০৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
টাইপ–১ ডায়াবেটিস নিরাময়ে বড় অগ্রগতি: মানবদেহে পরীক্ষার সম্ভাবনা উন্মুক্ত মঙ্গলগ্রহে বিদ্যুৎ চমক শনাক্ত: নাসা রোভার প্রথমবার বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ধরেছে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের ঝোঁক যুক্তরাষ্ট্রের সোমালিয়ায় বিমান হামলা ব্যাপক বৃদ্ধি: আইএস ও আল-কায়েদা দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিযান হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কেন আগুন এত দ্রুত ছড়াল এবং কীভাবে তা রাজনীতিকে নাড়া দিচ্ছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিঘ্ন না ঘটাতে হাসপাতালমুখী ভিড় এড়ানোর আহ্বান নাটোর চিনিকল শ্রমিকদের রোববার থেকে ধর্মঘট পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক চালু হচ্ছে এই সপ্তাহে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, জানালেন বিএনপি নেতা খোকন রাশিয়ায় ভাড়াটে যোদ্ধা নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুমার মেয়ে দুদুজিলে

কেন যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদি আরবের উপর নিজের ‘মূল্যবোধ’ আরোপ করতে পারছে না

ওয়াশিংটন এখন আর পূর্ণ আধিপত্যের অবস্থান থেকে নয়, বরং আপেক্ষিক সুবিধার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে।


সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সাত বছর পর প্রথম ওয়াশিংটন সফর

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নভেম্বরে ওয়াশিংটন সফর ছিল সাত বছরের মধ্যে প্রথম হোয়াইট হাউস ভিজিট।
প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ লনে লাল গালিচা অভ্যর্থনার আয়োজন করেন। এরপর হয় একান্ত বৈঠক, বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র ভোজ।

সফর শেষে ওয়াশিংটন ঘোষণা করে যে সৌদি আরবকে প্রধান অ-ন্যাটো মিত্রের মর্যাদা দেওয়া হবে। একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যা রিয়াদকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও শত শত মার্কিন ট্যাংক কেনার পথ তৈরি করে দেয়। একইসঙ্গে অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সহজ করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো নির্মাণ—এসব নিয়ে এক সেট চুক্তি সম্পন্ন হয়।
সৌদি আরব পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক শ’ বিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়—প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এআই ও অবকাঠামোসহ নানা খাতে।

কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা

এই এজেন্ডা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত ছিল।
ক্যাপিটল হিলে ক্রাউন প্রিন্স হাউস স্পিকার, গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ার এবং উভয় দলের সিনেটরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার বিষয় ছিল উপসাগরীয় নিরাপত্তা, ইরান, গাজা এবং যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনে এআই ও জ্বালানি বিনিয়োগ ফোরাম ছিল বড় কেন্দ্রবিন্দু। কেনেডি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্রিন্স, ট্রাম্প, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান ও বিনিয়োগ তহবিলের নেতারা সৌদিতে বিশাল ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং নিভিডিয়া, এক্সএআই ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
পুরো সফরকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেন এটি কৌশলগত জোটের ‘নতুন অধ্যায়’—একদিকে মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজনৈতিক পুনর্বাসন, অন্যদিকে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বৈশ্বিক এআই অবকাঠামোর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা।


তিন বছর আগের অবিশ্বাস থেকে আজকের উষ্ণ সম্পর্ক

কিন্তু মাত্র তিন বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল বিপরীত।
জো বাইডেন মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘পারিয়া’ ঘোষণা করেছিলেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনায় ছিল, এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রি কার্যত স্থগিত হয়েছিল।

আজ সেই পরিবেশ বদলে গেছে।
ক্রাউন প্রিন্স সম্মানিত অতিথি হিসেবে ওভাল অফিসে প্রবেশ করেন। ট্রাম্প তাঁকে এমনভাবে রক্ষা করেন যে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি সাংবাদিককে ভর্ৎসনা করেন।

প্রটোকলের আড়ালে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব—সফরের কয়েকটি চুক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায়।

মার্কিন গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা

মার্কিন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—বিশেষত ডেমোক্র্যাটপন্থী মহলে।
উদারপন্থী গণমাধ্যমের মতে, এই হঠাৎ ‘পুনর্বাসন’ হলো মূল্যবোধের সঙ্গে আপসের স্পষ্ট উদাহরণ। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএনসহ প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলো বলছে—খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু উপেক্ষাই করা হয়নি, বরং প্রকাশ্যে এমন একজনকে রক্ষা করা হচ্ছে যাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা হত্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে।

