকৃত এই উপকরণ প্রচলিত জৈব-ভিত্তিক উপকরণের চেয়ে দ্বিগুণ তেল শোষণ করতে সক্ষম এবং ১০ বার পুনঃব্যবহারের পরও ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে। এছাড়া, উৎপাদন প্রক্রিয়াটি সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি বড় পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী হতে পারে।

বিপর্যয়ের বাস্তব উদাহরণ আরও স্পষ্ট করছে প্রয়োজনীয়তা

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে একাধিক তেল নিঃসরণ ঘটনা এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্চ মাসে ইকুয়েডরের কেপল নদীতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকটি নদী দূষিত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে।

ডিসেম্বরে রাশিয়ার দুটি পুরনো ট্যাংকার আজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগরের সংযোগস্থলে ঝড়ে পড়লে একটি ডুবে যায় ও আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকে, যার ফলে হাজার হাজার টন তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে।

এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় কীস্টোন পাইপলাইনে ফাটল ধরে ৩,৫০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল একটি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এখনো পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গবেষকরা বলেন, “তেল ও জৈব রাসায়নিকের নিঃসরণ ক্রমেই বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর, পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী উপায়ে তেল শোষণযোগ্য উপকরণ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।”

তবে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে এই নতুন মস-ভিত্তিক উপকরণের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আতাউর রহমানের চলে যাওয়া

চীনের উদ্ভাবনী মস-ভিত্তিক সমাধান: তেল নিঃসরণের বিরুদ্ধে পরিবেশবান্ধব যুদ্ধ

০৫:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

সারাক্ষণ ডেস্ক 

তেল নিঃসরণ রোধে মস দিয়ে তৈরি হলো নতুন যুগের উপকরণ

তেল নিঃসরণ যেভাবে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, তার সমাধানে চীনা বিজ্ঞানীরা নতুন এক পথ দেখিয়েছেন। গুইঝো এডুকেশন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রাকৃতিক স্প্যাগনাম মস থেকে এমন একটি উপাদান তৈরি করেছেন, যা পানি প্রতিরোধ করে এবং দক্ষতার সঙ্গে তেল শোষণ করতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য—তেল নিঃসরণ পরিষ্কারে এক নতুন সম্ভাবনা।

পাইপলাইন ফেটে যাওয়া, ট্যাংকার ডুবে যাওয়া বা সমুদ্রতীরবর্তী রিগে দুর্ঘটনার ফলে তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটে, যা পরিষ্কার করতে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর লেগে যায়। তেল এবং জৈব রাসায়নিকের এই ধরনের দুর্ঘটনা মানবস্বাস্থ্য ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

বিভিন্ন দেশ এর আগে তুলা, ফলের খোসার মতো জৈব-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করলেও, সেগুলো শোষণক্ষমতায় দুর্বল, পানি প্রতিরোধে অক্ষম এবং একাধিকবার ব্যবহারে অকার্যকর ছিল। চীনা গবেষকরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছেন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মসের পৃষ্ঠ পরিবর্তন করে।

তারা জানান, নতুনভাবে প্রস্তুতকৃত এই উপকরণ প্রচলিত জৈব-ভিত্তিক উপকরণের চেয়ে দ্বিগুণ তেল শোষণ করতে সক্ষম এবং ১০ বার পুনঃব্যবহারের পরও ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে। এছাড়া, উৎপাদন প্রক্রিয়াটি সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি বড় পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী হতে পারে।

বিপর্যয়ের বাস্তব উদাহরণ আরও স্পষ্ট করছে প্রয়োজনীয়তা

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে একাধিক তেল নিঃসরণ ঘটনা এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্চ মাসে ইকুয়েডরের কেপল নদীতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েকটি নদী দূষিত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ে।

ডিসেম্বরে রাশিয়ার দুটি পুরনো ট্যাংকার আজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগরের সংযোগস্থলে ঝড়ে পড়লে একটি ডুবে যায় ও আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকে, যার ফলে হাজার হাজার টন তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। রাশিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে।

এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় কীস্টোন পাইপলাইনে ফাটল ধরে ৩,৫০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল একটি কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এখনো পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গবেষকরা বলেন, “তেল ও জৈব রাসায়নিকের নিঃসরণ ক্রমেই বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর, পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী উপায়ে তেল শোষণযোগ্য উপকরণ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।”

তবে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে এই নতুন মস-ভিত্তিক উপকরণের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।