১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০৮)

দশম পরিচ্ছেদ

সান্ধ্যপ্রার্থনার জন্যে গির্জের ঘণ্টা বাজতে শুরু করলে কসাকটা তার তরোয়াল চালানো অভ্যেস করা বন্ধ করলে। গরম-হয়ে-ওঠা তরোয়ালের ফলাটা ছাইরঙের একটা পায়ের পট্টি দিয়ে মুছে খাপে পুরে ফেলে নিজের বুকে ক্রুশচিহ্ন আঁকলে। লোকটা তখনও হাঁপাচ্ছে আর জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে।

আলুখেতের মধ্যে দিয়ে সরু পায়ে-চলার পথ ধরে এক সময়ে একটা ঝরনার ধারে এসে হাজির হলুম। পুরনো, শ্যাওলাঢাকা একটা কাঠের গুড়ির ফাঁক দিয়ে বরফের মতো ঠাণ্ডা কঙ্কনে জল প্রাণের আনন্দে ফেনিয়ে-ফেনিয়ে ঝরে পড়ছিল। পাশেই পচা কাঠের ক্রুশে-বসানো মরচে-ধরা একটা যিশুমূর্তি মলিন-হয়ে-আসা চোখে তাকিয়ে ছিল। মূর্তিটার নিচে কাঠের গায়ে ছুরি-দিয়ে খোদাই-করা কয়েকটা কথা তখন ঝাপসা হয়ে এসেছিল। কথাগুলো এই: ‘দেবদেবীর যত মূর্তি আর সন্তরা সবই ধাস্পা!’

অন্ধকার হয়ে আসছিল। ভাবছিলুম, ‘আর আধঘণ্টার মধ্যেই ইটের-তৈরি কাড়েটার দিকে যেতে পারব।’ ঠিক করলুম, গ্রামের একেবারে প্রান্তে চলে যাব, তারপর বড় রাস্তা পার হয়ে সেখান থেকে ছোট একটা পাশের পথ ধরে গরাদ-দেয়া সেই জানলাটার দিকে এগোব। আমার মাওজারটা ঝোপের মধ্যে কোথায় ফেলেছিলুম তা আমার ঠিক-ঠিক জানা ছিল।

ফেলবার পরে দেখেছিলুম, শাদা কাগজের মোড়কটা বিছুটির ফাঁক দিয়ে অল্প-অল্প দেখা যাচ্ছিল। আমি পরিকল্পনা ছকে ফেললুম: রাস্তা দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে না-থেমেই মাওজারটা তুলে নেব, তারপর জানলার গরাদের ফাঁক দিয়ে সেটা ভেতরে গলিয়ে দিয়ে যেন কিছুই হয় নি এমনভাবে সোজা হে’টে চলে যাব।

রাস্তার মোড় ফিরতেই একটুকরো পোড়ো গো-চর জমিতে এসে পড়লুম। দেখলুম, মাঠটায় একদল সৈন্য দাঁড়িয়ে আছে। আর, তারপর, হঠাৎ ক্যাটেনের একেবারে মুখোমুখি পড়ে গেলুম।

‘এখানে কী মনে করে?’ অবাক হয়ে ক্যাপ্টেন বলল। ‘তুমিও দেখতে এসেছ নাকি? ব্যাপারটা তোমার কাছে নতুন, তাই না?’

‘আপনি এর মধ্যে ফিরে এসেছেন?’ ভ্যাবাচাকা খেয়ে ওর দিকে বিহ্বল চোখে তাকিয়ে আমি জড়িয়ে-জড়িয়ে বললুম। এত হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলুম যে ওর কথার মানে ধরতে পারছিলুম না।

হঠাৎ ডানদিকে উ’চুগলার একটা হুকুম শুনে দু-জনেই আমরা ফিরে তাকালুম। আর যা দেখলুম তাতে ভুত দেখার মতো আঁতকে উঠে আমি ক্যাটেনের জামার হাতাটা চেপে ধরলুম।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০৮)