সমালোচকদের মতে, এটি নৈতিকভাবে দেউলিয়া এক চুক্তি—সৌদি অর্থ ও ভূরাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং খাশোগি হত্যার স্মৃতি ‘মুছে ফেলার’ চেষ্টার প্রতিচ্ছবি।


‘মূল্যবোধ–নিরাপত্তা’ জোট থেকে বাস্তবনীতিতে ফেরা

থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ও মানবাধিকার মহলের মতে, এই মুহূর্তটি একটি মোড়–ফেরানো সময়।
নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের পুরনো ধারণা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র আবার কঠোর বাস্তবনীতিতে ফিরছে—যেখানে সামরিক ঘাঁটি, তেল, চিপ ও বিনিয়োগ একটি সাংবাদিক হত্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি–ইসরায়েল জোটের দুর্বলতা।
বাইডেন যেখানে প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি একই প্যাকেজে রেখেছিলেন, সেখানে এখন রিয়াদ প্রায় সব সুবিধা পাচ্ছে—ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াই।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বার্তা বিশ্বের সব স্বৈরতান্ত্রিক মিত্রদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ—যদি আপনার যথেষ্ট অর্থ ও ভূরাজনৈতিক ওজন থাকে, তবে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বড় বড় ঘোষণা সহজেই পাশ কাটানো যায়।


পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও নিরাপত্তা গ্যারান্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাল রেখা

সবকিছুর মাঝেও ওয়াশিংটনের দুটি স্পষ্ট সীমা রয়েছে—

সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার
সৌদির নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো–ধরনের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি

মার্কিন প্রশাসন বহু বছর ধরে সৌদির পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক জ্বালানি চক্র নিয়ে সন্দিহান। কারণ একই প্রযুক্তি অস্ত্র-মানের উপাদান উৎপাদনের পথ তৈরি করতে পারে।
রিয়াদ তার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের কথা উল্লেখ করে এই অধিকার ছাড়তে অনিচ্ছুক। ফলে বর্তমান খসড়া চুক্তিতে দেশীয় সমৃদ্ধকরণ বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আইনি নিরাপত্তা গ্যারান্টি নেই।

কাতারের উদাহরণ ও তুলনা

এই প্রেক্ষাপটে কাতারের সঙ্গে তুলনা প্রবল।
দোহা অনেক আগেই প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হয়েছে; অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রতিশ্রুতিও রয়েছে—কাতারের ওপর আক্রমণ মানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ।

সৌদি আরবও এরকম অবস্থান চায়—ব্যক্তিগত সমঝোতা হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি, সিনেট–অনুমোদিত নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে।
তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নেই।


কৌশলগত বিতর্ক: আনুষ্ঠানিক চুক্তি নাকি বহুমুখী ভারসাম্য?

নীতিনির্ধারণী মহলের বিতর্ক এখানেই—
যুক্তরাষ্ট্র কি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করলে সৌদিকে আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের শিবিরে বেঁধে ফেলতে পারবে? নাকি এতে রিয়াদের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

রিয়াদ ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নয়, বরং বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করছে—
ওপেক প্লাসে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, সিরিয়া বিষয়ক সংলাপ এবং চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি–ইরান সমঝোতা—সবই তার উদাহরণ।
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই বহুমুখীকরণকে আরও দৃঢ় করেছে।


বড় শক্তির প্রতিযোগিতায় সৌদির নতুন গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন সৌদির ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের সংকীর্ণ পরিসরে নয়; বরং বড় শক্তির প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে আরও কৌশলগত, বিশেষত চীনের বিপরীতে।
সৌদি এলিটদের কাছে এই অবস্থান সুবিধাজনক—যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় নিরাপত্তা অংশীদার, তবে একমাত্র নয়।

আবার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় রিয়াদ চাইলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিয়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের দিকেও সমানভাবে ঝুঁকতে পারে।


বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন: পশ্চিমা আধিপত্য শিথিল

এসব মিলিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন স্পষ্ট—পশ্চিমা আধিপত্য আগের মতো কার্যকর নয়।
ঠান্ডা যুদ্ধ–পরবর্তী আমলে যুক্তরাষ্ট্র ছিল একচ্ছত্র শক্তি। কিন্তু এখন বাস্তবতা বদলে গেছে—ওয়াশিংটন আজ আর চূড়ান্ত বিচারক নয়, বরং অন্যদের মতো এক প্রধান শক্তি, যাকে সমঝোতা ও দর–কষাকষিতে নামতে হচ্ছে।

