০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
হাইলাইট: অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজি কান পেরিয়ে ‘অম্মা আরিয়ান’-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সীমান্ত শুধু নিরাপত্তার রেখা নয়, বেঁচে থাকারও পথ হরমুজের ছায়ায় বদলে যাচ্ছে জ্বালানি রাজনীতির মানচিত্র পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নাকি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক প্রজন্ম? মরক্কোর বিশ্বকাপ স্বপ্নে অস্থিরতা, আফ্রিকা সেরার মুকুট নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা ব্রাজিলের ২৪ বছরের অপেক্ষা, নতুন কোচ আনচেলত্তির হাত ধরে বিশ্বকাপ স্বপ্নের নতুন যাত্রা পাখির মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে সিঙ্গাপুরে, কাচঘেরা ভবনই বড় হুমকি মালয়েশিয়ার জোট রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা, আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত আনোয়ারের চীনের পিংলু খাল খুলছে সেপ্টেম্বরে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যে নতুন গতি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এইচ-১বি ভিসা ফি পুরনো ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

নতুন নিয়মের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন ১ লাখ ডলারের ফি রবিবার থেকে কার্যকর হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই ফি কেবল নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইতিমধ্যেই যাদের বৈধ ভিসা রয়েছে এবং যারা দেশে প্রবেশ বা পুনঃপ্রবেশ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ফি নেওয়া হবে না।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট শনিবার ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “এটি কোনো বার্ষিক ফি নয়। এটি একবারের ফি, যা শুধু আবেদনপত্রের জন্য প্রযোজ্য।”

বর্তমান ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তি

লেভিট আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বৈধ এইচ-১বি ভিসা হাতে রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফের প্রবেশের সময় এই ফি দিতে হবে না। এর মানে হলো, বর্তমান ভিসাধারীরা স্বাভাবিক নিয়মে দেশ থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করা চালিয়ে যেতে পারবেন।

বিভ্রান্তি ও কর্পোরেট সতর্কতা

শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছিলেন, এই ফি বার্ষিকভাবে নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তার ঘোষণার পর মাইক্রোসফট, জেপিমরগ্যান, অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানি তাদের এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের ইমেইল পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়। গোল্ডম্যান স্যাকস কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও ভারতের উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা এই ফি কার্যকর করবে। হোয়াইট হাউস বলছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো মার্কিন শ্রমিকদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, যাদের জায়গা নিচ্ছেন তুলনামূলক কম বেতনের বিদেশি কর্মীরা।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, এই নতুন নিয়ম ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কারণ এসব কোম্পানি দক্ষ পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে থাকে।

বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউস একটি তথ্যে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি ছাড়া ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে।

তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে আইটি কর্মীদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারীর হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

কঠোর নজরদারির নির্দেশ

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রম বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে ভিসা যাচাই, আইন প্রয়োগ, অডিট ও জরিমানার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। এছাড়া শ্রম সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচির মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য এবং উচ্চ দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য।

ভিসাধারীদের মধ্যে উদ্বেগ

এই ঘোষণার পর থেকেই কর্পোরেট আমেরিকার হাজারো কর্মী দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ রেডনোটস-এ অনেক এইচ-১বি ভিসাধারী জানিয়েছেন, তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন—কেউ কেউ বিদেশে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই—ভয়ে যে হয়তো নতুন ১ লাখ ডলারের ফি দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: অদ্ভুত মামলা, নজিরবিহীন কারসাজি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এইচ-১বি ভিসা ফি পুরনো ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

০১:৫৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নতুন নিয়মের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন ১ লাখ ডলারের ফি রবিবার থেকে কার্যকর হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই ফি কেবল নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইতিমধ্যেই যাদের বৈধ ভিসা রয়েছে এবং যারা দেশে প্রবেশ বা পুনঃপ্রবেশ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ফি নেওয়া হবে না।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট শনিবার ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “এটি কোনো বার্ষিক ফি নয়। এটি একবারের ফি, যা শুধু আবেদনপত্রের জন্য প্রযোজ্য।”

বর্তমান ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তি

লেভিট আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বৈধ এইচ-১বি ভিসা হাতে রয়েছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফের প্রবেশের সময় এই ফি দিতে হবে না। এর মানে হলো, বর্তমান ভিসাধারীরা স্বাভাবিক নিয়মে দেশ থেকে বের হওয়া ও প্রবেশ করা চালিয়ে যেতে পারবেন।

বিভ্রান্তি ও কর্পোরেট সতর্কতা

শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছিলেন, এই ফি বার্ষিকভাবে নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তার ঘোষণার পর মাইক্রোসফট, জেপিমরগ্যান, অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানি তাদের এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের ইমেইল পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়। গোল্ডম্যান স্যাকস কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও ভারতের উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা এই ফি কার্যকর করবে। হোয়াইট হাউস বলছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো মার্কিন শ্রমিকদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা, যাদের জায়গা নিচ্ছেন তুলনামূলক কম বেতনের বিদেশি কর্মীরা।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, এই নতুন নিয়ম ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কারণ এসব কোম্পানি দক্ষ পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে থাকে।

বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউস একটি তথ্যে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি ছাড়া ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে।

তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে আইটি কর্মীদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারীর হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

কঠোর নজরদারির নির্দেশ

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রম বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে ভিসা যাচাই, আইন প্রয়োগ, অডিট ও জরিমানার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। এছাড়া শ্রম সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এইচ-১বি কর্মসূচির মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য এবং উচ্চ দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য।

ভিসাধারীদের মধ্যে উদ্বেগ

এই ঘোষণার পর থেকেই কর্পোরেট আমেরিকার হাজারো কর্মী দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ রেডনোটস-এ অনেক এইচ-১বি ভিসাধারী জানিয়েছেন, তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন—কেউ কেউ বিদেশে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই—ভয়ে যে হয়তো নতুন ১ লাখ ডলারের ফি দিতে হবে।