গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হান নদীর তীরবর্তী ছয়টি উন্মুক্ত সুইমিং পুল ও জলক্রীড়া কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য এটি গরমের মৌসুমে অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিউলজুড়ে হান নদীঘেঁষা বিভিন্ন পার্কে থাকা এসব জলবিনোদন কেন্দ্র প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আকর্ষণ করে। এবারও পরিবার, শিশু-কিশোর এবং পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে।
বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর এসব সুইমিং পুল ও জলক্রীড়া কেন্দ্রে পাঁচ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ ভ্রমণ করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাশ্রয়ী খরচে খোলা আকাশের নিচে বিনোদনের সুযোগ থাকায় এসব স্থানের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্র খোলা থাকবে। তবে কিছু নির্বাচিত স্থানে জুলাইয়ের শুরু থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় চালু রাখা হবে, যাতে কর্মজীবী মানুষও সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে উপভোগ করতে পারেন।
নিরাপত্তা ও বিশেষ আয়োজন
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন স্থানে শতাধিক নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার জন্য ইংরেজি ভাষায় তথ্যফলকও বাড়ানো হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেখানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে।
গ্রীষ্মজুড়ে আয়োজন করা হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। সংগীত পরিবেশনা, অর্কেস্ট্রা কনসার্ট এবং পানিনির্ভর বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে।
শিশু ও পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা
হান নদীর তীরবর্তী এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য আলাদা ধরনের পুল রয়েছে। কোথাও রয়েছে পরিবারকেন্দ্রিক সুইমিং জোন, কোথাও আবার ঝরনা, প্রকৃতিনির্ভর জলখেলার স্থান এবং আরামদায়ক ভাসমান পানিপথের ব্যবস্থা।
এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একটি সামাজিক কর্মসূচির আওতায় কয়েকশ শিশু ও কিশোরকে বিনামূল্যে সাঁতার এবং খাবারের সুযোগ দেওয়া হবে।
সাশ্রয়ী প্রবেশমূল্য
সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে প্রবেশমূল্য তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা, আর প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষ ছাড় পাবেন।
শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, গরমের পুরো মৌসুমে এসব সুইমিং পুল ও জলক্রীড়া কেন্দ্র নগরবাসীর জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও স্বস্তিদায়ক অবকাশের জায়গা হয়ে উঠবে।
সিউলের হান নদীর তীরে ছয়টি সুইমিং পুল ও জলক্রীড়া কেন্দ্র চালু। নিরাপত্তা, বিনোদন ও পরিবারবান্ধব সুবিধায় জমবে গ্রীষ্মকাল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















