১০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কলকাতায় বারবারা কিংসলভার, সাহিত্যের মমতা আর নতুন উপন্যাসের প্রতিশ্রুতি মারগট রবি’র ত্বকের অনুপ্রেরণায় গড়া ‘উদারিং হাইটস’—চমকে দেওয়া সেট ডিজাইনের গল্প ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দরকার বেশি তথ্য, কম দম্ভ কঠিন নারীর গল্পে নতুন আলোড়ন, সারা লেভিনের উপন্যাসে হাস্যরস আর সংকটের ভিন্ন পাঠ উচ্চ শব্দের সঙ্গীতে অদৃশ্য শ্রবণক্ষতি, বুঝে ওঠার আগেই বাড়ছে ঝুঁকি টেকসই ভবিষ্যতের পথে বাঁশের নবজাগরণ, শিল্প থেকে খাদ্যে বাড়ছে সম্ভাবনা জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন স্মৃতি, শহর আর আত্মঅন্বেষণের অনন্য যাত্রা: অনন্যা বাজপেয়ীর বইয়ে বিশ্ব নগরের অন্তরঙ্গ মানচিত্র সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড থেকে পেট্রোলের উপাদান তৈরির নতুন পথ দেখালেন চীনা বিজ্ঞানীরা কঠোর প্রাণীকল্যাণ আইন দাবি, হংকংয়ে পুকুরে মিলল আক্রমণাত্মক কচ্ছপ

হিন্দুস্থান টাইমস প্রতিবেদনঃ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় জানান, ঢাকার একটি কথিত ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ‘সলতানাত-ই-বাংলা’ এবং তুরস্কভিত্তিক ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’ যৌথভাবে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে ভারতের কিছু অঞ্চলকে “গ্রেটার বাংলাদেশ”-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত সরকার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কী জানিয়েছেন মন্ত্রী?

জয়শঙ্করের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মানচিত্রটি ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়েছিল। তিনি বলেন, ভারত যেসব ঘটনাকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে, সেগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী: ইতিহাস বিচারের আগে যা ভাবতে হবে -  শুদ্ধস্বর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানচিত্র প্রদর্শনী

খবর অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল ২০২৫—পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে মানচিত্রটি টাঙানো হয়। আয়োজকরা পরে জানান, তাদের কোনো বিদেশি রাজনৈতিক সত্তার সঙ্গে সংযোগ নেই; প্রদর্শনীটি প্রাচীন ‘বঙ্গ সুলতানাত’-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশি ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ জানিয়েছে, ‘সলতানাত-ই-বাংলা’ নামে দেশে কোনো সক্রিয় সংগঠনের অস্তিত্বের প্রমাণ তারা পায়নি। তাদের বক্তব্য, বিতর্কিত মানচিত্রটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের একটি অংশ, যার বর্তমান রাজনৈতিক দাবি—যদি থেকে থাকে—তার সঙ্গে প্রদর্শনীর কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ

ভারত সরকার বিষয়টিকে সম্ভাব্য সীমান্ত-সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ কীভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক স্তরে ঢাকা সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সংসদীয় প্রশ্নের প্রেক্ষাপট

কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা জানতে চান, ভারত সরকার কি এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মূল্যায়ন করেছে কি না। জয়শঙ্কর তার জবাবে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্রের বিতর্ক আপাতদৃষ্টিতে সীমিত একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী থেকে উঠেও ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত সতর্ক দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আর বাংলাদেশ নিজ দেশে এমন কোনো উগ্র সংগঠনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থাই এই উত্তাপ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতায় বারবারা কিংসলভার, সাহিত্যের মমতা আর নতুন উপন্যাসের প্রতিশ্রুতি

হিন্দুস্থান টাইমস প্রতিবেদনঃ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক

১০:১১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় জানান, ঢাকার একটি কথিত ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ‘সলতানাত-ই-বাংলা’ এবং তুরস্কভিত্তিক ‘টার্কিশ ইয়ুথ ফেডারেশন’ যৌথভাবে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে যেখানে ভারতের কিছু অঞ্চলকে “গ্রেটার বাংলাদেশ”-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত সরকার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কী জানিয়েছেন মন্ত্রী?

জয়শঙ্করের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মানচিত্রটি ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়েছিল। তিনি বলেন, ভারত যেসব ঘটনাকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে, সেগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী: ইতিহাস বিচারের আগে যা ভাবতে হবে -  শুদ্ধস্বর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানচিত্র প্রদর্শনী

খবর অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল ২০২৫—পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে মানচিত্রটি টাঙানো হয়। আয়োজকরা পরে জানান, তাদের কোনো বিদেশি রাজনৈতিক সত্তার সঙ্গে সংযোগ নেই; প্রদর্শনীটি প্রাচীন ‘বঙ্গ সুলতানাত’-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশি ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ জানিয়েছে, ‘সলতানাত-ই-বাংলা’ নামে দেশে কোনো সক্রিয় সংগঠনের অস্তিত্বের প্রমাণ তারা পায়নি। তাদের বক্তব্য, বিতর্কিত মানচিত্রটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের একটি অংশ, যার বর্তমান রাজনৈতিক দাবি—যদি থেকে থাকে—তার সঙ্গে প্রদর্শনীর কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ

ভারত সরকার বিষয়টিকে সম্ভাব্য সীমান্ত-সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ কীভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কূটনৈতিক স্তরে ঢাকা সরকারের সঙ্গেও আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সংসদীয় প্রশ্নের প্রেক্ষাপট

কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা জানতে চান, ভারত সরকার কি এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মূল্যায়ন করেছে কি না। জয়শঙ্কর তার জবাবে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্রের বিতর্ক আপাতদৃষ্টিতে সীমিত একটি সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী থেকে উঠেও ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত সতর্ক দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আর বাংলাদেশ নিজ দেশে এমন কোনো উগ্র সংগঠনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থাই এই উত্তাপ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।