সৌদির নতুন আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীন কৌশল

দশ–পনেরো বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, আঞ্চলিক নীতি ও ইসরায়েল–সম্পর্কিত কঠোর শর্ত আরোপ করলে রিয়াদ তা মানত।
এখন পরিস্থিতি উল্টো—
সৌদি আরব চায় মার্কিন অস্ত্র, এআই প্রযুক্তি ও পারমাণবিক জ্ঞান; কিন্তু ওয়াশিংটনের সব রাজনৈতিক প্রত্যাশা মানতে আগ্রহী নয়।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় দৃঢ়তা, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণে অনাগ্রহ, এবং বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো গড়ার প্রচেষ্টা—এসবই তার প্রমাণ।


মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে আস্থাহীনতা

মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টিকে ঘিরে আরব বিশ্বে অবিশ্বাস বাড়ছে।
গাজা ও অঞ্চলে ইসরায়েলের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়—সবাই দেখছে।
বহু মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এখন পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্ধ সমর্থনে আবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।

কাতারের ওপর সাম্প্রতিক চাপও সেই ধারণাকে জোরদার করেছে—যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা ছত্রছায়া ভোগ করে।


স্বাধীন শক্তি হিসেবে সৌদি আরবের উত্থান

এই প্রেক্ষাপটে সৌদির ভারসাম্যমূলক কৌশল শুধু বাস্তবসম্মত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগতভাবে লাভজনক।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে রিয়াদ ধীরে ধীরে নির্ভরশীল মিত্র থেকে একটি স্বতন্ত্র শক্তিকেন্দ্রে রূপ নিচ্ছে।

পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ—পুরনো প্রভাব বিস্তারের মডেল আর কার্যকর নয়।
অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ঘাঁটি ও নৈতিক নেতৃত্বের দাবি আগের মতো কাজ করছে না।
ওয়াশিংটনকে এখন আপেক্ষিক সুবিধার জায়গা থেকে আলোচনায় বসতে হচ্ছে।

বহুকেন্দ্রীক বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির অবস্থান

সৌদি আরব চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের চুক্তি করবে, আবার মস্কো–বেইজিংয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কও বজায় রাখবে।
এশীয় ও মুসলিম অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে এবং নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনে উদ্যোগী হবে।

এই কৌশল সৌদি আরবকে শুধু প্রভাবশালী মিত্র নয়, বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ নীতি–নির্ধারণী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনো আছে, কিন্তু আর আগের মতো একচ্ছত্র নয়—বরং একটি বহুকেন্দ্রীক বিশ্বে সমান শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান।


জনপ্রিয় সংবাদ

টাইপ–১ ডায়াবেটিস নিরাময়ে বড় অগ্রগতি: মানবদেহে পরীক্ষার সম্ভাবনা উন্মুক্ত

কেন যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদি আরবের উপর নিজের ‘মূল্যবোধ’ আরোপ করতে পারছে না

০৪:০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ওয়াশিংটন এখন আর পূর্ণ আধিপত্যের অবস্থান থেকে নয়, বরং আপেক্ষিক সুবিধার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে।


সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সাত বছর পর প্রথম ওয়াশিংটন সফর

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নভেম্বরে ওয়াশিংটন সফর ছিল সাত বছরের মধ্যে প্রথম হোয়াইট হাউস ভিজিট।
প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ লনে লাল গালিচা অভ্যর্থনার আয়োজন করেন। এরপর হয় একান্ত বৈঠক, বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র ভোজ।

সফর শেষে ওয়াশিংটন ঘোষণা করে যে সৌদি আরবকে প্রধান অ-ন্যাটো মিত্রের মর্যাদা দেওয়া হবে। একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যা রিয়াদকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও শত শত মার্কিন ট্যাংক কেনার পথ তৈরি করে দেয়। একইসঙ্গে অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সহজ করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো নির্মাণ—এসব নিয়ে এক সেট চুক্তি সম্পন্ন হয়।
সৌদি আরব পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক শ’ বিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়—প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এআই ও অবকাঠামোসহ নানা খাতে।

কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা

এই এজেন্ডা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত ছিল।
ক্যাপিটল হিলে ক্রাউন প্রিন্স হাউস স্পিকার, গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ার এবং উভয় দলের সিনেটরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার বিষয় ছিল উপসাগরীয় নিরাপত্তা, ইরান, গাজা এবং যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো।

