০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
উড়ে যাওয়া “বিদ্যুৎচালিত” নৌকা: শহুরে পরিবহন বদলে দেবে কি? ওয়াদারিং হাইটস অবলম্বনে বিতর্কিত নতুন সিনেমা, প্রেম নাকি কেবল শরীরের ঝড়? ক্রিপ্টো শীতের তীব্র প্রহার: বিটকয়েন ও ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে মরণঘণ্টা বাজছে আজ চোখের মতো বুদ্ধিমত্তা! রোবটদের দৃষ্টি এবার হবে মানুষের চেয়ে চারগুণ দ্রুত আত্মনির্ভরতার তরঙ্গ: আমেরিকায় সংখ্যালঘু উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপ বুম এশিয়ার করপোরেট শাসনে বিপ্লব: জাপানের পথচলা কি বদলে দেবে পুরো অঞ্চলের পুঁজিবাজার? তারেক রহমানের শপথে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ পাঠানোর পরিকল্পনা বিএনপির ভোটে পরাজিত হলেও সংসদে যেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাহুল গান্ধী ভারতের কটন চাষী ও টেক্সটাইল রফতানিকারীদের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অভিযোগ আফ্রিকার জাগরণের নতুন পাঠ: উন্নয়নের পথে জনসংখ্যাই কি মোড় ঘোরাবে?

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা মুছে ফেলার জন্য ইসরায়েলের বসতি স্থাপন পরিকল্পনা অনুমোদন

বিতর্কিত পরিকল্পনার অনুমোদন
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বুধবার ঘোষণা করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিতর্কিত ‘ই-১ বসতি স্থাপন পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প কার্যকর হলে পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে ভাগ করে দেবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে আলাদা করবে।

স্মোটরিচ বলেন, “ই-১ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি, যা বহু বছর ধরে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা এখন আর কেবল স্লোগান নয়, বরং কার্যকরভাবে মুছে যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই অনুমোদনের পর জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, “এই পরিকল্পনা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের হৃদয়ে আঘাত হানবে। আমরা ইসরায়েলকে সব ধরনের বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা ধ্বংস করবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি মন্তব্য করেছেন, “এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একটি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র দুই ভাগে বিভক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

জার্মান সরকারও জানিয়েছে, বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আপত্তি সত্ত্বেও অগ্রগতি


ই-১ পরিকল্পনা ২০১২ এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আপত্তির কারণে স্থগিত হয়েছিল। তবে এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

এই প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি অধিকারভিত্তিক সংস্থা ‘পিস নাউ’ জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর নীরবতা ও রাজনৈতিক বার্তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত রবিবার পশ্চিম তীরের আরেকটি বসতি সফরে তিনি বলেন, “২৫ বছর আগে আমি বলেছিলাম, ইসরায়েলের ভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আমরা সবকিছু করব, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঠেকাব, আমাদের উৎখাতের প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করেছি।”

দুই রাষ্ট্র সমাধানের হুমকি

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও শান্তি প্রচারক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যাবে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণা হলো—পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে টিকে থাকবে। কিন্তু ইসরায়েল এই বসতি স্থাপনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলছে, এসব এলাকা তাদের ঐতিহাসিক ও বাইবেলীয় অধিকারের অংশ এবং এটি নিরাপত্তা ও কৌশলগত গভীরতা প্রদান করে।


ই-১ বসতি স্থাপন প্রকল্প কার্যকর হলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা বাস্তবতার বাইরে চলে যাবে। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সরকার এই সিদ্ধান্তে অটল, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যতকে আরও জটিল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উড়ে যাওয়া “বিদ্যুৎচালিত” নৌকা: শহুরে পরিবহন বদলে দেবে কি?

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা মুছে ফেলার জন্য ইসরায়েলের বসতি স্থাপন পরিকল্পনা অনুমোদন

১২:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

বিতর্কিত পরিকল্পনার অনুমোদন
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বুধবার ঘোষণা করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিতর্কিত ‘ই-১ বসতি স্থাপন পরিকল্পনা’ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প কার্যকর হলে পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে ভাগ করে দেবে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে আলাদা করবে।

স্মোটরিচ বলেন, “ই-১ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি, যা বহু বছর ধরে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা এখন আর কেবল স্লোগান নয়, বরং কার্যকরভাবে মুছে যাচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই অনুমোদনের পর জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, “এই পরিকল্পনা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের হৃদয়ে আঘাত হানবে। আমরা ইসরায়েলকে সব ধরনের বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা ধ্বংস করবে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি মন্তব্য করেছেন, “এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একটি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র দুই ভাগে বিভক্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

জার্মান সরকারও জানিয়েছে, বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আপত্তি সত্ত্বেও অগ্রগতি


ই-১ পরিকল্পনা ২০১২ এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আপত্তির কারণে স্থগিত হয়েছিল। তবে এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

এই প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি অধিকারভিত্তিক সংস্থা ‘পিস নাউ’ জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হতে পারে এবং এক বছরের মধ্যে ঘরবাড়ি নির্মাণ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর নীরবতা ও রাজনৈতিক বার্তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত রবিবার পশ্চিম তীরের আরেকটি বসতি সফরে তিনি বলেন, “২৫ বছর আগে আমি বলেছিলাম, ইসরায়েলের ভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আমরা সবকিছু করব, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঠেকাব, আমাদের উৎখাতের প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করেছি।”

দুই রাষ্ট্র সমাধানের হুমকি

দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও শান্তি প্রচারক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা ধ্বংস হয়ে যাবে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণা হলো—পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে টিকে থাকবে। কিন্তু ইসরায়েল এই বসতি স্থাপনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলছে, এসব এলাকা তাদের ঐতিহাসিক ও বাইবেলীয় অধিকারের অংশ এবং এটি নিরাপত্তা ও কৌশলগত গভীরতা প্রদান করে।


ই-১ বসতি স্থাপন প্রকল্প কার্যকর হলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা বাস্তবতার বাইরে চলে যাবে। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সরকার এই সিদ্ধান্তে অটল, যা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যতকে আরও জটিল করে তুলছে।