০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
হেনড্রিক্সের সঙ্গীদের উত্তরাধিকারীদের বড় ধাক্কা: রয়্যালটি দাবিতে আদালতে পরাজয় গোল্ডেন গোলের নায়ক থেকে বিতর্কের শিকার—আন জং-হোয়ানের গল্পে বিশ্বকাপের অন্ধকার অধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে চার্লসের বার্তা: মতভেদ থাকলেও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ট্রাম্পের ছবি থাকছে মার্কিন পাসপোর্টে, ভাঙছে দীর্ঘদিনের রীতি মাস্ক বনাম ওপেনএআই: দাতব্য থেকে মুনাফা—আদালতে তীব্র লড়াই, ১৫০ বিলিয়ন ডলারের দাবি ওপেক ছাড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা                                যশোরে মেয়ের হাতে মায়ের নৃশংস মৃত্যু, মানসিক অস্থিরতার অভিযোগে আটক ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, সাময়িক বরখাস্ত বিএনপি নেতা                                          বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানির অঙ্গীকার বগুড়ায় খেজুরের গুদামে ভয়াবহ আগুন, আড়াই কোটি টাকার বেশি ক্ষতি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬১)

কোফতার কথা বলতে গেলে কালিয়ার কথা বলতে হয়। একরকম কালিয়া হতো ঢাকায় যার নাম ছিল জাহাজি কালিয়া। তার উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী খণ্ডে।

ঢাকার বৈশিষ্ট্য যদি কোনো কাবাব ধারণ করে থাকে তবে তা বর্তমানে সুতলি কাবাব যাকে হাকিম পারসান্দ কাবাব বলে উল্লেখ করেছেন। উনিশ শতকে ১০-১৫ সের মাংস কীমা বানিয়ে সুতার সঙ্গে লেপটে বা পেঁচিয়ে শিকে পোড়ানো হতো। এ কাবাব এখনো তৈরি হয় কিন্তু পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

ঢাকাই খাসির রেজালা 

কাবাবের সঙ্গে কোফতার প্রসঙ্গ আসবে। কোফতা যে রকমভাবে সব জায়গায় তৈরি হতো, এখানেও প্রক্রিয়া ছিল একই রকম। মিঠা কোফতা নামে উনিশ শতকে এক ধরনের কোফতা ছিল।

বেরেজি কোফতার কথা আগে উল্লেখ করেছি যা মিঠা কোফতা নামেও পরিচিত ছিল। এখন তা লুপ্ত।কোফতার কথা বলতে গেলে কালিয়ার কথা বলতে হয়। একরকম কালিয়া হতো ঢাকায় যার নাম ছিল জাহাজি কালিয়া। তার উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী খণ্ডে।

কে এম মোহসীন প্রমুখের লেখায় আরেক ধরনের কালিয়ার উল্লেখ পাই। এর নাম কী ছিল জানি না। তবে তা রান্না করা হতো বাঁশের মোচা দিয়ে। কানিজ উল্লেখ করেছেন, কোরমা বা কালিয়া এসেছে তুরস্ক থেকে। তুর্কিরা কালিয়াতে মরিচ দিতেন না। ঢাকার কালিয়ায় হলুদ ও মরিচ দেয়া হতো।

আরেকটি খাবার ছিল যার নাম ছিল সিশরাঙা। সিশ ফারসি শব্দ যার মানে ছয়। অর্থাৎ সিশরাঙায় পাওয়া যেত ছয় রকমের স্বাদ। কানিজ উল্লেখ করেছেন সিশরাঙার উপাদান ছিল আটটি ডিম, এক পোয়া ঘি, দুই কাপ পেঁয়াজ কুচি, চারটি কমলালেবু বা লেবু এবং একটি আনারস।

মশলা হলো দারুচিনি, এলাচি, লং কিসমিস, এক চামচ চিনি, ডিম আগে সেদ্ধ করে ঘিয়ে ভাজা হতো। সব মিশিয়ে রান্না করা হতো। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গরমের দিনে আনারস বাটা দেয়া হতো। আর শীতে কমলা লেবু। যারা ঝাল পছন্দ করতেন তারা এর সঙ্গে খানিকটা বাটা মরিচ মেশাতেন। পোলাও, ভাত বা রুটি দিয়ে সিশরাঙা খাওয়া হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

হেনড্রিক্সের সঙ্গীদের উত্তরাধিকারীদের বড় ধাক্কা: রয়্যালটি দাবিতে আদালতে পরাজয়

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬১)

০৭:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

কোফতার কথা বলতে গেলে কালিয়ার কথা বলতে হয়। একরকম কালিয়া হতো ঢাকায় যার নাম ছিল জাহাজি কালিয়া। তার উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী খণ্ডে।

ঢাকার বৈশিষ্ট্য যদি কোনো কাবাব ধারণ করে থাকে তবে তা বর্তমানে সুতলি কাবাব যাকে হাকিম পারসান্দ কাবাব বলে উল্লেখ করেছেন। উনিশ শতকে ১০-১৫ সের মাংস কীমা বানিয়ে সুতার সঙ্গে লেপটে বা পেঁচিয়ে শিকে পোড়ানো হতো। এ কাবাব এখনো তৈরি হয় কিন্তু পরিমাণ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

ঢাকাই খাসির রেজালা 

কাবাবের সঙ্গে কোফতার প্রসঙ্গ আসবে। কোফতা যে রকমভাবে সব জায়গায় তৈরি হতো, এখানেও প্রক্রিয়া ছিল একই রকম। মিঠা কোফতা নামে উনিশ শতকে এক ধরনের কোফতা ছিল।

বেরেজি কোফতার কথা আগে উল্লেখ করেছি যা মিঠা কোফতা নামেও পরিচিত ছিল। এখন তা লুপ্ত।কোফতার কথা বলতে গেলে কালিয়ার কথা বলতে হয়। একরকম কালিয়া হতো ঢাকায় যার নাম ছিল জাহাজি কালিয়া। তার উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী খণ্ডে।

কে এম মোহসীন প্রমুখের লেখায় আরেক ধরনের কালিয়ার উল্লেখ পাই। এর নাম কী ছিল জানি না। তবে তা রান্না করা হতো বাঁশের মোচা দিয়ে। কানিজ উল্লেখ করেছেন, কোরমা বা কালিয়া এসেছে তুরস্ক থেকে। তুর্কিরা কালিয়াতে মরিচ দিতেন না। ঢাকার কালিয়ায় হলুদ ও মরিচ দেয়া হতো।

আরেকটি খাবার ছিল যার নাম ছিল সিশরাঙা। সিশ ফারসি শব্দ যার মানে ছয়। অর্থাৎ সিশরাঙায় পাওয়া যেত ছয় রকমের স্বাদ। কানিজ উল্লেখ করেছেন সিশরাঙার উপাদান ছিল আটটি ডিম, এক পোয়া ঘি, দুই কাপ পেঁয়াজ কুচি, চারটি কমলালেবু বা লেবু এবং একটি আনারস।

মশলা হলো দারুচিনি, এলাচি, লং কিসমিস, এক চামচ চিনি, ডিম আগে সেদ্ধ করে ঘিয়ে ভাজা হতো। সব মিশিয়ে রান্না করা হতো। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গরমের দিনে আনারস বাটা দেয়া হতো। আর শীতে কমলা লেবু। যারা ঝাল পছন্দ করতেন তারা এর সঙ্গে খানিকটা বাটা মরিচ মেশাতেন। পোলাও, ভাত বা রুটি দিয়ে সিশরাঙা খাওয়া হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-৬০)