এ ছাড়া ওয়াশিংটনে এআই ও জ্বালানি বিনিয়োগ ফোরাম ছিল বড় কেন্দ্রবিন্দু। কেনেডি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্রিন্স, ট্রাম্প, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান ও বিনিয়োগ তহবিলের নেতারা সৌদিতে বিশাল ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং নিভিডিয়া, এক্সএআই ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
পুরো সফরকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যেন এটি কৌশলগত জোটের ‘নতুন অধ্যায়’—একদিকে মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজনৈতিক পুনর্বাসন, অন্যদিকে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বৈশ্বিক এআই অবকাঠামোর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা।


তিন বছর আগের অবিশ্বাস থেকে আজকের উষ্ণ সম্পর্ক

কিন্তু মাত্র তিন বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল বিপরীত।
জো বাইডেন মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘পারিয়া’ ঘোষণা করেছিলেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনায় ছিল, এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রি কার্যত স্থগিত হয়েছিল।

আজ সেই পরিবেশ বদলে গেছে।
ক্রাউন প্রিন্স সম্মানিত অতিথি হিসেবে ওভাল অফিসে প্রবেশ করেন। ট্রাম্প তাঁকে এমনভাবে রক্ষা করেন যে জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি সাংবাদিককে ভর্ৎসনা করেন।

প্রটোকলের আড়ালে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব—সফরের কয়েকটি চুক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায়।

মার্কিন গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা

মার্কিন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—বিশেষত ডেমোক্র্যাটপন্থী মহলে।
উদারপন্থী গণমাধ্যমের মতে, এই হঠাৎ ‘পুনর্বাসন’ হলো মূল্যবোধের সঙ্গে আপসের স্পষ্ট উদাহরণ। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএনসহ প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলো বলছে—খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু উপেক্ষাই করা হয়নি, বরং প্রকাশ্যে এমন একজনকে রক্ষা করা হচ্ছে যাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা হত্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে।

সমালোচকদের মতে, এটি নৈতিকভাবে দেউলিয়া এক চুক্তি—সৌদি অর্থ ও ভূরাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং খাশোগি হত্যার স্মৃতি ‘মুছে ফেলার’ চেষ্টার প্রতিচ্ছবি।


‘মূল্যবোধ–নিরাপত্তা’ জোট থেকে বাস্তবনীতিতে ফেরা

থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ও মানবাধিকার মহলের মতে, এই মুহূর্তটি একটি মোড়–ফেরানো সময়।
নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের পুরনো ধারণা থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র আবার কঠোর বাস্তবনীতিতে ফিরছে—যেখানে সামরিক ঘাঁটি, তেল, চিপ ও বিনিয়োগ একটি সাংবাদিক হত্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি–ইসরায়েল জোটের দুর্বলতা।
বাইডেন যেখানে প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি একই প্যাকেজে রেখেছিলেন, সেখানে এখন রিয়াদ প্রায় সব সুবিধা পাচ্ছে—ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াই।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বার্তা বিশ্বের সব স্বৈরতান্ত্রিক মিত্রদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ—যদি আপনার যথেষ্ট অর্থ ও ভূরাজনৈতিক ওজন থাকে, তবে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বড় বড় ঘোষণা সহজেই পাশ কাটানো যায়।


পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও নিরাপত্তা গ্যারান্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাল রেখা

সবকিছুর মাঝেও ওয়াশিংটনের দুটি স্পষ্ট সীমা রয়েছে—

সৌদি আরবের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার
সৌদির নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো–ধরনের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি

মার্কিন প্রশাসন বহু বছর ধরে সৌদির পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক জ্বালানি চক্র নিয়ে সন্দিহান। কারণ একই প্রযুক্তি অস্ত্র-মানের উপাদান উৎপাদনের পথ তৈরি করতে পারে।
রিয়াদ তার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের কথা উল্লেখ করে এই অধিকার ছাড়তে অনিচ্ছুক। ফলে বর্তমান খসড়া চুক্তিতে দেশীয় সমৃদ্ধকরণ বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আইনি নিরাপত্তা গ্যারান্টি নেই।

কাতারের উদাহরণ ও তুলনা

এই প্রেক্ষাপটে কাতারের সঙ্গে তুলনা প্রবল।
দোহা অনেক আগেই প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র হয়েছে; অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি সেখানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রতিশ্রুতিও রয়েছে—কাতারের ওপর আক্রমণ মানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ।

সৌদি আরবও এরকম অবস্থান চায়—ব্যক্তিগত সমঝোতা হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি, সিনেট–অনুমোদিত নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে।
তবে হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নেই।


কৌশলগত বিতর্ক: আনুষ্ঠানিক চুক্তি নাকি বহুমুখী ভারসাম্য?