০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দশম পরিচ্ছেদ

সান্ধ্যপ্রার্থনার জন্যে গির্জের ঘণ্টা বাজতে শুরু করলে কসাকটা তার তরোয়াল চালানো অভ্যেস করা বন্ধ করলে। গরম-হয়ে-ওঠা তরোয়ালের ফলাটা ছাইরঙের একটা পায়ের পট্টি দিয়ে মুছে খাপে পুরে ফেলে নিজের বুকে ক্রুশচিহ্ন আঁকলে। লোকটা তখনও হাঁপাচ্ছে আর জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলছে।

আলুখেতের মধ্যে দিয়ে সরু পায়ে-চলার পথ ধরে এক সময়ে একটা ঝরনার ধারে এসে হাজির হলুম। পুরনো, শ্যাওলাঢাকা একটা কাঠের গুড়ির ফাঁক দিয়ে বরফের মতো ঠাণ্ডা কঙ্কনে জল প্রাণের আনন্দে ফেনিয়ে-ফেনিয়ে ঝরে পড়ছিল। পাশেই পচা কাঠের ক্রুশে-বসানো মরচে-ধরা একটা যিশুমূর্তি মলিন-হয়ে-আসা চোখে তাকিয়ে ছিল। মূর্তিটার নিচে কাঠের গায়ে ছুরি-দিয়ে খোদাই-করা কয়েকটা কথা তখন ঝাপসা হয়ে এসেছিল। কথাগুলো এই: ‘দেবদেবীর যত মূর্তি আর সন্তরা সবই ধাস্পা!’

অন্ধকার হয়ে আসছিল। ভাবছিলুম, ‘আর আধঘণ্টার মধ্যেই ইটের-তৈরি কাড়েটার দিকে যেতে পারব।’ ঠিক করলুম, গ্রামের একেবারে প্রান্তে চলে যাব, তারপর বড় রাস্তা পার হয়ে সেখান থেকে ছোট একটা পাশের পথ ধরে গরাদ-দেয়া সেই জানলাটার দিকে এগোব। আমার মাওজারটা ঝোপের মধ্যে কোথায় ফেলেছিলুম তা আমার ঠিক-ঠিক জানা ছিল।

ফেলবার পরে দেখেছিলুম, শাদা কাগজের মোড়কটা বিছুটির ফাঁক দিয়ে অল্প-অল্প দেখা যাচ্ছিল। আমি পরিকল্পনা ছকে ফেললুম: রাস্তা দিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে না-থেমেই মাওজারটা তুলে নেব, তারপর জানলার গরাদের ফাঁক দিয়ে সেটা ভেতরে গলিয়ে দিয়ে যেন কিছুই হয় নি এমনভাবে সোজা হে’টে চলে যাব।

রাস্তার মোড় ফিরতেই একটুকরো পোড়ো গো-চর জমিতে এসে পড়লুম। দেখলুম, মাঠটায় একদল সৈন্য দাঁড়িয়ে আছে। আর, তারপর, হঠাৎ ক্যাটেনের একেবারে মুখোমুখি পড়ে গেলুম।

‘এখানে কী মনে করে?’ অবাক হয়ে ক্যাপ্টেন বলল। ‘তুমিও দেখতে এসেছ নাকি? ব্যাপারটা তোমার কাছে নতুন, তাই না?’

‘আপনি এর মধ্যে ফিরে এসেছেন?’ ভ্যাবাচাকা খেয়ে ওর দিকে বিহ্বল চোখে তাকিয়ে আমি জড়িয়ে-জড়িয়ে বললুম। এত হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলুম যে ওর কথার মানে ধরতে পারছিলুম না।

হঠাৎ ডানদিকে উ’চুগলার একটা হুকুম শুনে দু-জনেই আমরা ফিরে তাকালুম। আর যা দেখলুম তাতে ভুত দেখার মতো আঁতকে উঠে আমি ক্যাটেনের জামার হাতাটা চেপে ধরলুম।