নীতিনির্ধারণী মহলের বিতর্ক এখানেই—
যুক্তরাষ্ট্র কি আনুষ্ঠানিক চুক্তি করলে সৌদিকে আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের শিবিরে বেঁধে ফেলতে পারবে? নাকি এতে রিয়াদের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

রিয়াদ ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নয়, বরং বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করছে—
ওপেক প্লাসে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, সিরিয়া বিষয়ক সংলাপ এবং চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি–ইরান সমঝোতা—সবই তার উদাহরণ।
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই বহুমুখীকরণকে আরও দৃঢ় করেছে।


বড় শক্তির প্রতিযোগিতায় সৌদির নতুন গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন সৌদির ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের সংকীর্ণ পরিসরে নয়; বরং বড় শক্তির প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে আরও কৌশলগত, বিশেষত চীনের বিপরীতে।
সৌদি এলিটদের কাছে এই অবস্থান সুবিধাজনক—যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় নিরাপত্তা অংশীদার, তবে একমাত্র নয়।

আবার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় রিয়াদ চাইলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিয়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের দিকেও সমানভাবে ঝুঁকতে পারে।


বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন: পশ্চিমা আধিপত্য শিথিল

এসব মিলিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন স্পষ্ট—পশ্চিমা আধিপত্য আগের মতো কার্যকর নয়।
ঠান্ডা যুদ্ধ–পরবর্তী আমলে যুক্তরাষ্ট্র ছিল একচ্ছত্র শক্তি। কিন্তু এখন বাস্তবতা বদলে গেছে—ওয়াশিংটন আজ আর চূড়ান্ত বিচারক নয়, বরং অন্যদের মতো এক প্রধান শক্তি, যাকে সমঝোতা ও দর–কষাকষিতে নামতে হচ্ছে।

সৌদির নতুন আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীন কৌশল

দশ–পনেরো বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার, আঞ্চলিক নীতি ও ইসরায়েল–সম্পর্কিত কঠোর শর্ত আরোপ করলে রিয়াদ তা মানত।
এখন পরিস্থিতি উল্টো—
সৌদি আরব চায় মার্কিন অস্ত্র, এআই প্রযুক্তি ও পারমাণবিক জ্ঞান; কিন্তু ওয়াশিংটনের সব রাজনৈতিক প্রত্যাশা মানতে আগ্রহী নয়।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় দৃঢ়তা, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণে অনাগ্রহ, এবং বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো গড়ার প্রচেষ্টা—এসবই তার প্রমাণ।


মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে আস্থাহীনতা

মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টিকে ঘিরে আরব বিশ্বে অবিশ্বাস বাড়ছে।
গাজা ও অঞ্চলে ইসরায়েলের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়—সবাই দেখছে।
বহু মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এখন পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্ধ সমর্থনে আবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।

কাতারের ওপর সাম্প্রতিক চাপও সেই ধারণাকে জোরদার করেছে—যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা ছত্রছায়া ভোগ করে।


স্বাধীন শক্তি হিসেবে সৌদি আরবের উত্থান

এই প্রেক্ষাপটে সৌদির ভারসাম্যমূলক কৌশল শুধু বাস্তবসম্মত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগতভাবে লাভজনক।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে রিয়াদ ধীরে ধীরে নির্ভরশীল মিত্র থেকে একটি স্বতন্ত্র শক্তিকেন্দ্রে রূপ নিচ্ছে।

পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ—পুরনো প্রভাব বিস্তারের মডেল আর কার্যকর নয়।
অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ঘাঁটি ও নৈতিক নেতৃত্বের দাবি আগের মতো কাজ করছে না।
ওয়াশিংটনকে এখন আপেক্ষিক সুবিধার জায়গা থেকে আলোচনায় বসতে হচ্ছে।

বহুকেন্দ্রীক বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির অবস্থান

সৌদি আরব চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের চুক্তি করবে, আবার মস্কো–বেইজিংয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্কও বজায় রাখবে।
এশীয় ও মুসলিম অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে এবং নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনে উদ্যোগী হবে।

এই কৌশল সৌদি আরবকে শুধু প্রভাবশালী মিত্র নয়, বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ নীতি–নির্ধারণী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনো আছে, কিন্তু আর আগের মতো একচ্ছত্র নয়—বরং একটি বহুকেন্দ্রীক বিশ্বে সমান শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান।